Home » জাতীয় » খরস্রোতা তিস্তা নদী এখন ধু-ধু বালু চর আর ফসলের মাঠ

খরস্রোতা তিস্তা নদী এখন ধু-ধু বালু চর আর ফসলের মাঠ

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) : রংপুরের কাউনিয়ায় এক সময়ের খরস্রোতা তিস্তা নদী এখন ধু-ধু বালু চর আর ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। চৈত্রের তাপদাহে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তিস্তা নদী শুকিয়ে এখন ফসলের মাঠ,খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। ডালিয়া ব্যারেজ থেকে শুরু করে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ, শগীদবাগ, বালাপাড়া ও টেপামধুপর ইউনিয়ন হয়ে পীরগাছা হয়ে সুন্দরগঞ্জে গিয়ে যমুনায় মিলিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর আজও তিস্তা নদী ড্রেজিং, খনন, সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হয়নি।

আরও পড়ুন :

কাউনিয়ায় ৩ দোকানের ১২০০ টাকা জরিমানা

চরাঞ্চলে ব্যাপক ভুট্টা চাষ, কাউনিয়া বাম্পার ফলনের আশা করছে চরাঞ্চলের কৃষক

 

ঐতিহাসিক ভাবে এই নদীর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ ও পানি চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় নদীর এখন এ অবস্থা। এক সময় ছিল খরস্রোতা এ নদীতে থাকত পানির উত্তাল তরঙ্গমালা। কি চৈত্র কি আষাঢ় বর্ষা ও শুষ্ক উভয়ই মৌসুমে ছিল না পানির অভাব। সে সময় নদী দিয়ে বয়ে যেত লঞ্চ, পালতোলা নৌকাসহ বিভন্ন জলযান।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মালামাল পরিবহনের একমাত্র পথ ছিল এই নদী। তাই প্রতিনিয়ত দেখা যেত বিশাল আকৃতির পাল তোলা নৌকার বহর। এছাড়াও এলাকার হাজার হাজার কৃষক কৃষি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করত নদীর পানি। নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে একদিকে যেমন সাশ্রয় হতো অপরদিকে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই খরস্রোতা নদী এখন ধু-ধু বালু চর আর ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। ফলে আর দেখা মেলে না পালতোলা নৌকার বহর, লঞ্চসহ কোন জলযানের। ভারতের গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণের ফলে ও পানি চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় নদীর এখন এ অবস্থা হয়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে চৈত্র মাস না আসতেই শুকিয়ে যায় নদীর পানি। তিস্তা নদী এখন কোথাও ফসলের মাঠ, কোথাও খেলার মাঠ, কোথাও বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মৎস্যজীবী, শতশত নৌকার মাঝি বেকার হয়ে গেছে। ভূগভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় যেমন নদীর পানি শুকিয়ে গেছে, তেমনি অগভীর নলকূপগুলোতেও পানি উঠছে না। ফলে হাজার হাজার কৃষক পানির সমস্যায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। উপজেলা ঢুসমারা চরের তজরুল ইসলাম, তালুকশাহবাজ গ্রামের স্বাধীন বলেন, আমরা যুগ যুগ থেকে নদী থেকে পানি নিয়ে জমির সেচের কাজ করছি এখন তা করা সম্ভব হচ্ছে না। জহুর জানান নদী পথে নৌকা নিয়ে মাটির তৈরী ডাবর, টালি, পাতিল,কলসসহ বিভিন্ন প্রকার সামগ্রী নৌকা যোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। বর্তমানে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। তালুকশাহবাজ গ্রামের রফিক বলেন, নদী পানি শূন্য হওয়ায় মাঠে শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে খরচ হচ্ছে অনেক গুণ বেশি। এতে আমাদের সেচ খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে আর জমির উর্বরতাও কমে যাচ্ছে।

0 Shares