Home » আন্তর্জাতিক » অভিনয়শিল্পী হতে চান শিমু তারকা নন

অভিনয়শিল্পী হতে চান শিমু তারকা নন

 

‘মেড ইন বাংলাদেশে’র প্রধান অভিনয়শিল্পী রিকিতা নন্দিনী শিমুর দিনগুলো কাটছে সুন্দর স্বপ্নের মতোই। ৬ অক্টোবর প্রথমবারের মতো পা রাখলেন ইউরোপে, ইংল্যান্ডের লন্ডনে। ৬৩তম বিএফআই (ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট) লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবির প্রদর্শনীতে অংশ নিতে। ১৩ তারিখ সকালে ফিরলেন দেশে। সন্ধ্যায় পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন ফোন করে জানালেন, ফ্রান্সে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত চলচ্চিত্র উৎসব ‘সা জ দ্যু লুস’ থেকে তিনি পেয়েছেন ‘ওমেন’স ইন্টারপ্রিটেশন অ্যাওয়ার্ড’। সহজ কথায়, উৎসবের সেরা নারী অভিনয়শিল্পী হয়েছেন তিনি।

রিকিতা নন্দিনীর ডাকনাম শিমু। আর ছবিতে এই শিমুর শ্রমিকনেতা চরিত্রের নামও শিমু। পুরস্কার পাওয়ায় এই ছবির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন শিমুকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। আর সেখানে এই ছবির ফরাসি প্রযোজক মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘অভিনন্দন শিমু, চমৎকার “শিমু” হবার জন্য।’

রিকিতার এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া নিয়ে পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে শিমুকে তৈরি করেছি। ওকে ওর বাসা থেকে নিয়ে আলাদা বাসায় রেখেছি। দীর্ঘদিন ও চরিত্রের পোশাক পরে থেকেছে। দীর্ঘদিন মহড়া চলেছে। সারা দিন মহড়া করে রাতে আমরা সেই ভিডিও নিয়ে বসেছি। আলাপ করেছি। ভুল শুধরেছি। এই চরিত্রের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে ও। আমি যা যা চেয়েছি, শিমু শিমু হয়ে ওঠার জন্য তার সবই করেছে।’

পরিচালক আরও জানান, রিকিতা নন্দিনীর অভিনয়শিল্পী সত্তার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সুন্দর, গ্ল্যামারাস তারকা হওয়ার জন্য তাঁর কোনো মোহ নেই। সে কেবলই ভালো অভিনয়শিল্পী হতে চায়। আর এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই পরিচালকের কাছে।

ব্যক্তিগতভাবে এটাই শিমুর প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার। যদিও এর আগে তাঁর অভিনীত ‘রানওয়ে’, ‘মাটির প্রজার দেশে’, ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ প্রতিটি ছবিই একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। ফ্রান্সে শিমুর হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও পর্তুগালের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘মেড ইন বাংলাদেশে’র ফরাসি প্রযোজক ফ্রাঁসোয়া দ্য’আক্তেমেয়ার। এই উৎসবে আটটি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।


প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো পুরস্কার পেয়েছেন শুনে যারপরনাই খুশি রিকিতা। ফরাসি প্রযোজক যখন পুরস্কারপ্রাপ্তির কথা লিখে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তখনো নাকি তাঁর বিশ্বাস হয়নি। এরপর পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন, আর বলেছেন, এটা একেবারেই তাঁর নিজস্ব অর্জন।

এই প্রাপ্তিতে রিকিতা আনন্দিত। তবে কবে নাগাদ, কীভবে এই পুরস্কার তাঁর হাতে এসে পৌঁছাবে, তা জানেন না। সেটা নিয়ে কোন মাথাব্যথাও নেই। কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন, পরিচালককে খুশি করতে পেরেছেন, এতেই দারুণ খুশি তিনি।

২ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। এ বছর এখানে বিভিন্ন শাখায় ৫০টি দেশের ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। ১৯৫৩ সাল থেকে এই উৎসব পালিত হয়। ৭ ও ৮ অক্টোবর ছিল ‘মেড ইন বাংলাদেশে’র প্রদর্শনী। রিকিতা ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখেন ৬ অক্টোবর। সেখানেই প্রথমবারের মতো নিজের অভিনীত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ দেখেন। বিশ্বের নানা দেশের দর্শকদের সঙ্গে। ইংরেজি ভাষার সাবটাইটেল ছিল।

ডালিয়াকে জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিল তার পরিবার। তাই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ১২ বছর বয়সী মেয়েটা। তারপর কত যুদ্ধ! কিছুদিন এক বাড়িতে কাজ করার পর এই গার্মেন্টস, সেই গার্মেন্টস ঘুরে ঘুরে অবশেষে সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে একজন শ্রমিকনেতা হিসেবে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ এই ডালিয়ার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। সত্যিকারের ডালিয়ার থেকেই ‘শিমু’ চরিত্রটি নির্মিত।

রিকিতার পর্যবেক্ষণ বলে, সাবটাইটেল ছাড়াই দর্শকদের কাছে এই ছবি পৌঁছাতে পেরেছে। উচ্ছ্বসিত রিকিতা বলেন, ‘প্রথম দিনের টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেল। আর পরদিনের শোয়ের টিকিট আরও তাড়াতাড়ি বিক্রি হয়ে গেল। হলভর্তি কত দেশের দর্শক, সবাই এই ছবির চরিত্রদের সঙ্গে নিজেদের “কানেক্ট” করতে পেরেছেন। ওখানকার দর্শকেরা তো একটু অনুভূতির প্রকাশে একটু “সাইলেন্ট”। আমাদের মতো শোরগোল করে না। কিন্তু এই ছবি নিয়ে সবাই বেশ হুল্লোড় করেছে। কান্নার দৃশ্যে কেঁদেছে, হাসির দৃশ্যে হেসেছে। ছবি শেষে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছে। জানিয়েছে, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ছবি। আর বলেছে, এ রকম একটা ছবি বানানো খুবই জরুরি ছিল।’

প্রদর্শনী শেষে রিকিতা নন্দিনী প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেছে। সঙ্গে ছিল এই ছবির আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনয়শিল্পী মিতা রহমান ও পরিচালক। রিকিতা যেভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, তাতে পাশে দাঁড়ানো পরিচালকের মনে হয়েছে, তিনি একজন গর্বিত মা। পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন সেই রাতটাকে বলেছেন, ‘আ পারফেক্ট নাইট’।

প্রদর্শনী শেষ করে রিকিতা নন্দিনী পরবর্তী দুই দিন ঘুরে ঘুরে দেখেছেন লন্ডন শহর। বাদ যায়নি ব্রিটিশ মিউজিয়ামও। এর মধ্যেই রিকিতা ভারতের কলকাতার পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তের তৃতীয় ছবিতে অভিনয় করে এসেছেন। ছবির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কলকাতার এই পরিচালকের প্রথম দুটো ছবি ‘আসা যাওয়ার মাঝে’ আর ‘জোনাকি’। দুটোই বোদ্ধামহলে দারুণ আলোচিত আর প্রশংসিত ছবি। পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন গতকাল রাতে জানালেন, সম্প্রতি কলকাতার আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। জানিয়েছেন, তিনি রিকিতাকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।

২০২০ সালে বাংলাদেশের দর্শক দেখতে পারবেন ‘মেড ইন বাংলাদেশ’।

নিউটার্ন.কম/AR

20 Shares