Home » আন্তর্জাতিক » আবু বকর আল-বাগদাদিনিহত -বলছে মার্কিন গণমাধ্যম!
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বলছে, ইসলামিক স্টেটের পলাতক নেতা আবু বকর আল-বাগদাদীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, তবে হোয়াইট হাউজ এখনো কিছু জানায়নি।

আবু বকর আল-বাগদাদিনিহত -বলছে মার্কিন গণমাধ্যম!

 

মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, কথিত ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠির পলাতক নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর একটি অভিযানে নিহত হয়েছেন। তবে এখনো মার্কিন সরকারের তরফ থেকে এই অভিযানের ব্যাপারে নিশ্চিত করা হয়নি।
নিরপেক্ষ কোন সূত্রেও এই মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হোয়াইট হাউজ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার আরো কিছুক্ষণ পরে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিবৃতি দেবেন, কিন্তু এর বাইরে আর কিছু জানায়নি।

এর আগে রহস্যপূর্ণ একটি টুইট শেয়ার করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘খুব বড় একটা কিছু এইমাত্র ঘটেছে’।

সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনীর কমান্ডার টুইট করে বলেছেন, আমেরিকানদের সঙ্গে মিলে যৌথভাবে তারা একটি ‘ঐতিহাসিক’ অভিযান পরিচালনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর পূর্ব সিরিয়ায় আইএস নেতার খোঁজে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। অভিযানটির অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, একটি অভিযান চালানো হয়েছে, তবে তাতে বাগদাদি নিহত হয়েছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে নিউজউইক লিখেছে, ‘নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের’ ভিত্তিতে বিশেষ বাহিনী এই অভিযানটি পরিচালনা করেছে।

এর আগে বেশ কয়েকটি ঘটনায় ভুলভাবে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, আইএস নেতা নিহত হয়েছেন।

তবে অভিযান চালানো হয়েছে কিনা, তাতে কি ফলাফল পাওয়া গেছে, এর কোন তথ্যই নিশ্চিত করেনি হোয়াইট হাউজ।

তবে এসব খবরের পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক গ্রুপ সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সিরিয়ার ইডলিব প্রদেশে হেলিকপ্টারের গুলিতে একটি গ্রামে নয়জন বাসিন্দা নিহত হয়েছে, যেখানে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের উপস্থিতি রয়েছে।

আইএস নেতা আল-বাগদাদী বিশ্বের কোথায় লুকিয়ে আছেন তা স্পষ্ট নয়
আবু বকর আল-বাগদাদি কে?

আবু বকর আল বাগদাদীর আসল পরিচয় কী তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। আল বাগদাদী তার আসল নাম নয় বলে মনে করা হয়।

নাম আবু বকর আল-বাগদাদি – তবে তার আসল নাম ইব্রাহিম আওয়াদ আল-বদরি। ধারণা করা হয়, ১৯৭১ সালে ইরাকের সামারার কাছে একটি সুন্নি পরিবারে তার জন্ম।

অল্প বয়সে গভীরভাবে ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর কোরানিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০০৪ সালে ইঙ্গ-মার্কিন আক্রমণের শিকার হয়ে ক্যাম্প বুকাতে বন্দী হন তিনি। সেখানে তিনি প্রাক্তন ইরাকী গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ অন্য বন্দীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

২০০৩ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক অভিযান চলে, তখন আল বাগদাদি বাগদাদের কোন একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন বলে দাবি করা হয় কোন কোন রিপোর্টে।

অনেকের বিশ্বাস, সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলেই আল বাগদাদি জঙ্গি জিহাদীতে পরিণত হয়েছিলেন। তবে অন্য অনেকের ধারণা, যখন তাকে দক্ষিণ ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক ক্যাম্পে চার বছর আটকে রাখা হয়েছিল তখনই আসলে আল বাগদাদি জঙ্গিবাদে দীক্ষা নেন। এই ক্যাম্পে অনেক আল কায়েদা কমান্ডারকে বন্দী রাখা হয়েছিল।

আল বাগদাদি পরে ইরাকে আল কায়েদার নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। পরে অবশ্য ইরাকের আল কায়েদা নিজেদেরকে ২০১০ সালে ‘ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড লেভান্ট’ বলে ঘোষণা করে।

২০১১ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র আল বাগদাদীকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করে। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।(সূএ বিবিসি বাংলা)

নিউটার্ন.কম/RJ

22 Shares