Home » জাতীয় » করোনা লকডাউনে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত পুস্তক ব্যবসায়ীরা

করোনা লকডাউনে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত পুস্তক ব্যবসায়ীরা

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : করোকালীন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় লাইব্রেরি ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। ফলে কাউনিয়ার অর্ধশতাধিক পুস্তক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে চরম দুর্দিনে পড়েছে। লাইব্রেরিতে বেচাকেনা না থাকায় কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও দিতে পারছেননা পুস্তক ব্যবসায়ীরা। করোনাকালে কম বেশি সকল ধরণের ব্যবসায়ীরা সরকারি প্রণোদনা পেলেও শুধু উপেক্ষিত থেকে যায় পুস্তক ব্যবসায়ীরা। কাউনিয়ার পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি সরকারের নিকট আবেদন জানিয়েও কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পায়নি। উপজেলার তকিপল বাজারের জানি লাইব্রেরির মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, লাইব্রেরির ব্যবসাটি এমনি এক ব্যবসা যা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার সাথে সম্পৃক্ত। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বন্ধ তো ব্যবসাও বন্ধ। করোনা আর লকডাউনে আমরা নাজেহাল। লাইব্রেরিতে বেচা-বিক্রি না না থাকায় গত ৬ মাস ধরে কর্মচারীর বেতন ভাতা দিতে না পারায় কর্মচারী লাইব্রেরিতে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাই দু-তিন দিনে একদিন লাইব্রেরি দোকান খুলে অবসর সময় কাটিয়ে বাড়িতে ফিরে যাই। উপজেলা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি ও বিদ্যাসাগর লাইব্রেরির মালিক সারওয়ার আলম জানান এ উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক বইয়ের লাইব্রেরির দোকান রয়েছে। লাইব্রেরি ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা করোনাকালে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ ব্যবসার ক্রেতা শুধু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রায় ১বছর ধরে বন্ধের পাশাপাশি প্রায় সকল ধরণের পরীক্ষা বন্ধ থাকায় কেউ লাইব্রেরি দোকানের ধারের কাছেও আসেনা। কালে ভদ্রে দু-একটি খাতা কলম ও কিছু স্টেশনারি মালামাল ক্রয়ে দু-একজন ক্রেতার দেখা মিললেও তা দিয়ে ব্যবসা চলেনা। তাই এ ব্যবসার সাথে জড়িত দেড় শতাধিক পরিবার খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বর্ণমালা লাইব্রেরির মালিক রবিউল ইসলাম জানান, করোনার ১ম ঢেউয়ে অনেকে প্রণোদনা পেলেও আমরা পুস্তক ব্যবসায়ীরা কিছু পেলাম না। সরকার এতো টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে কিন্তু আমাদের ভাগের টা গেল কোথায় ? ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পাচ্ছি না। সরকার আবার নতুন করে লক ডাউন শুরু করায় পুস্তক ব্যবসায়ী ও লাইব্রেরির কর্মচারীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাদের কথা বিবেচনা করে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

0 Shares