Home » জীবনধারা » তেঁতুলিয়ায় ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন বৃদ্ধ দম্পত্তির

তেঁতুলিয়ায় ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন বৃদ্ধ দম্পত্তির

 

জাবেদুর রহমান জাবেদ, তেঁতুলিয়া ( পঞ্চগড়) : পল্লী কবি জসীম উদদীনের বিখ্যাত আসমানি কবিতার লাইন গুলো যেন ফুটে উঠেছে তেঁতুলিয়ার এক বৃদ্ধ দম্পত্তির জীবনে। ঝুপরি ঘরেই বসবাস তাদের। অভাব অনটন আর এক বুক জ্বালায় ঝেঁকে বসেছে পরিবারটিকে। রাতে ছেড়া কাঁথা আর শাড়ি মুড়ায়ে ঘুমায় তারা।

আরও পড়ুন :

তেঁতুলিয়ায় গাঁজা গাছসহ ব্যবসায়ী আটক

তেঁতুলিয়ায় কোভিট-১৯ টিকাদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

 

উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের গড়াগছ গ্রামের কফিলউদ্দীন (৭০) ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম দম্পত্তির বাড়ির দৃশ্য। বেশ কয়েক বছর থেকে বিভিন্ন রোগে শোকে বেঁচে আছে তারা। এ যেন অন্য এক মানবেতর জীবন যাপন কফিল উদ্দিনের। কনকনে শীত আর ঠাণ্ডা বাতাস থেকে মুক্তি পেতে শাড়ির আঁচল আর ছেড়া কাঁথাই যেন তাদের শান্তির পরশ। সামনে বর্ষায় তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নিয়ে চিন্তায় ভুগছে ওই দম্পতি ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা বেড়া জরাজীর্ণ পলিথিন মোড়ানো ঝুপড়ি একটি ছোট্ট শোয়ার ঘর সামান্য দূরে দিনমুজুর ছেলের ঘর । পাশে অ-স্বাস্থ্যকর টয়লেট। পড়নে হালকা পাতলা শাড়ি, ঠাণ্ডায় সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। শত কষ্টের মাঝেও বেঁচে থাকতে চায় তারা। সংসারের অভাব অনাটনের কারণে একমাত্র সন্তানকে পড়ালেখা করতে পারেন নাই। বিয়ে করে দুই সন্তানের জনক। তাই সে দিনমুজুর হিসেবে অন্যের বাড়িতে কাজ করে থাকে।

ছেলে শরিফুল জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৭/৮ বছর আগে একটি ঘর তৈরি করেছি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা,বাবা, স্ত্রী সন্তানসহ ৬ সদস্যের পরিবার চালাতে হয়। যেখানে খাবার টাকাই জুটেনা সেখানে ঘর মেরামত করার মত কোন টাকা পয়সা পাবো কোথায়। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে আমার। আমার বাবা শীত সহ্য করতে না পেরে রাতে ছেড়া কাঁথা শাড়ির আঁচলে ঘুমায়। রাতে শীতের যন্ত্রণায় আমার মা বাবার ঘুম হয় না। সরকার আমার বাবাকে একটি ঘর দিলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকব।

কফিল উদ্দিন জানান, মুজিব শতবার্ষিকীতে ভূমিহীনদের ঘর বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই ঘর জুটেনি আমার ভাগ্যে। আমার কোন সহায় সম্পত্তি নেই, মাত্র ৩ শতক জমির উপর পলিথিনে মোড়ানো কুঁড়ে ঘরে আছি। আর সন্তানের প্রতিদিনের রোজগারের টাকায় আমার ওষুধসহ সংসারের অন্যান্য খরচ চলে। কফিল উদ্দিন কেঁদে কেঁদে বলেন, আমরা অনেক সময় ৩/৪ দিন পর্যন্ত না খেয়েও দিন কাটাই। কিন্তু কোন ব্যক্তিকে আমাদের কষ্টের কথা বুঝতে দেই না, আর বলেই বা কি লাভ। কোন ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের সহযোগিতা করে নাই। মুজুরি দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয় না।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তারেক হোসেন জানান, কফিল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়েছিলাম । দেখেছি উনি একজন অসহায় মানুষ, উনাকে সরকারি ভাবে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে । বরাদ্দ আসলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে বলে আশা করছি।

এব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, আমরা তো এমন পরিবারই খুঁজে থাকি। যেখানেই এমন অসহায় লোক আছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি ঘর নির্মাণ করে দিয়ে থাকি। কফিল উদ্দিনকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।(r)

0 Shares