Home » অর্থনীতি » এসএমই খাতে নতুন উদ্যোক্তা কমেছে

এসএমই খাতে নতুন উদ্যোক্তা কমেছে

নিউটার্ন ডেস্ক
বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণ কমার প্রভাব পড়েছে নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণ পেতে নির্ধারিত হারে কমিশনও দিতে হয়। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের চাঁদা দেয়া ছাড়া কোনো উদ্যোগ শুরু করা যায় না।

এভাবেই ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের নতুন উদ্যোক্তা তৈরির নানা উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক ঋণ পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৩৫০ জন নতুন উদ্যোক্তা। এতে টাকার অংক ১১ হাজার ২৯৩ কোটি। অথচ ২০১৮ সালের একই সময়ে ব্যাংক ঋণ পেয়েছিলেন ৭৯ হাজার নতুন উদ্যোক্তা। টাকার অংকে যা ছিল ১৩ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক ঋণ পাওয়া নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা কমেছে ১৩ হাজার ৬৫০ জন।

সিরাজগঞ্জের একাধিক নতুন উদ্যোক্তার অভিযোগ- কমিশন, ঘুষ এবং চাঁদার দাপটে কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। ব্যাংক ঋণ পেতে চাইলেও কমিশন দিতে হয়। কোথাও দিতে হয় ঘুষ। তার আগে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের চাঁদা দিয়ে কাজ শুরু করতে হয়। শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, সারা দেশের চিত্র প্রায় একই। সে কারণে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে না।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে মোট চার লাখ ২ হাজার উদ্যোক্তাকে ৭৯ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা বেশি। গত বছর একই সময়ে তিন লাখ ৮১ হাজার ৮৮২ জন উদ্যোক্তাকে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছিল ৭৭ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর মোট এসএমই ঋণের মধ্যে ব্যবসা উপ-খাতে দুই লাখ ৭৯ হাজার উদ্যোক্তার মাঝে ৩৪ হাজার ২১২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ে ব্যবসায় ২ লাখ ৮১ হাজার উদ্যোক্তাকে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ দেখানো হয়েছিল। এ খাতে নেতিবাচক অবস্থায় এসেছে ব্যাংক খাতের ঋণ। সে হিসাবে এবারে শুধু ব্যবসায় ঋণ কম দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। একই সময়ে উৎপাদন ও সেবা উপ-খাতে ঋণ বেড়েছে। উৎপাদনশীল খাতে ২৮ হাজার ৮২০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আগের বছরের একই সময়ে যা ২৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ছিল। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। সেবা উপ-খাতে এবারে ১৬ হাজার ৯৫১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে তা ছিল ১৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা দুই হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা বেশি।

আলোচ্য সময়ে এসএমই খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের সংখ্যা ও ঋণ দুটোই কমেছে। আশঙ্কাজনক হারে কমেছে নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৫ হাজার ৩৫০ জন নতুন উদ্যোক্তাকে এসএমই ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে প্রায় ৭৯ হাজার উদ্যোক্তার মাঝে ১৩ হাজার ২৯০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। এর আগের বছরের একই সময়ে অর্থাৎ ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসে ৭৫ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে বিতরণ করা হয় ১১ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বেঁধে দেয়া হয়েছে। বছরে কোন খাতে কত ঋণপ্রবাহ বাড়াতে হবে, কিভাবে দিতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

0 Shares