Home » আন্তর্জাতিক » ফুরিয়ে আসছে পাসপোর্ট বই

ফুরিয়ে আসছে পাসপোর্ট বই

 

নিউটার্ন ডেস্ক
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রাযুক্তিক উন্নয়নের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ জন্য গত বছরের জুলাই মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তিকালে শর্ত ছিল, ৬ মাসের মধ্যে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু করতে হবে। সে হিসাবে গত জানুয়ারি থেকেই তা চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। এর পর সরকার আরও ৬ মাসের সময় নিয়ে ঘোষণা দেয়, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী শুরু হবে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম। কিন্তু সে সময়ও পেরিয়ে গেছে দুমাস আগে; ৬ মাসের স্থলে ১৪ মাস

হয়ে গেলেও এখনো শুরু করা যায়নি কার্যক্রম। শিগগির শুরু হবে বলেও নিশ্চিত করতে পারছেন না কেউ। এদিকে ই-পাসপোর্টের আশায় মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মজুদও ছিল সীমিত যা দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে। বর্তমানে যে পরিমাণ এমআরপি মজুদ আছে, তাতে বড়জোর মাসখানেক চলতে পারে। এর পরই পাসপোর্টের সংকট শুরু হয়ে যাবে। এতে করে কাজের উদ্দেশে প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের খুবই সমস্যা হবে।

ই-পাসপোর্ট চালুর জন্য গত বছরের জুলাইয়ে জিটুজি পদ্ধতিতে জার্মানির প্রতিষ্ঠান ভেরিডোজের সঙ্গে সরাসরি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ৬ মাস পর ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, ই-পাসপোর্ট চালু করতে হলে এমআরপির সফটওয়্যারের সঙ্গে এর সফটওয়্যারের ইন্ট্রিগেশন করতে হবে। এ পর্যন্ত এটি সম্পন্ন হয়নি। চুক্তির পর ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এখনো ডেটা সেন্টার ও পাসপোর্ট প্রিন্ট করার যন্ত্রপাতি বুঝে পায়নি পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্টেগুলোয় ৫০টি ই-গেট স্থাপন করার কথা। এ পর্যন্ত শুধু রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩টি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে; অবশিষ্ট ই-গেট এখনো আসেনি। বর্তমানে প্রকল্পের সার্বিক অবস্থাদৃষ্টে কবে নাগাদ ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু হতে পারে, তা কেউ বলতে পারছেন না।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালু না হওয়ায় এমআরপির সংকটে পড়তে যাচ্ছে দেশ। কারণ প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার পাসপোর্ট বই সরবরাহ করতে হয়। আর বর্তমানে মজুদ আছে ৩ লাখ বই। সে হিসাবে চলতি মাসেই মজুদকৃত বই শেষ হয়ে যেতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন প্রবাসীরা। এ সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ এমআরপি বই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু জরুরি ভিত্তির এসব বই নভেম্বরের আগে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে অক্টোবরে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের চাহিদা কীভাবে মেটানো হবে এ প্রশ্নের সমাধানে এরই মধ্যে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকও হয়েছে অধিদপ্তরে। উপায়ান্তর না পেয়ে সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আপাতত কাউকে পাসপোর্ট প্রদান করবে না অধিদপ্তর। নতুন বই না-আসা পর্যন্ত এ নীতিতেই চলবে প্রতিষ্ঠানটি।

ই-পাসপোর্টের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান। কবে নাগাদ ই-পাসপোর্ট চালু হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে সময় দেওয়া হলে আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি জানানো হবে। আর পাসপোর্ট বই সংকটের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

যথাসময়ে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম চালু না হওয়ায় অতিরিক্ত এমআরপি বই আমদানি করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকার। এ ছাড়া দেশের ৭২টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এবং ৮০টি মিশন থেকে একসঙ্গে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু করা না গেলে একই সময় দুই রকম বইয়ের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে সরকারকে। যদি তাই হয়, তবে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেড়ে যাবে।

চুক্তিকালে যে শর্ত ছিল, সে অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-পাসপোর্ট শুরু করতে না পারলে প্রকল্পের কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের তরফে দিতে হবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ। জানা গেছে, এ পর্যন্ত ভেরিডোজকে কারণ দর্শিয়ে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সোহায়েল হোসেন খান আমাদের সময়কে বলেন, ই-পাসপোর্ট চালু না হওয়ায় পাসপোর্ট বইয়ের কিছুটা সংকট থাকলেও তা প্রকট আকার ধারণ করবে না। ইতিমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ বই আমদানির অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আরও ২০ লাখ বই দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে।

ই-পাসপোর্ট কবে নাগাদ চালু হতে পারে, এমন প্রশ্নে মহাপরিচালক বলেন, দ্রুত চালু করতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

0 Shares