Home » জাতীয় » দেশের রাষ্ট্রিয় চিনিকলগুলোর আর্থিক সংকট চরমে!

দেশের রাষ্ট্রিয় চিনিকলগুলোর আর্থিক সংকট চরমে!

 

বর্তমানে রাষ্ট্রিয় মালিকানাধীন চিনিকলগুলো ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণগ্রস্থ। কলগুলোতে আয়ের চেয়ে ব্যয় অত্যাধিক হওয়ায় ক্রমাগত লোকসানের বোঝা বাড়ছে, ফলে চিনিকলগুলোর সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) পক্ষ থেকে জানান হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোব) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৫ম বৈঠকে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান অজিত কুমার পাল এ সব কথা বলেছেন বলে বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অজিত কুমার পাল আরো বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করার ব্যবস্থা ও ট্রেডগ্যাপের কারণে ১২৭০ কোটি টাকা অর্থমন্ত্রণালয়ের নিকট পাওনা। যেটা দিলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। এছাড়া দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় চিনিকলগুলো পদশুন্য হয়ে যাচ্ছে। কৃষককে সময় মতো আখের মূল্য পরিশোধ না করতে পারায় উৎপাদনে মনোযোগী হচ্ছেন না তারা। ফলে আখের স্বল্পতা, পুরনো মেশিনারিজ, অদক্ষ জনবলের জন্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে লোকসান বাড়ছে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের চিনির চাহিদা ১৬ লাখ টন। ১ লাখ ৪০ হাজার টন সুগার করপোরেশন উৎপাদন করে। অবশিষ্ট প্রাইভেট সেক্টর উৎপাদন করে বা আমদানী হয়। প্রাইভেট সেক্টরের কারণে সুগার করপোরেশনের মিলগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া এবং ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জায়গায় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি বিদ্যুৎপ্লান্ট করার প্রস্তাব ছিল। এখনো করা সম্ভব হলে চিনি শিল্পের আর ঋণ করার প্রয়োজন হবে না।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, চিনিকলগুলোর নানাবিধ সমস্যা রয়েছে, এসব অনেক পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে চলে, সময় মত কাঁচামাল পাওয়া যায় না ইত্যাদি । এসব সমস্যা চিহ্নিত হচ্ছে, এখন সমাধানের চেষ্টায় সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে।

কমিটির সদস্য মো. সাহিদুজ্জামান বলেন, চিনিকলগুলো একত্রিত করে নতুনভাবে সাজানো দরকার । চিনিকলগুলো শ্রমিক-কর্মচারীরা তিন মাস কাজ করে বাকি ৯ মাস বসে কাটায়। তাদের সরকারের বোঝা হিসেবে টানতে হয়। কেরু এন্ড কোম্পানির মতো নতুন শিল্প সংযুক্ত করে সারা বছর যাতে চিনিকলগুলোর শ্রমিকরা কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে কর্মকর্তারা বিদেশে গিয়ে যদি অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে না পারে তাহলে অর্থ অপচয় না করাই ভালো। রাষ্ট্রীয় শিল্পগুলোর সম্পদ রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানান তিনি।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার চিনি শিল্পে অসৎ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপসারণ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিনা কাজে ওভারটাইম দেয়া বন্ধ করতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকায় অনেক ব্যবসায়ী শিল্পপতি লোন সহকারে বিনিয়োগ করতে চায়। সুগার মিলে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং ২ শতাংশ হারে ঋণ দিতে আগ্রহী। তারা মন্ত্রণালয়ের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ার কারণে ফিরে যায়। মাসের-পর-মাস ফাইল কর্মকর্তার টেবিলে থাকে। ‘ইয়েস’ ‘নো’ যাই হোক যথাসময়ে ফাইল ছেড়ে দিতে হবে। বেসরকারি সুগারমিলগুলো লাভ করতে পারলে সরকারি সুগারমিল লাভ করতে পারবে না কেন? একই ব্যক্তির বার বার বিদেশ সফর করা বন্ধ করা দরকার। এজন্য সচিব থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যন্ত সকলের কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের কার্যক্রমের পরিধি আরো বাড়াতে এবং গতিশীল করতে সুপারিশ করে কমিটি। বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) থেকে উৎপাদিত পণ্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্যবহারের সুপারিশ করে কমিটি।

 

নিউটার্ন.কম/RJ

28 Shares