Home » জাতীয় » ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ১২ দিনে ৪ খুন আটক হচ্ছে না আসামি, মানুষের মাঝে ক্ষোভ

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ১২ দিনে ৪ খুন আটক হচ্ছে না আসামি, মানুষের মাঝে ক্ষোভ

আব্দুল হাই,ঝিনাইদহ থেকে :
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে ১২ দিনের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ ৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব খুনের ঘটনায় কোন আসামি গ্রেফতার হচ্ছেনা। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। খুন হওয়া গ্রাম গুলোতে মামলা ও পূনরায় হামলা হওয়ার আশঙ্কায় একটি পক্ষের বাড়িঘর পুরুষ শূন্য রয়েছে। আতংকে রাত কাটছে বাড়ির মহিলা ও শিশুদের। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জানিয়েছেন, সামাজিক আধিপত্য,সংঘাত ও হত্যাকা-ের ইন্ধন দাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার না হওয়ায় এলাকায় অপরাধ অব্যাহত ভাবে রেড়েই চলেছে।
গত ২৯ এপ্রিল উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আরাফাত প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে খুন হন। কুষ্টিয়া রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিল আরাফাত। তাদের নিজ বাড়ির সীমানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতি পক্ষের লাঠির আঘাতে ঘুন হয় সে। এ হত্যাকা-ের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
গক ৩ মে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নে সুবিদ্দা গোবিন্দপুর গ্রামে সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে জোয়াদ আলী (৪৫) নামে এক মুদি দোকানদারকে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। নিহতের স্ত্রী চায়না খাতুন জানান, তার স্বামী বাড়ির সামনে মুদি দোকানে ব্যবসা করতেন। ২ মে দিবাগত রাতে কে বা কারা তার দোকানের সামনে মলত্যাগ করে যায়। মল দেখে সে চিৎকার শুরু করে। এ নিয়ে প্রতিবেশী হায়দার ও ইউপি মেম্বর খেলাফৎ মোল্লার সাথে তার বাক বিত-া হয়। এক পর্যায় সামাজিক বিরোধের জের ধরে খেলাফত মেম্বারের নেতৃত্বে ১০/১২ জন হামলা চালিয়ে তাকে মারপিট করে।

এতে তার স্বামী আহত হন। তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এ মামলার আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
গত ১১মে কাঁচের কোল ইউনিয়নের ধুলিয়াপাড়া গ্রামে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্র লোকমান হোসেন ম-লের ছেলে অভি (২৬) ও মনজেল ম-লের ছেলে লাল্টু(৪৮)। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের খাঁ এবং ম-ল গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার আগের দিন ধুলিয়া পাড়া গ্রামে সামাজিক দল কুদ্দুস খাঁ গ্রুপের আবেদ আলী খাঁ নামের এক ব্যক্তি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। এসময় প্রতিপক্ষ মকবুল মহুরী (ম-ল) গ্রুপের লোকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাপাতালে রেফার করে। এরই জের ধরে ১১মে সকাল ১১টার দিকে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন অভি ও লাল্টু। ঘটনার দিন গ্রামটিতে অভিযান চালিয়ে ঘুনের পর এক শ্রেণীর সুযোগ সন্ধানী বাড়িঘরে লুটপাট করা বেশ কয়েক জনকে আটক করে পুলিশ। তবে জোড়া খুনের সাথে জড়িত কোন আসামিকে এখনো পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

শৈলকূপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, এসব ঘটনার সঙ্গে সার্বিক আইন শৃঙ্খলার কোনো সম্পর্ক নেই। কয়েক দিনে তারা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। তিনি আরও জানান, আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

41 Shares