Home » জাতীয় » চিকিৎসক সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা: দুর্ভোগে মিঠাপুকুর উপজেলাবাসী

চিকিৎসক সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা: দুর্ভোগে মিঠাপুকুর উপজেলাবাসী

 

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসক সকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দেশের বৃহত্তম এই উপজেলার জনসংখ্যা ৬ লাখেরও বেশি। বিশাল জনসংখ্যা অধ্যুষিত মানুষের একমাত্র চিকিৎসাস্থল ৫০ শয্যার মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না নাগরিকরা। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় এখানকার চিকিৎসাসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে মিঠাপুকুর উপজেলাবাসী। এনিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ-অভিযোগের শেষ নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ হাসপাতালে মঞ্জুরিকৃত চিকিৎসকের পদের সংখ্যা ২১ টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯ জন। তাদের মধ্যে আবার ৩ জন চিকিৎসক দীর্ঘদিন রয়েছেন অনুপস্থিত। তারা অন্যত্র দায়িত্ব পালন করলেও বেতন উত্তোলন করেন মিঠাপুকুর থেকে। ডা. মঞ্জুরুল ইসলাম মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর। ডা. আবু হাসান মো. রেজোয়ানুল কবীর ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর এবং ডা. ফিরোজ আহমেদ ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এসব চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে না থাকায় সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনুপস্থিত চিকিৎসকের প্রথম দুইজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যজন রাজধানী ঢাকার বিমান বন্দরে প্রেষণে রয়েছেন বলে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া, কর্মরত অন্য চিকিৎসকদেরও হাসপাতলে ঠিকমত পাওয়া যায় না। এ নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনরাও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাইফুল ইসলাম সাগর নামে রোগীর এক স্বজন বলেন, অন্তঃবিভাগে ভর্তি রোগীদের ঠিকমত দেখেন না চিকিৎসকরা। তারা বাইরে প্রাকটিসে ব্যস্ত থাকেন। একই অভিযোগ করেন, পায়রাবন্দের জুবায়ের আলী, বৈরাগীগঞ্জের ইলিয়াছ মিয়া, ইমাদপুর বৈরাতির রফিকুল ইসলাম, রহমতপুরের খাইরুল ইসলামসহ বেশকয়েকজন ।
জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসাল্টটেন্ট (সার্জন), কনসাল্টটেন্ট (শিশু), কনসাল্টটেন্ট (চক্ষু), কনসাল্টটেন্ট (সার্জারী), কনসাল্টটেন্ট (চর্ম ও যৌন), কনসাল্টটেন্ট (মেডিসিন), ডেল্টাল সার্জন ও এ্যানেসথেসিস্ট পদ শূন্য রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অত্যাধুনিক মানের ২টি অস্ত্রোপচার (অপারেশন থিয়েটার) রয়েছে। কিন্তু এ্যানেসথেটিস্ট ও কনসাল্টটেন্ট (সার্জন) না থাকায় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে অস্ত্রোপচার কক্ষ। দুইটি জেনারেটর থাকলেও মেরামত না করায় দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতির আলোয় চলে চিকিৎসা সেবা। এখানে নেই রক্ত পরিসঞ্চালনের কোন ব্যবস্থা। বর্তমানে বিরাজমান নানা সমস্যার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
এব্যাপারে মিঠাপুকুর উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. অবদুল হাকিম বলেন, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। চিকিৎসক সঙ্কটসহ বিরাজমান সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৩ জন চিকিৎসক অন্য হাসপাতালে প্রেষণে রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোন হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট হলে সেখানে অন্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক প্রেষণে পাঠাতে পারে। চিকিৎসক সংকট, অস্ত্রোপচার কক্ষ চালুসহ অন্য সমস্যা দ্রুত সমাধানে অনেক বার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান হবে।’

0 Shares