Home » জাতীয় » অযত্নে অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে কবি গোলাম মোস্তফার স্মৃতি
অযত্নে অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে কবি গোলাম মোস্তফার স্মৃতি

অযত্নে অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে কবি গোলাম মোস্তফার স্মৃতি

আব্দুল হাই, ঝিনাইদহঃ

‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে’ বিখ্যাত এই কবিতার শ্রষ্ঠা মুসলিম রেনেসাঁর কবি গোলাম মোস্তফার স্মৃতি অযতœ-অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের তার পৈত্রিক ভিটাবাড়ী রক্ষায় সরকারী বা বেসরকারী কোন উদ্যোগ নেই। ১৮৯৭ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা কাজী গোলাম রব্বানী, মাতা বিবি শরীফুন্নেছা। ঝিনাইদহ জেলা সদর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে শৈলকুপা উপজেলা, এই উপজেলা থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে কুমার নদের তীরে মনোহরপুর গ্রাম। সেখানেই কবির ভিটাবাড়ী। অযতœ-অবহেলায় আজও মাথা উঁচু করে ভিটেবাড়ীটি অবরুদ্ধ কন্ঠে জানান দিচ্ছে কবির অবদানের কথা। জানান দিয়ে যাচ্ছে তার গদ্য সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ অবদান ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থের কথা।

আরও পড়ুনঃ ঝিনাইদহে ফুল ব্যবসায়ী জমির উদ্দীনের ফুলময় জীবন
সারওয়ার সভাপতি লিটন সম্পাদক; বাপুস কাউনিয়া উপজেলা শাখার কমিটি গঠন

১৯১৪ সালে শৈলকুপা হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯১৬ সালে খুলন দৌলতপুর কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন কবি গোলাম মোস্তফা। কোলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯১৮ সালের বিএ পাশ করার পর ভারতের ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর সরকারী হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসাবে ১৯২০ সালে তিনি কর্ম জীবন শুরু করেন। পরে ডেভিট হেয়ার ট্রেনিং কলেজ থেকে বিটি পাশ করে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়ে ফরিদপুর জেলা স্কুলে ১৯৪৬ সালে যোগদান করেন এবং ১৯৫০ সালে সরকারী চাকুরী হতে অবসর গ্রহন করেন কবি।

গীত রচনা, কাব্য, উপন্যাস, জীবনি অনুবাদ সহ বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় তার পদচারণা ছিল। ১৯১৩ সালে দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকাবস্থায় ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় তার প্রথম লেখা ‘আদ্রিয়ানোপল উদ্ধার’ কবিতা প্রকাশিত হয়। কবি গোলাম মোস্তফা ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ হিসাবে বাংলা সাহিত্যে বিশিষ্টতার দাবিদার। তার কাব্যে মুসলিম জাতীয়তাবদী চেতনার প্রকাশ পায়। সহজ সাবলিল শিল্পসম্মত প্রকাশ ও ছন্দ লালিত্যে ভরপুর তার কাব্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কবি গোলাম মোস্তফার অন্যতম গদ্য সাহিত্য ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থখানি শ্রেষ্ঠ অবদান। ১৯৪৭ সালের প্রকাশিত হয় ইসলাম ও জ্বেহাদ, ইসলাম ও কম্যনিজম গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে। এছাড়া ১৯৪২ সালে ‘মরু দুলাল’ এবং ‘বিশ্বনবী’ ও এসময় প্রকাশিত হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি নাটক ও বই রয়েছে তার রচিত।

মনোহরপুর গ্রামে কবির পিতৃ ভিটাবাড়িটি রক্ষায় সরকারী কিংবা বেসরকারী ভাবে কেই এগিয়ে আসেনি। কবির স্মৃতি এ ভিটাবাড়িটি জোট সরকারে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরী একবার আসলেও আর কেউ আসেনি। তিনি কবি গোলাম মোস্তফার স্মৃতি রক্ষার্থে কিছু করবেন এই প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গ্রামের যুব সমাজ কবি গোলাম মোস্তফা স্মৃতিপাঠাগার ও সাংস্কৃতি সংঘ নামে সেখানে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেখানে একটি লাইব্রেরী করা হয়েছে। প্রতি বছর করিব জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কিছু অুনষ্ঠান হয়ে থাকে।

 

0 Shares