Home » জাতীয় » নওগাঁয় বিধবাকে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

নওগাঁয় বিধবাকে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

 

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে এক বিধবা মহিলাকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে বাড়ি ভাংচুর ও তাদের জমি দখল করে ঘরের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ এপ্রিল সোমবার সকালে উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের সুলতানপুর মন্ডল পাড়ায়। মারপিটের ঘটনায় বিধবা নুরজাহান গুরুতর আহত হলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। এ বিষয়ে ওই মহিলার ছেলে মোঃ রাকিব হোসেন বাদি হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী মৃত মঞ্জু রহমানের পুত্র মোঃ মাসুদ রানা, মৃত বছির উদ্দীনের পুত্র মোঃ সিদ্দিক হোসেন, মোঃ ফেরদৌস, মোঃ সাত্তার, মোঃ ফেরদৌসের পুত্র মোঃ শামিম, মোঃ সাত্তারের পুত্র মোঃ সজীব, মৃত মঞ্জু রহমানের কন্যা নাছরিন, ফেরদৌসের কন্যা মোসাঃ শারমিন, সিদ্দিকের কন্যা সীমাসহ প্রায় ৩০-৩৫ জন লোক বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই বিধবার বাড়ি ভাংচুর করে বাড়ির জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে দেয় এবং তাদের থাকার ঘর তালাবদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনায় বিধবা নুরজাহান ও তার মেয়ে কুমকুম বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে মারপিট করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে জোরপূর্বক জায়গা দখল করে বাড়ির প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করে। পরে পুলিশ গিয়ে প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিলেও অদৃশ্য শক্তির জোরে তারা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বিধবা নুরজাহান।
বুধবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সাংবাদিক আসার খবরে মিস্ত্রিরা কাজ ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার সিনথী, ইশরাত জাহান ও আব্দুল জলিলের স্ত্রী এসলেমা জানান, প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, ওই বিধবার জমির প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের লোভ। ঘটনার দিন সকালে তারা নুরহাজান ও তার মেয়ে কুমকুমকে মারপিট করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে জোরপূর্বক ইটের প্রাচীর নির্মাণ করেন এবং ওইদিন রাত প্রায় ১২ টা পর্যন্ত তারা ওই প্রাচীর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান।
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত মাসুদের নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার এস আই মোঃ এমদাদুল হক জানান, শরিকান সম্পত্তি স্থানীয় লোকজন ভাগবাটোয়ারা করে সীমানা নির্ধারণ করে দিলে বিবাদীরা সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করতে যায় কিন্তু ওই মহিলা সেই মাপজোক মেনে নেয়নি। তাদেরকে মারপিট ও গাছের সাথে বেঁধে রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি গিয়ে কাউকে বেঁধে রাখা দেখিনি।

0 Shares