Home » Uncategorized » ফ্রান্স থেকে করোনালিপি ২৫

ফ্রান্স থেকে করোনালিপি ২৫

 

এক.
গরিব আর প্রকৃতির দীর্ঘশ্বাসকে অভিন্ন বলে মনে হয়। নতুন একটি চারা না লাগিয়ে পুরাতন বৃক্ষকে নিধন করলে মা মাটি কান্না করেন এবং পৃথিবীর মানুষকে অভিশাপ দেন। একইভাবে খেতে না দিয়ে কর্ম কেড়ে নিলে গরিব পৃথিবীর মানুষের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন।
করোনার অভিশাপের চেয়ে গরিবের দীর্ঘশ্বাস আরও ভয়ংকর ক্ষতিকর শক্তিশালী। মূলত গরিবরা মানুষ নয়, অার সকল প্রাণীর মতোই তাঁরা ভাষা ও অধিকারহীন জীবমাত্র। মানুষ তাঁদেরকে মারে, দয়া করে একটু পারিশ্রমিক দেয়, কখনও করুণা করে কিছু চাল ডাল আলু পেঁয়াজ দেয়, একটু রান্নাকরা খাবারও দেয়। করোনা ভাইরাস এসে গরিবকে লাঠি দিয়ে পেটানোর সুযোগ করে দিয়েছে, মানুষ তাঁদেরকে অসচেতন বলে গালাগালিও দিতে পারছেন।
তৃতীয় বিশ্বে গরিব হয়ে জন্ম নিয়ে যাঁরা শিক্ষাবঞ্চিত, সকল প্রকার অধিকারবঞ্চিত তাঁরা তো মানুষের ফাই ফরমাশ খাটবে, কোনও কোনও পুলিশ তাঁদের পিঠে হাতের সখ মেটাবে– এটাই স্বাভাবিক।

দুই.
যদি কিছু রোগী অসনাক্ত থেকে যান এবং যদি কিছু করোনা রোগীর সংখ্যা গোপনও করা হয় তবুও গত এক মাসের করোনা পরিস্থিতি দেখার নিরিখে বলছি– বাংলাদেশ ভারত নেপাল ভুটান শ্রীলংকাকে করোনা ভাইরাস তীব্রভাবে আক্রমণ করতে পারবে না। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক অবস্থার দিকে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে ভারতের অবস্থাও ভালো নয়।
আলাদা করে বলাটা একটু খারাপ দেখায়, তবুও বলছি। ফ্রান্সের উত্তর দিকে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, তুলনায় আলেস এবং দক্ষিণ ফ্রান্সের শহরগুলোতে সংক্রমণহার খুব কম। একই সঙ্গে বলা যায়, বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, নেপাল, ভুটান তুলনামূলক ভাবে খুব কম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
অল্প কিছু বাদে বেশিরভাগ বাঙালি করোনাভয়ে ভীত হয়ে ঘরে ঢুকে পড়েছে। ফলে, করোনা বাঙালিকে কাবু করতে পারবে না বলেই মনে করি।
প্যারিসে যখন করোনাক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল তখনও সাধারণ মানুষ খুব স্বাভাবিক ছিল এবং মাস্ক পরার কথা কাউকে বললে আমি নিজেই বিব্রত হতাম। উন্নত বিশ্বের মানুষ মানেই সব ব্যাপারে খুব সচেতন এটা ভাবার কোনও কারণ নেই।
ধরা যাক ২+২+৩+৪+৫+৩+৪+৬+০+৪ অথবা ৪০+৪৫+৫০+৬০+৬৫+৬৮+৭০+৭৪ এভাবে তিন সপ্তাহ অব্যাহত থাকলে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের দুর্ভাবনা খুবই কম। অতএব আরও এক সপ্তাহ একটু কম খেয়ে থাকলেও ঘরেই থাকুন, যদি সম্ভব হয় আরও সাত দিন বাজারমুখী না হওয়া আরও ভালো।
যাঁরা গরিব দিনশ্রমিক গৃহহীনদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন, সম্ভব হলে সেই সব সংগঠন উদ্যােক্তাদের কাছে আপনার ভালোবাসা পৌঁছে দিন।

সবার মঙ্গল হোক।

রবিশঙ্কর মৈত্রী
২৭শে মার্চ ২০২০
আলেস, ফ্রান্স

12 Shares