Home » জাতীয় » খাগড়াছড়িতে নিহত বিশ্বমিত্রের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

খাগড়াছড়িতে নিহত বিশ্বমিত্রের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
পার্বত্য জেলা রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে পিসিজেএসএস সংস্কার দলের এক সামরিক কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করেছে একই দলের সশস্ত্র কর্মি। বুধবার রাত ৩টার সময় বাঘাইছড়ির বাবুপাড়া এলাকায় সশস্ত্র অবস্থায় দায়িত্ব পালনের সময় সামরিক কমান্ডার বিশ্বমিত্র চাকমা ওরফে যুদ্ধ চাকমাকে(৩৬) কাছ থেকেই গুলি করে হত্যা করেছে তার সাথেই দায়িত্ব পালনরত সুজন চাকমা। যুদ্ধ চাকমার বাড়ি বঙ্গলতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ হাগলাছড়া গ্রামে। তার পিতা বিশ্বমিত্র চাকমা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার(৩১ মার্চ) ভোররাত ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে । এসময় পিসিজেএসএস এমএন লারমা দলের সদস্য সুজন চাকমা তার কমান্ডার বিশ্ব চাকমা ওরফে যুদ্ধকে অতর্কিত ভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করে তার ব্যবহৃত সাব মেশিন গান(এসএমজি) দিয়ে। রাত যখন গভীর হয় তখন অন্য সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে কৌশলে তাদেরকে তালা মেরে দেয় সুজন চাকমা। পরে এম ফোর অস্ত্র দিয়ে সামরিক কমান্ডার যুদ্ধ চাকমাকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনটি অস্ত্র একে-৪৭ একটি, এম-৪ একটি, পাইপ গান একটি ও ২৫০রাউন্ড গুলি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার আগে বিশ্বমিত্র চাকমাকে কৌশলে মদ খাইয়ে মাতাল করেছিলো খুনি। পিসিজেএসএস সংস্কার সূত্র এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।
সংস্কারপন্থি পিসিজেএসএস এর দলীয় দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নিহত যুদ্ধ চাকমা বিগত চার বছর আগে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পিসিজেএসএস থেকে অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে এসে সংস্কারপন্থি পিসিজেএসএস এমএন লারমা দলে যোগদান করে। পরবর্তীতে তাকে সংগঠনটির বাবু পাড়া এলাকার সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রতিদিন রাতে তার নেতৃত্বেই এলাকায় সামরিক টহল দিতো একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী।
তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে সশস্ত্র অবস্থায় ডিউটিতে থাকাকালীন তার সাথে থাকা সহকর্মি সুজন চাকমা গভীর রাত ৩টার সময় গুলি করে যুদ্ধ চাকমাকে হত্যা করে। সুজন চাকমা মূলত জেএসএস মূল দলের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছিল এবং হত্যার পর তাদের কাছে থাকা অস্ত্রগুলো নিয়ে তিনি মূল সংগঠনের উদ্দেশ্যে পালিয়ে গিয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলার পিসিজেএসএস এমএন লারমা দলের সভাপতি জ্ঞানজীব চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন সুজন চাকমা দলের ভিতর পিসিজেএসএস সন্তু লারমা দলের গুপ্তচর ছিলো সন্তু লারমা দলের ইন্দনে সে আমাদের দলের লোককে হত্যা করে অস্ত্র গুলাবারুদ নিয়ে পিসিজেএসএস সন্তু লারমা দলে পালিয়ে গেছে।
বাঘাইছড়ি থানার ওসি(তদন্ত) মো: আনোয়ার হোসেন খান বলেন, সংবাদ পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে, তবে থানায় এখনো মামলা হয়নি।
বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাবু পাড়া এলাকায় গভীর ভোর রাতে নিজ দলের কর্মির গুলিতে যুদ্ধ চাকমা নামে একজন নিহত হয়েছেন এবং তিনটি অস্ত্রসহকারে সুজন চাকমা নামে একজন পালিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে সুজন চাকমা পিসিজেএসএস সন্তু লারমা দলের সাথে পালিয়ে যেতে পারে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছি। ময়না তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় নিহত বিশ্বমিত্র চাকমার(৩৬) মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার(৩১শে মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ নিহতের বাবা কিরণ চাকমার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার(৩০ মার্চ) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার বাবুপাড়া এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় বিশ্বমিত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুুপর বাঘাইছড়ি শাখার যুব সমিতির সদস্য।
একটি সূত্র থেকে বিশ্বমিত্রকে সংগঠনটির সামরিক শাখার কমান্ডার বলেও জানা গেছে। তিনি উপজেলার মারিশ্যার খাগলছড়া এলাকার কিরণ চাকমার ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা এখনো জানা যায়নি।
বাঘাইছড়ি থানার নায়েক রাশেদ আলম বলেন, খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে বিশ্বমিত্রের মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে পুলিশি কঠোর নিরাপত্তায় মরদেহ খাগড়াছড়িতে আনা হয়। বিকেলে মারিশ্যার খাগলছড়ার নিজ এলাকায় দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

0 Shares