Home » আইন-আদালত » ইউএনও’র ওপর হামলা, মালি রবিউল ইসলাম ৬ দিনের রিমান্ডে

ইউএনও’র ওপর হামলা, মালি রবিউল ইসলাম ৬ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউটার্ন.কম : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ এর ওপর হামলা ঘটনায় শনিবার রবিউল ইসলাম ও নাদিম হোসেন পলাশ নামে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শনিবার বিকেলে রবিউল ইসলাম নামে এক আসামিকে ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম (৩০) দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধামাহার ভীমপুর গ্রামের খতিবউদ্দীনের ছেলে এবং ঘোড়াঘাট ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত একজন কর্মচারী। ঘোড়াঘাট উপজেলায় মালি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত জানুয়ারি মাসে তাকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে টাকা চুরির অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

অপর আসামি নাদিম হোসেন নয়ন (২৬) দিনাজপুর সদর উপজেলার পরজপুর গ্রামের সুলতান মাহমুদের ছেলে এবং ঘোড়াঘাট ইউএনওর বাসভবনের নৈশ্য প্রহরী।

শনিবার বিকেল ৫টায় তাদের দুজনকেই দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় রবিউল ইসলামের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর। বিচারক শুনানি শেষে তাকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে নৈশ্যপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশের রিমান্ড আবেদন না করায় তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর জানান, এই মামলায় রবিউল ইসলাম নাদিম হোসেন পলাশকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত রবিউল ইসলামের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করায় তাকে শনিবারই রিমান্ডে নেয়া হয়। অপর আসামি নাদিম হোসেনের রিমান্ড আবেদন করা হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় শনিবার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। আদালতে হাজির করার সময় আসাদুলকে বেশ হাস্যজ্জ্বল ও উচ্ছ্বাসিত দেখাচ্ছিলো। আদালতে আসাদুলের কোন জবানবন্দি নেয়া হয়নি। এছাড়াও নতুন করে কোন রিমান্ড আবেদন করা হয়নি ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে। ফলে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন।

এর আগে গত শুক্রবার ৭ দিনের রিমান্ড শেষে এই মামলার আসামি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে আদালতে সোপর্দ করে ডিবি পুলিশ এবং আদালত তাদের দুজনকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে এ বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের রংপুর ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘ঘোড়াঘাটে ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সম্প্রতি রবিউল ইসলাম নামে একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে তার বক্তব্য প্রদান করেছে। তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা বেশ কিছু আলামতও উদ্ধার করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে, সেটির সাথে আমরা মিলিয়ে দেখছি। আজকে (শনিবার) আমরা তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করবো এবং রিমান্ড চাইবো। রিমান্ডে নিয়ে এসে আমরা তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবো এবং ঘটনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করবো। যেহেতু বিষয়টি এখনও চলমান রয়েছে, আমি মনে করি যে, এই পর্যন্তই আমার বক্তব্য পরবর্তীতে তদন্ত সমাপ্ত করলে, আমরা বিস্তারিত জানাতে পারবো।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি তদন্ত চলছে, তাই তদন্তাধীন বিষয়ে এর চেয়ে এখন বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না, তদন্ত শেষ হলেই আমরা সবকিছু জানাবো। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে রবিউল কি কারণে হামলা করেছিলো-সে বিষয়ে কিছু বলেননি ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য। তবে প্রেসব্রিফিং-এ বিভিন্ন আলমত উদ্ধারের কথা বলা হলেও সাংবাদিকদের সামনে কোন আলামত উপস্থাপন করা হয়নি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফরসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ঢাকায় নিউরো সাইন্স হাসপাতালে এবং তার পিতা ওমর আলী শেখ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড়ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ইতিমধ্যেই ঘোড়াঘাট থানা থেকে স্থানান্তর করে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফরকে। এই মামলায় বর্তমানে ৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এরা হলো-আসাদুল ইসলাম, নবীরুল ইসলাম, সান্টু কুমার দাস, রবিউল ইসলাম ও নাদিম হোসেন পলাশ। রবিউল ইসলাম শনিবার থেকে ৬ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। বাকী ৪ জন বর্তমানে রয়েছেন দিনাজপুর জেলা কারাগারে।

নিউটার্ন.কম/এআর

0 Shares