Home » জাতীয় » একই সূত্রে গাঁথা গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম

একই সূত্রে গাঁথা গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম

 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, দেশে লুটপাটকারীরা, অন্যায়-অবিচারকারীরা মানুষের কাছ থেকে রেহাই পাবে না। জনগণের বিচারের মুখোমুখি একদিন তাদের হতেই হবে।

রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সাংবাদিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। গণমাধ্যমে বিরাজমান অস্থিরতা নিরসন, নবম ওয়েজবোর্ড সংশোধন, সাংবাদিক নির্যাতন ও বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশের আয়োজন করে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের কাছ থেকে যে গণতন্ত্র উদ্ধারে মহান মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম, রক্তে অর্জিত সেই গণতন্ত্র আজ ভুলুন্ঠিত। ২৯ ডিসেম্বর যেভাবে রাতের অন্ধকারে ভোট চুরি করে নির্বাচন করা হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে এজন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। দেশের গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যম একই সূত্রে গাথা। যেখানে গণতন্ত্র থাকে না সেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকে না। তাই গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধুকে ধুকে মরার চেয়ে আসুন একবার মরার সিদ্ধান্ত নেই।

সাগর-রুনীসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার, বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে এই সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা নির্যাতন বন্ধ না হলে সারা দেশে সাংবাদিক সমাজ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, গত চার মাসে সারাদেশে গড়ে ২০-২২ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কল্পনাতীত অস্থিরতা চলছে দেশের গণমাধ্যমে। গণহারে চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে। গণমাধ্যম বলে আজ দেশে কিছু নাই। গণমাধ্যমের যে চরিত্র থাকা উচিত, তা আজ নাই। যারা একটু লেখার চেষ্টা করেন তাদের গণভবন থেকে সিগন্যাল পাওয়ার পর লিখতে হয়।

মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দূর্নীতি চলছে উল্লেখ করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, বিশাল দুর্নীতি থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতেই ক্যাসিনো অভিযান করা হচ্ছে। দেশের গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের দুরবস্থা থেকে মুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া দেশের পরিস্থিতি বদলানো যাবে না বলেও জানান এই এম. আব্দুল্লাহ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর (জেইউজে) সভাপতি শহিদ জয়। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক বেনজীন খান, খুলনা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রাশিদুল ইসলাম, নূর ইসলাম, এম. আইউব, তৌহিদ জামান, সাইফুর রহমান সাইফ, সাইফুল ইসলাম সজল, আকরামুজ্জামান প্রমুখ।

নিউটার্ন.কম/AR

16 Shares