Home » জাতীয় » নির্মলেন্দু চৌধুরী নৌকা প্রতীকে ৯০৩২ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে নির্বাচিত
খাগড়াছড়ির ভোট : আ’লীগ ও বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নির্মলেন্দু চৌধুরী নৌকা প্রতীকে ৯০৩২ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে নির্বাচিত

লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী ও বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো: রফিকুল আলমের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে পৌরসভায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনা শেষে ১৮টি ভোট কেন্দ্রে খাগড়াছড়ি পৌর সভার নগর পিতা বা নির্বাচিতরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী নৌকা প্রতীকে ৯হাজার ৩২ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো: রফিকুল আলম মোবাইল প্রতীকে ৮হাজার ৭শত ৪৯ভোট পান। বিএনপির ইব্রাহিম খলিল ধানের শীষ প্রতীকে ৪হাজার ৩শত ৮ভোট, জাতীয় পার্টির ফিরোজ আহম্মেদ লাংগল প্রতীকে ১শত ৮ভোট। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচন জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার রাজু আহম্মেদ বে-সরকারিভাবে নির্বাচিতদের ঘোষণা দেন এবং ৬০.২৬শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বলে তিনি জানান।
শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে শালবন এলাকার টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল আলম উপস্থিত হলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রেহিী মেয়র প্রার্থী রফিকুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ভোটের আগের রাত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর লোকজন পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে।
অপর দিকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো: ইব্রাহিম খলিল বলেন, ভোটাররা আতংকের মধ্যে ভোট দিয়েছে।
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় সকাল ৮টায় উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ১৮টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। ভোটকেন্দ্রে মানুষের ঢল নামে। তবে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি।
পৌরসভায় সব ক’টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে ভোটার বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। র‌্যাব ও বিজিবি’র স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিলো। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রেই একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়। সে সাথে নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয় পুরো শহর। এবার প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
সকাল থেকেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই চললেও দুপুরের পরে সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে ভোট গ্রহণ করা হয়। সকাল বেলা খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শণে দেখা যায় ভোটাররা ভোট প্রদানে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪০জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভোটার সংখ্যা ৩৭হাজার ৮৭জন। নারী ভোটার ১৬হাজার ৭শ ৩৬জন এবং পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২০হাজার ৩শ ৫১জন। ১৬ জানুয়ারী শনিবার চলেছিল খাগড়াছড়ি পৌর সভার ভোট গ্রহণ। চলে বিকেল ৪ঘটিকা পর্যন্ত। খাগড়াছড়ি পৌরসভায় ভোট কেন্দ্র ১৮, আর বুথ ১০৯টি।

 

0 Shares