Home » সারাদেশ » দুই কিশোরীকে মদ ও যৌন উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করে

দুই কিশোরীকে মদ ও যৌন উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করে

 

নিউটার্ন ডেস্ক:  ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার। রাত আনুমানিক ৮টা। গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন টঙ্গী বাজার এলাকায় বসবাসরত ফুফাতো ভাই মো. জয়নাল মিয়া (৩২)-র সাথে দেখা করতে আসে দুই কিশোরী। তাঁদের একজনের বয়স ১৭, একজনের ১৮। টঙ্গী বাজার আসার পর তাঁরা জয়নাল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পেলে তুরাগ নদীর পাশে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। তখন তাঁদের একা দেখে সেখানে হাজির হয় মো.নাঈম (২২), মো. রাসেল, মো. শরীফসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন। এ সময় তারা তাদের সাথে যাওয়ার জন্য দুই কিশোরীকে বলে এবং তাঁরা রাজি না-হওয়ায় তাঁদের চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

পরবর্তীতে অপরাধীরা দুই কিশোরীকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তিসংলগ্ন পিংকী গার্মেন্ট এর পেছনে দক্ষিণ পাশে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ভিকটিম (১৮) বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১ এর একটি বিশেষ তদন্তদল। ধর্ষণকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে তদন্তদলটি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং অভিযানের প্রস্তুতি নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত সাড়ে ১১টার সময় র‌্যাব ১ এর আভিযানিক দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তিসংলগ্ন কবরস্থানের পাশে অভিযান চালিয়ে বর্ণিত ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আসামি মো. শরীফ (২২) ও মো. মমিন মিয়া (২৪) কে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গতকাল ভিকটিম কিশোরী (১৮) ও তার ছোট বোন কিশোরী (১৭) দুজনকে আটক আসামি শরীফ ও মমিন এবং পলাতক সহযোগী নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন ও আরাফাত মিলে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। এর আগে তারা দুই কিশোরীকে তুরাগ নদীর পাড় থেকে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে টঙ্গী ইজতেমা মাঠের নির্জন জায়গায় নেয়। আসামিরা প্রথমে জোরপূর্বক ভিকটিমদ্বয়কে দেশীয় চোলাই মদ এবং মদের সাথে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খাওয়ায়। পরবর্তীতে ভিকটিমদ্বয় যখন স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তখন সকল আসামি মিলে তাঁদের উপর্যুপরি জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় ভিকটিমদের চিৎকারে আশপাশের এলাকার লোকজন জড়ো হলে আসামিরা দুই ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আটককৃতরা আরো জানায়, আসামি শরীফের টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ১ নম্বর গেটের পাশে একটি মুদি দোকান আছে। সে দীর্ঘ ৮/৯ বছর যাবৎ সেখানে ব্যবসা করে। আসামি মমিন ৬/৭ বছর যাবৎ আব্দুল্লাহপুর মাছের আড়তে ব্যবসা করে। পলাতক আসামি নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন ও আরাফাত তাদের বন্ধু।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।

নিউটার্ন.কম: /AR

33 Shares