Home » জাতীয় » ছয় মাস ধরে কোমায়, চিকিৎসা ব্যয়ে অর্থ সংকটে শাহীনুর পরিবার

ছয় মাস ধরে কোমায়, চিকিৎসা ব্যয়ে অর্থ সংকটে শাহীনুর পরিবার

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় মাস ধরে কোমায় রয়েছেন শাহীনুর ইসলাম (৩৩) নামের এক যুবক। পরিবারে উপার্জনক্ষম সন্তানকে বিছানায় পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে হচ্ছে বাবা-মা, স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের। অর্থ কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে যার আয়ে চলতো সংসার, সেই নিস্তেজের মতো পড়ে আছে বিছানায়। ঘটনাটি উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের শুরিগছ গ্রামের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ ছয় মাস ধরেই বিছানায় শুয়েই অসচেতন মুমূর্ষু অবস্থায় চলছে তার জীবন। খাওয়া, প্রশ্রাব-পায়খানা সব কিছুই সারতে হচ্ছে নলের সাহায্যে। প্রতিদিন ওষুধ কিনতে হচ্ছে ১২শ থেকে দেড় হাজার টাকার, ওষুধ কিনতে হাপিয়ে উঠেছে পরিবারটি। অর্থ সংকটে ঠিকমত ওষুধ পথ্য কিনতে পারছে না। একদিকে চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে পরিবারের অন্যান্য খরচ জোগানো সব মিলিয়ে চরম অসহায় জীবন-যাপন করছে অসহায় পরিবারটি। নেই কোন জায়গা জমি, জীর্ণ হয়ে পড়েছে বসবাসের ঘরটিও। একটি জড়াজীর্ণ ঘরের ভেতর বিছানায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শাহীনুরকে। নাকে নল দেয়া, ডাকলেও সাড়া দিচ্ছে না। টাকার অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না। ওই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া নুর আমিনের দোকানের কর্মচারী ছিলেন শাহীনুর।
স্ত্রী শেফালী খাতুন বলেন, খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ৬ মাস ধরে বিছানায় পড়ে আছে স্বামী। টাকার অভাবে ঠিকমত ওষুধ কিনতে পারছি না। তার রোজগারেই চলতো সংসার। ৬ বছরের ছেলেকে নিয়ে কোন মতে অর্ধহারে দিনাতিপাত করছি।
বাবা কফিল উদ্দিন জানান, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে অবসর নিয়েছি। জায়গা জমি যা ছিল তা বিক্রি করে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়ে এখন খুব অর্থকষ্টে আছি। বয়স জনিত নানা ব্যাধিতে আমারও জীবন করুন। সড়ক দুঘর্টনায় মুমূর্ষু ছেলেকে চোখের সামনে দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। পেশায় শিক্ষক ছিলাম বলে চক্ষু লজ্জায় কারো কাছে সাহায্য চাইতেও পারছি না। কীভাবে ছেলেকে সুস্থ্য করবো সে সামর্থ নেই, বিষয়টি যদি সরকার সুনজর দিতো তাহলে চির কৃতজ্ঞ থাকতাম।
প্রতিবেশী আব্দুল জব্বার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় শাহিনুর প্রাণে বাঁচলেও অসচেতন অবস্থায় দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বিছানায় কাটছে তার জীবন, তা খুব কষ্টকর। সবাই যদি একটু সহযোগিতা করতো, তাহলে চিকিৎসা করানো যেতো।
গতবছর ১৪ অক্টোবর বুধবার রাতে দেবনগরের বালুবাড়ি এলাকায় তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় মহাসড়কে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। পাথর ব্যবসায়ীক কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন নুর আমিন (২৬) ও শাহীনুর। হঠাৎ অজ্ঞাত এক গাড়ি চাপায় ঘটনাস্থলে মারা যান ব্যবসায়ী নুর আমিন।গুরুতর আহত হয় শাহীনুর। গুরুতর আহতাবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রংপুর মেডিকেলে প্রাণে বেঁচে গেলেও মস্তিস্ক দুর্ঘটনায় কোমায় চলে যায় শাহীনুর। রোগীর স্বাভাবিক জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত কোন কিছু করা সম্ভব নয় বলে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলেছেন চিকিৎসকরা।
এব্যপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহসীন-উল হক জানান, আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছি। বিত্তবান দানবীর সবাই মিলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে পরিবারটি উপকৃত হবে।r

 

0 Shares