Home » মতামত » করোনা পরিস্থিতিতে ভাতাসহ ত্রাণ বিতরণে ডিজিটাল প্লাটফরম ব্যবহার

করোনা পরিস্থিতিতে ভাতাসহ ত্রাণ বিতরণে ডিজিটাল প্লাটফরম ব্যবহার

 

সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীর আওতায় সরকারের দেয়া ভাতাসমূহের সাথে ত্রাণের সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই কর্মহীন ও অসহায়দের মাঝে খাবার তুলে দেয়া সম্ভব।
করোনা ভাইরাসের মহামারিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব, আমরাও তার থেকে দূরে নই। টানা লকডাউনের মাঝে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে সবাইকে। এ দৃশ্য যেন কোন দিন কেউ দেখেনি। আসলেও তাই, প্রথমে হাজার হাজার. পরে লাখো লাখো এখন কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে।
গবেষকগণ বলছেন, কোন কোন দেশে খাদ্য ঘাটতিও দেখা দিতে শুরু করেছে, দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে, ততই খাদ্য সংকট বাড়ছে । এ ধারনাকে সামনে এনে সরকার প্রধানও ঘোষণা দিয়েছেন- যে ভাবেই হোক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে, জমি পতিত রাখা যাবেনা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। বাস্তবেও তাই হচ্ছে। চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে উৎপাদনকারী কৃষক থেকে নিয়ে সকল পর্যায়ের লোকজন। কৃষকের যাতে কমদামে ধান বিক্রি করতে না হয়, সেজন্য পল্লী উন্নয়ন ব্যাংক মারফত লোন দেয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ঘণবসতিপূর্ণ আমাদের দেশের সরকার এসব কিছু করোনা মোকাবেলা ও অর্থনৈতিক মন্দা সামাল দেয়ার চিন্তা থেকে করছে। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় ১লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।
দিন যত বাড়ছে, কর্মহীনদের পরিমাণও বাড়ছে, কারণ সবাই কিছু না কিছু সম্বল দিয়ে চলছিলো কিন্তু দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে আশংকা বাড়ছে, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি।
আগে ত্রাণ নিতো দুস্থ ও গরীব শ্রেণির লোকজন। এখন কিন্তু তার সাথে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে- যারা দিনে রুজি করে চলতো এমনকি সাপ্তাহিক, পাক্ষিক রুজি করা মানুষ গুলোও এর সাড়িতে যোগ হচ্ছে। যদিও আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে বলে জানাচ্ছে সরকার। তবে এ অবস্থা বছর চলতে থাকলে দুর্ভোগ পড়তে হতে পরে আমাদেরও ।
ইতিমধ্যে বেশ কিছু অসৎ লোকের জন্য ১০টাকা কেজি চাল চুরি থেকে নিয়ে ত্রাণ চুরির ঘটনাও সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে। আসলে স্তরভেধে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বহীনতা ও অসতর্কতার জন্য এমনটা হয়েছে বলে ধারনা করা হয়।
তবে এখন থেকে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীর আওতায় ভাতাসমূেহের সাথে ত্রাণের সমন্বিত রেশনিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কর্মহীন ও অসহায় এবং সকল নাগরিকের মাঝে খাবার তুলে দেয়া সম্ভব হতে পারে। যা আমাদের পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতসহ বিভিন্ন দেশ রেশনিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের এসব সমস্যা নিরসন করতে সক্ষম হয়েছে।
আমি একজন ডিজিটাল কর্মি হিসেবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমস্যাটি মোকাবিলায় মতামতসহ বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আসলে এ লেখাটিতে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ২টি পদ্ধতির কথা আলোচনা করবো, যার মাধ্যমে সম্ভব হতে পারে সরকারও নাগরিকদের মাঝে আস্থার বন্ধন। এজন্য সবার আগে দরকার সঠিকভাবে করা দরকার নাগরিকদের পারিবার ভিত্তিক ডাটাবেইজ প্রনয়ণ। আর সেই ডাটাবেইজটিকে সমন্বিত কাজের মাধ্যমে সঠিকভাবে ব্যবহার করা।
যেভাবে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীর আওতায় ভাতাভোগীদের ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিটি মানুষের খাবার নিশ্চিত করা যায়। আর এসব বিষয়ে আলোচনার আগে একটি উপজেলা নিয়ে আলোকপাত করবো।
তাই শুরুতেই একটি উপজেলার পরিচিতি দরকার। তার নাম মুক্তাগাছা উপজেলা। ময়মনসিংহ জেলার একটি উপজেলার নাম। উপজেলাটির আয়তন ৩১৪.৭০ বর্গ কিলোমিটার । ১টি পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলাটিতে মৌজার সংখ্যা ২৬১টি এবং গ্রাম রয়েছে ২৮৩টি ।উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৩,০৬,৫২৫ জন, পুরুষ ভোটার ১,৫৪,১৮৭ জন ও মহিলা ভোটার ১,৫২,৩৩৮ জন। (২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী) জনসংখ্যা ৪,১৫,৪৭৩ জন। তন্মধ্যে পূরুষ ২,০৬,৬৪৭ জন ও মহিলা ২,০৮,৮২৬ জন। পরিবার ও খানার সংখ্যা ৯৬,৬৪৭টি । তার মধ্যে কৃষি পরবিাররে সংখ্যা ৫৮,৫৩৪ টি ও ভূমিহীন পরবিাররে সংখ্যা ১১,৯৪৮ টি।
জনসংখ্যা বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১.২৫ %। দারিদ্র্যের হার সর্বনিন্ম ২৩.৯% এবং সর্বোচ্চ ৪৩.৩%। প্রতি র্বগ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব রয়েছে ১৩২০ জন । স্বাক্ষরতার হার ৪৩.৫% । ভূমির আয়তন ২৮২.৩৫ ব.কি.মি. তার মধ্যে সরকারি বনভূমি/সংরক্ষিত বন-৩০.৯৫ ব.কি.মি.রয়েছে ।
উপজেলার ভূমির ব্যবহার হিসাবে (অস্থায়ী ফসলাধীন জমির ক্ষেত্রে-২০০৮ অনুযায়ী) মোট জমির পরিমাণ ৭৭,৭৬৪একর। এক ফসলি জমি ৫২০ একর। দুই ফসলি জমি ৪৮,৬৪২ একর। তিন ফসলি জমি ৯,৮৯০ একর। পতিত জমি ২৭৯ একর।
এখন এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সহজ পন্থা হিসেবে যদি আমরা এই উপজেলার কথা ভেবে প্রতিটি অনাহারী মানুষের মাঝে খাদ্য তুলে দিতে চাই তবে ইতিমধ্যে সরকারের নেয়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও অন্যান্য সুবিধার গুলোর আলোকে কতজন সুবিধা পাছে তা উল্লেখ করা জরুরি ।
এই উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৪৭ জন ডিলারের মাধ্যমে ২৫হাজার ৩শত৮৬ পরিবার প্রতিমাসে ৩০কেজি চাল পেয়ে থাকে। এছাড়াও পৌরসভা এলাকায় ৩জন ডিলারের মাধ্যমে ১হাজার ৮ শত পরিবার প্রতিমাসে ২০কেজি চাল পেয়ে থাকে। ভিজিডি ভাতার আওতায় ২হাজার ৯শত ৭পরিবার প্রতিমাসে ৩০কেজি হারে চাল পেয়ে থাকে।
বয়স্ক ভাতার আওতায় ১২হাজার ৮শত ২২টি পরিবার প্রতিজন মাসিক ৫শত টাকা করে পাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতায় ৩শত৮৭টি পরিবার প্রতিমাসে ১২হাজার টাকা করে পেয়ে থাকে।
বিধবা ভাতার আওতায় ৩হাজার ৬৯টি পরিবার প্রতিমাসে ৫শত টাকা করে পেয়ে থাকে। মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ল্যাকটেটিং ভাতা আওতায় ৭শত ৪০টি পরিবার ৮০০টাকা হারে ভাতা গ্রহণ করে থাকে। প্রতিবন্ধি ভাতার আওতায় ৫হাজার ১শত ১টি পরিবার প্রতিমাসে ৭শত ৫০ টাকা করে পেয়ে থাকে।শিশু খাবার ভাতার আওতায় ৩ পরিবারসহ মোট ১২৩টি পরিবার বা খানার সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।
প্রতিবন্ধি শিক্ষা উপবৃত্তির সংখ্যা ২৮২জন যা স্তর অনুসারে প্রতিজন প্রাথমিকে ৭শত ৫০টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮শত টাকা, উচ্চমাধ্যমিক ম্তরে ১হাজার এবং উচ্চ শিক্ষায় ১হাজার ২শত টাকা করে প্রতিমাসে পেয়ে থাকেন।
দলিত হরিজনের বিশেষ বয়স্ক ভাতার সংখ্যা ৩৯জন প্রতিমাসে ৫শত টাকা করে পেয়ে থাকেন।
দলিত হরিজনের শিক্ষা উপবৃত্তির সংখ্যা ৩০জন প্রতিমাসে ৭শত ৫০ টাকা করে পেয়ে থাকেন।
উপরের হিসাব অনুসারে এ উপজেলাটিতে সর্বমোট ৪৯হাজার ৮শত ৬৩টি পরিবার এসব সুবিধা পেয়ে আসছে।
মাল্টি ন্যাশনাল এনজিও ওর্য়াল্ড ভিসন মুক্তাগাছা উপজেলায় ২টি এডিপি কাজ করে থাকে, তাদের কাজের অংশ হিসেবে ১১৮টি গ্রামের ৬৮৭৪৪টি পরিবার বা খানায় জড়িপে দেখা যায়, অতিদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা ১১৩৮৪টি এবং দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা ১৩৬০৯টি মোট ২৪৯৯৩টি রয়েছে। আর স্বাবলম্বি পরিবার রয়েছে ৪৩৭৫১টি । বাস্তবতার জড়িপটিতে গড় হিসাবে দরিদ্রতার হার ৩৬.৩৬% । সেই হিসাবে দরিদ্র পরিবার দাড়ায় ৩৯৯৯৬টি ।
সরকারি হিসাবে ৪জনকে নিয়ে ১টি পরিবার জনসংখ্যা তাদের জড়িপ অনুযায়ী মোট পরিবার হয় ১,০৩৮৬৮.২৫টি। আর দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মিলিয়ে ৩৭৭৬৬.৪৯টি পরিবার । করোনার প্রভাবে দরিদ্র হয়ে পড়া নিয়ে সম্ভব্য ৪৫ হাজার থেকে ৫৫হাজার পরিবারকে সাপোর্ট দিলে মুক্তাগাছায় কেউ অভুক্ত থাকার কথা নয়।
আমরা যদি আরো একটু সাদা চোখে মানে বাড়িয়ে চিন্তা করি, তাহলে ধরে নেয়া যেতেই পারে জনসংখ্যা ও পরিবারসহ মুক্তাগাছা উপজেলায় বর্তমানে সর্বোচ্য ১লাখ ১০ হাজার পরিবার রয়েছে।কারণ হিসেবে বলা যায়, বাস্তবে প্রতিটি পরিবারে ২ থেকে ১০জন বা তারও অধিক সদস্য নিয়ে গঠিত এমন পরিবারও রয়েছে।
তার মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার রয়েছে তারা এলাকার বাইরে যেমন-দেশের বাইরে, চাকরি জনিত কারণে ঢাকা বা দেশের অন্যান্য স্থানে বসবাস করেন।
এছাড়াও ২৫-৩০ হাজার পরিবার স্বাবলম্বি, তারা চাকরিসহ অন্যান্য পেশায় জরিত আছেন তাদের সরকারি সুবিধা দিতে চাইলেও নিবেন না বলে সমীক্ষায় জানা যায় ।

বাকি থাকলো সর্বোচ্য ৫৫ হাজার বা তার একটু কম/ বেশি পরিবার, যাদের ইনকাম কম, দূস্থ, ভিক্ষুক, দিনমজুর বা অন্যান্য পেশায় আছেন। এর মধ্যে একটি অংশ রয়েছেন শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার সোজা কথা নিম্ন আয়ের মানুষ।।
তাহলে আমরা যদি নিম্ন আয়ের পরিবার হিসাবে বাকি সকল পরিবারের সদস্যদের ধরে নিই তাবে সর্বোচ্চ ৫৫হাজার পরিবার বা খানাকে সরকারি-বেসরকারিভাবে সার্পোট দেয়ার প্রয়োজন হয়।
সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাদের দ্রুত পরিবার ভিত্তিক নাগরিক ডাটাবেইজ প্রনয়ণ করা জরুরি।
লেখাটির প্রথম দিকে বলেছিলাম বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে ২টি প্রস্তাবনার অবতারনা করবো। প্রস্তাবনার আগে যে প্রক্রিয়ার কথাটি না বললেই নয়,তা হলো নাগরিকদের ‘পরিবার ভিত্তিক ডাটাবেইজ’ তৈরী করা। আর বর্তমান সময়ে এটি দ্রুততার সাথে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় করা সম্ভব মনে করছি। প্রক্রিয়াটি হলো-প্রতিটি ওয়ার্ডে ১জন করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, সেইসাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে ২১সদস্য ত্রাণ কমিটি করা হয়েছে। তাদেরকে দায়িত্ব দিতে হবে স্থানীয়ভাবে পরিবার ভিত্তিক নাগরিক ডাটাবেইজ প্রণয়নের। একটি ফরম দিতে হবে যেখানে ১.পরিবারের প্রধান, ২.পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩. কর্মজীবী সদস্য ৪. কর্মহীন সদস্য ৫. বেকার সদস্য (শিক্ষিত ও অশিক্ষিত) ৬. শিশু সদস্য ৭. প্রতিবন্ধি সদস্য ৮. সরকারি সুবিধা ভোগী ( ভাতাদি) ৯. পেনশনভোগী ইত্যাদি তথ্য সম্বলিত। সাথে ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার ও জমির পরিমাণ এবং অন্যকোন সঞ্চিত সম্পদ ( যেখান থেকে তার আয় আসে)।
এখানে পরিবারের আয় ও ব্যয়ের উপর কিছু শ্রেণী রাখতে হবে। যেমন- ০১. অতিদরিদ্র ২. দরিদ্র ৩. কমদরিদ্র ৪. স্বাবলম্ভি ৫.ধনাট্য ৬. অধিক ধনাট্য ইত্যাদি।
এরপর একটি ওয়েব এপ্লিকেশনের মাধ্যমে পরিবার ভিত্তিক ডাটাবেইজটিতে পরিবার প্রধানে ছবিসহ তথ্যগুলো তার আইডি দিয়ে দেখতে পারবে। পরিবারের প্রধানের মোবাইল ফোনে এসএমএস প্রদানের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড ও ইউজার আইডি। এ ক্ষেত্রে তার এনআইডি হবে ইউজার আইডি। আর এই এনআইডিটির নাম্বারকেই ব্যাংক একাউন্টের নাম্বার হিসেবে রাখা যেতে পারে। যাতে সরকারি সুবিধাসহ তার লেদদেন এই একাউন্টে করতে পারে।
পরিবার প্রধান যেমন এপ্লিকেশনের তার প্যানেলে তার মোবাইলে যাওয়া আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিং করে তার পরিবারের সবকিছু দেখতে পারবে, তেমনি যে কোন সময় পরিবারের কোন সদস্য চাকরি হওয়া বা মারা যাওয়া থেকে নিয়ে তারাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা মেম্বার, পৌরসভার ক্ষেত্রে মেয়র বা কাউন্সিলরদের অনুমোদন সাপেক্ষে আপডেট হবে।
যারা অনলাইন ইউজ করতে পারেনা তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানাবে তাহলে তিনি আপডেট করে দিতে পারবেন। অথ্যাৎ নাগরিক সেবার মতো করে বিষয়টি বিবেচনায় আনতে পারলে এর সুফলটি পাওয়া যাবে।
এখন হয়তো কারো মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে নাগরিক পারিবার ডাটাবেইজ করতে তো অনেক সময়ের ব্যাপার। ওয়েব এপ্লিকেশনটিও করতে অনেক সময়ের ব্যাপার । এসবের উত্তরে আমি বলবো সকলের সহযোগিতায় ও আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ১০-১৫ দিনের মধ্যেই ডাটা গুলো আনা সম্ভব হবে। যদি ওয়ার্ড মেম্বারের নেতৃত্বে ২১ সদস্য ত্রাণ কমিটি দিয়ে এটি করানো হয়।
আর এধরণের ওয়েব এপ্লিকেশন তৈরী করে ডাটা আপলোড করতে ১মাস থেকে দেড়মাসের মধ্যেই সম্ভব,যদি প্রতিটা ক্ষেত্রে শতভাগ আন্তরিকতার সাথে কাজ করা হয়।
ডাটা সংগ্রহের পর এপ্লিকেশন তৈরী ও ডাটাগুলো এপ্লিকেশনে আপলোডে প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত করতে কিছু পদক্ষেপ অবতারনা না করলেই নয়। প্রথমত: এপ্লিকেশনটি তৈরী করার জন্য ১টি কোম্পানিকে দায়িত্ব দিতে হবে। যাদের এই ধরণের কাজ করা অভিজ্ঞতা আছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে গভের্নমেন্ট ও সিটিজেন সার্ভিস ক্যাটাগড়িতে বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি এওয়ার্ড এ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইউপি হোল্ডিং ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নামের প্রকল্পটি এই ধরণের একটি সিস্টেম। যার প্রতিটি ডাটা ইউনিয়নের প্যানেল থেকে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা থেকে জেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন থেকে বিভাগ এমনকি সারাদেশের ডাটা অংক একত্রিত হয়ে চলে যাবে মন্ত্রণালয়ের ড্যাসবোর্ডে।
আর ডাটা আপলোডের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব বেসিস কোম্পানি গুলোকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। এজন্য বাংলাদেশ সফটওয়্যার এসোসিয়েশন ইনফরমেশন এন্ড সার্ভিসেস (বেসিস) এর ১০০ কোম্পানিকে একাজের জন্য দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। ইউনিয়ন সংখ্যা ও পৌরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা উপর ভিত্তি করে প্রতিটি কোম্পানিকে ৪ থেকে ৫টি উপজেলার দায়িত্ব দিয়ে সহজেই কাজটি করা যেতে পারে। এতে করে বসে থাকা বেসিস কোম্পানিগুলো দেশের জন্য কাজ করলো। দেশও ডিজিটালি অনেক দূর এগিয়ে গেল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ভিসণ-২০২১ বাস্তবায়নে একধাপ এগিয়ে যাবে।সরকারের কাছে থাকবে একটি বিশাল তথ্য ভাণ্ডার। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।দুর্নীতি রোধে হয়ে হয়ে উঠবে বিশাল হাতিয়ার।স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন ও পৌরসভাসমূহ তাদের ট্যাক্স আদায় থেকে নিয়ে বিভিন্ন কাজে এ ডাটা বেইজটি ব্যবহার করে সুফল পেতে পারে।
লেখাটির প্রথম দিকে বলেছিলাম বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সংক্ষিপ্ত ২টি প্রস্তাবনার অবতারনা করবো তার মধ্যে একটি হলো তাৎক্ষণিক প্রস্তাবনা অপরটি হলো দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবনা।
তাৎক্ষণিক প্রস্তাবনা : পরিবার ভিত্তিক জরিপে উঠে আসা সরকারি–বেসরকারি চাকুরে ও স্বালম্বিদেরসহ যারা সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী ও রেশনসহ অন্যান্য ভাবে সরকাররি সুবিধা ভোগ করছেন, তাদেরকে ত্রাণের আওতায় আনা যাবে না। অর্থ্যৎ কেউ একের বেশি সুবিধা পাবে না। তাদেরকে যদি বাদ য়ো হয় তবে মুক্তাগাছা উপজেলায় ত্রাণ পাবে মাত্র ৫-৬ হাজার পরিবার। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণকৃত ত্রাণ থেকেই সবাইকে খাবার দেয়া সম্ভব । এছাড়াও সমাজের বিত্তবান যারা ত্রাণ দিতে চান তাদের এপ্লিকেশনটিতে ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদেরই ত্রাণ দিতে পারবে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ত্রাণ দিতে চাইলে তাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে তিনি তার সাধ্য মোতাবেক কতজনের খাবারের দায়িত্বটি নিবেন এবং কতদিন সরবরাহ করতে পারবেন।ধরে নিলাম ১জন বিত্তশালী ৫জনকে খাবেরর দায়িত্ব নিলেন যদি কোন কারণে তিনি অপারগ হন তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাতে হবে। তিনি জিআর, রিলিফ বিভিন্ন খাত থেকে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন ।
দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবনা : পরিবার ভিত্তিক জরিপে উঠে আসা কম আয়ধারী পরিবারকে রেশনিং এর আওতায় নিয়ে আসা। বলা যায়, মুক্তাগাছা উপজেলায় দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা ৪৫-৫৫ হাজার। এদের সবাইকে সারা বছরের জন্য ভারতসহ কিছু দেশের মতো রেশনিং এর ব্যবস্থা করা। আর রেশনিংটা ১০টাকা কেজি চাল না দিয়ে দামটা আরেকটু বাড়িয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে চাল, ডাল, আটা ও তেল ইত্যাদি। কথা আসতে পারে রেশন কার্ডধারীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য কি করবে? উত্তর হলো-রেশন কার্ডধারীদের উৎপাদিত শষ্য বিক্রি করবে সরকারে কাছে যা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছে। এটির ফলে দেখা যাবে অনেক কার্ডধারী পরিবার স্বাভলম্বির তালিকায় চলে আসতে চাইবে-পর পার ৩মাস যদি রেশন না নেয় তবে তাকে স্বাবলম্বি হিসেবে ধরা হবে। আর সিস্টেমে যদি কেউ আপডেট করেন, স্বাবলম্বি তালিকা থেকে দরিদ্রতার তালিকায় চলে আসছেন তখন তিনিও পাবেন রেশনকার্ড। সর্বোপরি কথা হলো সিস্টেমটিকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখতে পারলে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব।
উপরের প্রস্তাবনা গুলো সংক্ষিপ্ত, সরকার ইচ্ছা করলে আরো বড় করেও পরিকল্পনা করতে পারে।
পরিশেষে বলতে চাই, পরিবার ভিত্তিক ডাটাবেইজ প্রনয়নের মাধ্যমে সরকারের সকল ভালো উদ্যোগ গুলোও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে আশা করা যায়।
লেখক: এম নজরুল ইসলাম
মাস্টার্স অফ কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ( ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, কুষ্টিয়া )
বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ চ্যাম্পিয়ন,
একজন আইসিটি উদ্যোক্তা ও গবেষক এবং সাংবাদিক।
ইমেইল: nazrul79.cse@gmail.com, মোবাইল: ০১৭১২৯৯২১৩৬

0 Shares