Home » জাতীয় » কিংবদন্তী গাজী কালু চম্পাবতীর মাজার
কিংবদন্তী গাজী কালু চম্পাবতীর মাজার

কিংবদন্তী গাজী কালু চম্পাবতীর মাজার

আব্দুল হাই ঝিনাইদহ:

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রেল লাইনের পূর্ব দিকের গলি সড়কটির কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে বিশাল একটি চতুর্ভূজ আকৃতির দিঘি। দিঘিটির মধ্যে দ্বীপের মত একটি ঢিবি দেখা যায়। ঢিবিটি শ্রীরাম রাজার বাড়ি এবং জলাশয়টি বেড় দিঘি নামে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত। দিঘির উত্তর-পূর্ব পাড়ে একটি বৃহৎ বটগাছের নিচে ঘুমিয়ে আছেন গাজী-কালু-চম্পাবতি উপখ্যানের রূপকারেরা।

আরও পড়ুনঃ ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম রূপনগর খাল পরিদর্শনে

কাউনিয়ায় গাঁজাসহ একজন আটক

ইতিহাসে গাজী-কালু-চম্পবতী : প্রেমের কীংবদন্তী গাজী-কালু-চম্পাবতীর সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে নানা মতভেদ রয়েছে। তবে যশোহর খুলনার ইতিহাস, ঝিনাইদার ইতিহাস ও লোকমূখে যতটুকু শোনা যায় প্রাচীন যুগে বারোবাজার এলাকায় শ্রীরাম রাজা নামের একজন প্রতাপশালী রাজা ছিলেন।

এই এলাকায় সিলেট এলাকা থেকে মুসলিম ধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশে আসেন গাজী কালু নামের দুই সহোদর। তারা সিলেট এলাকার কোন এক পীরের সন্তান। ধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশ্যে আসায় হিন্দু রাজা শ্রীরামের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে শ্রীরাম রাজার অনিন্দ্যসুন্দরী কন্যা চম্পাবতীর সঙ্গে গাজীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গাজীর ছিল বিশাল ব্যাঘ্র (বাঘ) বাহিনী। গাজীর সঙ্গে চম্পাবতীর সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়ে গেলে রাজা শ্রীরাম গাজী ও কালুর উপর ক্ষীপ্ত হয়ে তাদের হত্যার নির্দেশ দেয়। রাজার নির্দেশে তার সৈন্যরা কালুকে বন্দী করে। গাজী ভাইকে মুক্ত করতে তার ব্যাঘ্র (বাঘ) বাহিনী নিয়ে শ্রীরাম রাজার প্রাসাদে হামলা চালায়। গাজীর সঙ্গে যুদ্ধে রাজা শ্রীরামের পতন হয়। এরপর থেকে গাজী-কালু-চম্পাবতী এই এলাকায় থেকে যান। তাদের মৃত্যুর পর এখানেই তাদের কবর দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

মাজারের বর্তমান অবস্থা: কিংবদন্তীর ঐতিহ্যবাহী এই স্থানটিতে আজ পর্যন্ত তেমন কিছুই গড়ে ওঠেনি। একটি বটগাছকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ ১শ ফুট প্রস্থ জায়গাটি তার কাটার বেড়া দিয়ে ঘিরে মাজার হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মাজারের মধ্যে তিনটি প্রাচীন কবর রয়েছে। কবর ৩টি আয়তনে বেশ বড় এগুলোর কোন শিলালিপি নেই। বিশেষজ্ঞরা কবরগুলো সংস্কার করে গাজী, কালু ও চম্পাবতির কবর হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

 

 

0 Shares