Home » জাতীয় » ঝিনাইদহে ৩ বছরের গ্যারান্টির রাস্তা এক বছরেই শেষ!

ঝিনাইদহে ৩ বছরের গ্যারান্টির রাস্তা এক বছরেই শেষ!

আব্দুল হাই,ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের “ তিন বছরের গ্যারান্টি দিয়ে বিশ্বমানের রাস্তা, পদ্মা সেতুর মতো মজবুত, ৭/৮ বছর স্থায়ী হবে” ইত্যাদি সব প্রতিশ্রুতির বাণী ও চটকদার বক্তব্য দিয়ে তৈরী করা ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার রাস্তা বছর না ঘুরতেই নষ্ট হওয়া শুরু হয়েছে। ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাস্তাটি এখন ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগ নিজস্ব টাকা ব্যয় করে মেরামত করছে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের আরাপপুর থেকে শেখপাড়া বাজার পর্যন্ত ৯.৫৫ কিলোমিটার এবং আরাপপুর ব্রিজ এপ্রোজ থেকে আল হেরা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৪.২২৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি নির্মাণ করে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে এই নির্মাণ কাজ শেষ করে। তবে করোনার ঢেউ শুরু হলে কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। পরে কিছু কাজ করেই লাপাত্তা হয়। ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের এসডি মুকুল জ্যোতি বসু জানান, বিভিন্ন কিলোমিটারে যে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে তার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। বিশেষ করে শৈলকুপার ভাটই ও শেখপাড়া অংশে চরম দুরবস্থা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, কাজ অসমাপ্ত রেখে গত এক বছর আগেই “আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন” চলে গেছে। তাদেরকে বহু চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠির জবাব পর্যন্ত দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা ভাঙ্গাচোরা রাস্তা মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখছি। এদিকে গত কয়েক মাস ধরেই ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের এসও গোলাম সারোয়ার ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাস্তা মেরামত করছেন। ঝিনাইদহ শহরের হামদহ ট্রাক টার্মিনাল এলাকার নতুন নির্মিত রাস্তার সাইট উঠিয়ে মেরামত করা হয়েছে। এ সব রাস্তা তিন বছরের গ্যারান্টি দিয়ে করেছিল আবেদ মনছুর কনস্ট্রাকশন। অথচ ওই রাস্তা ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগ গাঁটির টাকা ব্যয় করে ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে থাকাবস্থায় মেরামত করা হচ্ছে। এছাড়া নওগাঁর মেসার্স আমিনুল ইসলাম কনস্ট্রাকশনের নির্মিত নতুন রাস্তাটিও ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের যশোর-ট-১৩৬ নাম্বারের গাড়ি দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। এসও গোলাম সারোয়ারের নির্দেশে আলহেরা স্কুল থেকে লাউদিয়া, যুব উন্নয়ন অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান কলেজ পর্যন্ত মেরামত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এসও গোলাম সারোয়ার জানান, ঠিকাদার তো লাপাত্তা। তাদের বহুবার চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা চিঠির কোন জবাব দেয় না। তাই রাস্তা ঠিক রাখতে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মেরামত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, “আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন” কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে। অনেক পয়েন্টে তারা কাজ করেনি। তাদেরকে প্রচুর চিঠি দেয়া হয়েছে, কোন জবাব নেই। তিনি বলেন, প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে আমরা তাদের পেনাল্টি করার চিন্তা করছি। কারণ তাদের জমানত রয়েছে। সেই টাকা থেকে এখনকার মেরামতের ব্যয় কেটে রাখা হবে। এ ব্যাপারে “আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন” এর প্রজেক্ট ম্যানেজার এ,এ মামুন খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, একটি কাজ করলেই নষ্ট হতে পারে। নষ্ট হলে আমরাই করে দেব। কিন্তু আমাদের তো সেটা জানাতে হবে। তিনি বলেন, ঝিনাইদহ সওজ বিভাগ আমাদের যে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে তা আমরা পাইনি। মেরামতের সময় কেন বলেছিলেন ৩ বছরের গ্যারান্টির কথা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন আমি এখন আর “আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন” গ্রুপে নেই। নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি।r

0 Shares