Home » আন্তর্জাতিক » প্রায় দুমাস বন্ধ থাকার পর ফের পর্যটকদের জন্য খুলল জম্মু ও কাশ্মীর!

প্রায় দুমাস বন্ধ থাকার পর ফের পর্যটকদের জন্য খুলল জম্মু ও কাশ্মীর!

 

নয়াদিল্লি: বন্ধ হওয়ার প্রায় ২ মাস পর, বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটকদের জন্য ফের খুলে গেল জম্মু ও কাশ্মীর। ‘সন্ত্রাসের আশঙ্কার’ জেরে পর্যটকদের উপত্যকা ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল প্রশাসন। সোমবার, রাজ্যের সার্বিক সুরক্ষা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যসচিব ও বিভিন্ন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। এরপরই পর্যটকদের জন্য রাজ্যের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
গত ২ অগাস্ট, অমরনাথ যাত্রাকে বাতিল করে কেন্দ্র। একইসঙ্গে, পর্যটক ও পূন্যার্থীদের উদ্দেশ্যে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে দ্রুত ফিরে যাওয়ার নির্দেশিকাও জারি করে কেন্দ্র। নির্দেশের নেপথ্যে উপত্যকায় সম্ভাব্য সন্ত্রাস হামলার আশঙ্কাকে দেখানো হয়। এর তিনদিন পরই জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্র।
পর্যটকদের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি, উচ্চ-বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। শ্রীনগরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীপ্রতাপ কলেজের গেটে দেখা যায় নিরাপত্তারক্ষীরা পরিচয়-পত্র দেখে ক্যাম্পাসে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছেন।
গত ৫ অগাস্ট, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভেঙে ২টি পৃথক কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চল– জম্মি-কাশ্মীর ও লাদাখ গঠন করে কেন্দ্র। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যে যাতে কোনওপ্রকার অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে তার জন্য রাজ্যজুড়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়। পরে, গত ২ মাসে ধাপে ধাপে নিষেদাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
গত অগাস্ট মাস থেকে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) সভাপতি ফারুক আবদুল্লা ও তাঁর ছেলে ওমর এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছিল। একইভাবে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী, বিচ্ছিন্নতাবাদী, স্বেচ্ছাকর্মী, আইনজীবী সহ হাজার খানেক মানুষকে কার্যত গৃহবন্দি রাখা হয়েছিল।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তাঁদের ওপর জারি হওয়া সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত ৬ তারিখ দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ফারুক। একইভাবে, মু্ক্তি দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন পিডিপি বিধায়ক ইয়াবর মির, কং নেতা নূর মহম্মদ ও এনসি কর্মী শোহেব লোন-কেও।
তবে, মুক্তির আগে, তিনজনকেই বন্ডে সই করে অঙ্গীকার হতে হয়েছে যে, উপত্যকায় শান্তি বিঘ্নিত হয়, এমন কোনও কাজ তারা করবেন না। এর আগে, পিপলস কনফারেন্স নেতা ইমরান আনসারিকেও বন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিকে, আগামী ২৪ তারিখ ব্লক উন্নয়ন পরিষদের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। যদিও, কংগ্রেস এই নির্বাচনকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গুলাম আহমেদ মির বলেন, কংগ্রেস বরাবর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করার পক্ষপাতী। কখনই, কোনও নির্বাচন থেকে পিছিয়ে আসেনি। কিন্তু, প্রশাসনের এই উদাসীন মনোভাব এবং উপত্যকার রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের আটকে রাখার প্রতিবাদে বাধ্য হয়ে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

নিউটার্ন.কম/RJ

6 Shares