Home » জাতীয় » অর্ধলক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে

অর্ধলক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে এক পরিবারের কাছ থেকে তিন দফায় অর্ধলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের এক প্রবীণ আইনজীবীর বিরুদ্ধে। বুধবার প্রতারণার শিকার হওয়া ওই পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও জেলা আইনজীবী সমিতি বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয় আইনজীবী আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় সদর উপজেলার ধারারগাও এলাকার মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের পরিবার নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে আসলেও হঠাৎ করেই পর পর ২মাস তাদের এই ভাতা পাওয়া বন্ধ ছিলো, এসময় সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কাশেমের সঙ্গে পরামর্শ করতে যান মুক্তিযোদ্ধার পরিবার জাহেদা বেগম। ঐ সময় মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাইয়ে দেয়ার নামে প্রথম দফায় ১৫ হাজার টাকা নেন ওই আইনজীবী। এরপর কোন সুরাহা না হওয়ায় আবারও ১৫ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম। কথা অনুযায়ি ২য় দফায় আরও ১৫ হাজার টাকা আইনজীবীর হাতে তুলে দেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জাহেদা। ২বার টাকা দিয়েও পরবর্তি মাসের ভাতা না পাওয়ায় ওই আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করেন জাহেদা। এসময় আরও ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিয়মিত করতে ধার দেনা করে আরও ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে আইনজীবী আবুল কাশেমের হাতে তুলে দেয়ার পরেও কোন লাভ হয়নি বলে জানান মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জাহেদা। তিনি বলেন, উকিল সাহেব তিনবার টাকা নেয়ার পর জানালেন তিনি ভাতা পাইয়ে দিতে পারবেন না, তারপরে আমরা টাকা ফেরত চাইলাম , তিনি টাকাও ফেরত দেননি, এখনও দিচ্ছেন না, বার বার উনার বাসায় গেলাম, একদিন খারাপ আচরণ করে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিলেন, আমার মেয়ের গায়ে হাত তুললেন, এখন আমরা ডিসি স্যারের কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ করেছি। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আটকে যাওয়া প্রসঙ্গে জাহেদা জানান, জাহেদার সৎ ছেলে মুক্তিযোদ্ধা অফিসে জানিয়েছে তিনি মারা গেছেন, এজন্যে ভুল বশত পর পর ২মাস মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের পরিবার এই ভাতা পায়নি, তবে আইনজীবীর মাধ্যমে সুরাহা না হওয়ায় জাহেদা নিজে মুক্তিযোদ্ধা অফিসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত হন, এসময় তিনি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের সহযোগিতায় এই ভাতা নিয়মিত করার ব্যবস্থা করেন বলেও জানান। তিনি বলেন, আমি গরিব মানুষ, ভাতা বন্ধ থাকায় অভাবের মাঝেও মানুষের কাছ থেকে ধার দেনা করে উকিল সাহেবকে টাকা এনে দিয়েছিলাম, এখন এই টাকা তিনি দিচ্ছেন দিবেন বলে আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করছেন, আমরা এর বিচার দাবি করি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী আবুল কাশেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই অভিযোগ মিথ্যা, আমি উল্টো এই পরিবারকে টাকা পয়সা দিয়ে চালাচ্ছি, তাদের যখনই টাকা দরকার হয় ২০ হাজার ৩০ হাজার টাকা আমি তাদেরকে দেই, শুনলাম এরা আইনজীবী সমিতিতেও লিখিত অভিযোগ করেছে, এরা মিথ্যা অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছ থেকে অর্ধলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টির ব্যাপারে আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি, ঘটনা সঠিক হলে অবশ্যই আইন অনুযায়ি যথাযথ ব্যাবস্থা আমরা গ্রহণের কাজ শুরু করবো।r

0 Shares