Home » জীবনধারা » টং ঘরে][ ট্যাগ ঘরের গল্প •••

টং ঘরে][ ট্যাগ ঘরের গল্প •••

খামার বাড়ির টং ঘর। রং ঢং করে যে জীবন চলে যাচ্ছে টং ঘরে । কাল গিয়েছিলাম খামার বাড়ির টং ঘরে । কিছু ক্ষণ ছিলাম চির সবুজের পত্র পল্লবে ফুলের সৌরভ নিতে ।

ভরদুপুর
সূর্যটা তখন কিরণ ছেড়ে যেন অগ্নিমূর্তি। মেজাজ চড়ে আছে । টং ঘরে গিয়ে ঠাণ্ডা হাওয়ায় গায়ের রংটা আরো ভ্রু- কুচকুচে কৃষ্ণবর্ণে হয়ে গেছে । তারপরেও যেন স্বস্তি ।


যাইহোক টং ঘর এবং ট্যাগ ঘর এ দুটো শব্দের সাথে এ প্রজন্মের সন্তানরা পরিচিত নন। আমাদের দেশে টং ঘর সাধারণত মাটির উপর বাঁশ পুঁতে টং ঘর নির্মাণ করা হতো। ক্ষেত খামারে । বড় বড় শষ্য ক্ষেত খামারে । বিশেষ করে নদীর বুকে জেগে উঠা চরে। সেখান পালা ঘরে কৃষকের পরিবারের কোন কোন না কোন সদস্য অবস্হান করত । পশু পাখি চোর, চামচা থেকে ফসল রক্ষার জন্য যে ঘরে বসে কর্তব্য পালন করা হতো। তাকে সাধারণত টং ঘর বলা হত । এখন টং ঘর নাম দিয়ে অনেক রেস্টুরেন্ট দোকান পাটও চালু আছে ।
আর ট্যাং ঘর হচ্ছে মূলত সার্ভিস সেন্টার ( Services Center) দেড় থেকে দু’শ বছর আগে আমাদের দেশে অহরহ ট্যাগ ঘর ছিল । বিশেষ করে মানুষ যখন পদব্রজ পদ্বতিতে জীবনযাপন করতেন । আমাদের চট্টগ্রামে উত্তর ও দক্ষিণে বহু ট্যাগ ঘর ছিল । তখন এ সব ঘর গুলো নির্মাণ করত মূলত স্ব স্ব এলাকার জমিদার সম্প্রদায় । ট্যাগঘরের পাশাপাশি বড় বড় পুকুর বা দীঘি থাকত। দুর পাল্লার মানুষগুলো যখন পায়ে হেঁটে এক স্হান থেকে অন্য স্হানে যেত তখন এ ট্যাংগ ঘরে অবস্হান করে রাত্রি যাপন করত। পুকুর বা দিঘিতে স্নান করত । ধর্মীয় কর্ম সম্পাদন করত। আমাদের উত্তর চট্টগ্রামে অর্থ্যাৎ কর্ণফুলীর পাড় লাইক চৌধুরী হাট / লাম্বুরহাট থেকে ফটিকছডি খীরম পর্যন্ত অনেক ট্যাগ ঘর ছিল । এ সব আধা পাকা ছিল বেশির ভাগ। হিন্দু / মুসলিম সম্প্রদায়ের জমিদারিভুক্ত জনগোষ্ঠীর , তা মানুষের সুবির্ধার্থে ট্যাগ ঘর নির্মাণ করত।


আমেরিকায় ও ট্যাগ ঘর রয়েছে । তাদের ভাষায় এটিকে সার্ভিস সেন্টার বলে । দূর পাল্লার যানবাহন চলাচলে সড়ক পথে কিংবা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যেতে এই ট্যাগ ঘরের আশ্রায় নিতে হয়। ধরুন সড়ক পথে নিউ ইয়র্ক থেকে বাফেলো যেতে ৬/৭ টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে । যেখানে যাত্রী বা পর্যটকরা কিছু সময়ের জন্য রেস্ট নেন এবং চা কফি সহ প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেন। যেমন বাংলাদেশের রয়েছে যাত্রা বিরতির স্হান । (Syeed Mahamud Taslim -এর ফেসবুক থেকে )

0 Shares