Home » প্রধান খবর » ডিমলায় সরিষা চাষ, হলুদের সমারহো

ডিমলায় সরিষা চাষ, হলুদের সমারহো

 

মোঃ বাদশা সেকেন্দার ভুট্টু, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ ডিমলা উপজেলার দশটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে দুচোখ যতদূর যায় হলুদ আর হলুদ। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে চারিদিকে ভরে গেছে উপজেলার দশটি ইউনিয়নের গ্রামের পর গ্রাম। সরিষা ফুলের সমারোহ ফসলের মাঠে ছড়াচ্ছে নান্দনিক সৌন্দর্য্য আর সরিষা ফুলকে ঘিরে মৌমাছি ও প্রজাপতিরা মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। ডিমলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় ২০২১-২২ অর্থ বছরের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন এবং রবি মৌসুমে প্রণোদনার কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ১১০০ কৃষকের মাঝে মাঝে সরিষা বীজ সহ সার বিতরণ করা হয়। সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হয়েছেন সরিষা চাষে। বৃহষ্পতিবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুর দুইটায় উপজেলার সুন্দর খাতা, বালাপাড়া, উঃতিতপাড়া, খগাখড়িবাড়ী, পশ্চিম ছাতনাই, গয়াবাড়ি সহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় বিস্তীর্ণ মাঠে দুচোখ যতদূর যায় ততদূর সরিষা ফুলে হলুদের সমারোহ। মধ্যম সুন্দর খাতা গ্রামের স্থানীয় কৃষক মাহামাদুল হক জানান, তিন বিঘা জমিতে সরিষা বুনেছেন সরিষার গাছ ও ফুল ভালো হয়েছে । সঠিক পরিচর্যা করলে আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে এবং লাভের মুখ দেখবেন বলে জানান। কৃষক আশরাফ আলী জানান আমি বিনা সরিষা-৯ চাষ করেছি। ফুল ও ফল ভালো হয়েছে। সরিষা চাষে তেমন কোন খরচ হয় না হালচাষ, সার, বীজ এবং হালকা সেচ তাই অন্যান্য আবাদের চেয়ে খরচ কম। সরিষা থেকে আমরা ভালোমানের তেল সংগ্রহ করতে পারব সেই সাথে সরিষা তুলে বোরো ধান অথবা ভুট্টা রোপন করতে পারব। আমার সরিষা ক্ষেত দেখে এ এলাকার অন্যান্য কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট সরিষা বিক্রি করে সংসার চালাতে কোন অসুবিধা হবে না।

 

আরও পড়ুন :

ডিমলায় সাংবাদিকের সাথে আলোচনা সভা

ডিমলায় দুবৃর্ত্তের ছুরিকাঘাতে এক ব্যবসায়ী নিহত

 

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সেকেন্দার আলী বলেন, তেল জাতীয় ফসলের আবাদ ও উৎপাদান বৃদ্ধির জন্য দশটি ইউনিয়নে রবি মৌসুমে প্রণোদনার কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সরিষা বীজ,সার দিয়ে উদ্ধুদ্ধকরণ ও মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করছে । ডিমলা উপজেলায় দশটি ইউনিয়নে ৭ হাজার ৬৫ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হলেও অর্জন হয়েছে ৭ হাজার ৬০ হেক্টর জমি। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ সহিদুল ইসলাম জানান আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সরিষা চাষে কৃষকরা লাভের মুখ দেখবে। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার নাজমুল হক বলেন, ডিমলা উপজেলা কৃষি অফিস হতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে ।

0 Shares