Home » জাতীয় » বহিরাগত ইস্যুতে রংপুর আওয়ামী লীগে আতঙ্ক: সরব ত্যাগীরা

বহিরাগত ইস্যুতে রংপুর আওয়ামী লীগে আতঙ্ক: সরব ত্যাগীরা

 

রংপুর প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে হাই কমান্ড। এ ঘোষণায় পর রংপুরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গদলগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কে বহিষ্কার হবেন বা কার নামে দলের হাইকমান্ডে অভিযোগ যাবে কিংবা ব্যবস্থা নেয়া হবে- এই নিয়েই মূলত দুশ্চিন্তায় অধিকাংশ নেতাকর্মী। একই সঙ্গে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে ৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারও করেছে দলটির হাই কমান্ড।
জানা যায়, নেতাকর্মীদের দাবির মুখে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত নগর আওয়ামী লীগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক টিভিএস মিজানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ, সহ-সভাপতি আজিজ ও নয়নকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ফলে ছাত্রলীগের মধ্যেও আতঙ্ক দানা বাঁধছে।
গত ২৬ অক্টোবর রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, দলের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক।
সভার শুরুতেই নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াতের অনেকে দলে অনুপ্রবেশ করেছে অভিযোগ তুলে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন কেন্দ্রীয় ও রংপুরের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
তাদের উপস্থিতিতে অভিযোগ আনা হয়, এক সময়ের চিহ্নিত বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রথম সারির নেতা বানানো হয়েছে। আর এর প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছেন রংপুরের কিছু শীর্ষ নেতা। তাদের দাপটে অতিষ্ঠ ত্যাগী নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতারা জানতে চান, কে কে আছেন এই তালিকায়। উপস্থিত অধিকাংশ নেতাই মিজানুর রহমান মিজানের (টিভিএস মিজান) বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।
মিজান মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষারকান্তি ম-লের আস্থাভাজন বলে পরিচিত। সভায় তাকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন জাহাঙ্গীর কবীর নানক। একই সঙ্গে দলে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে হাইকমান্ডে তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। কাদের ছত্রছায়ায় এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে তারও তালিকা চান নানক।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর কবীর নানকের এই নির্দেশের পর বদলে গেছে রংপুর আওয়ামী লীগের চিত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে এ নিয়ে। অনেকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছেন অনুপ্রবেশকারীদের নাম।
তারা বলেছেন, মূল দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীদের দাপটই বেশি। তাদের দাপটে দলীয় কার্যালয় তটস্থ থাকে। সিনিয়র ও ত্যাগীদের অপমান-অপদস্থ করতেও কুণ্ঠা বোধ করেন না তারা। আওয়ামী লীগের নেত্রী ও রংপুর জিলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাফিয়া খানমকে অপমানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন কেউ কেউ।
সূত্রটি জানায়, বিভাগ ঘোষণার পর রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি দেয়া হয়। এই কমিটিগুলোতেই নিজ গ্রুপের পাল্লা ভারি করতে অনেক নেতা অন্য দলের নেতাকর্মীদের দলে নেন।
জানা গেছে, আগামী ২৬ নভেম্বর রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাকে ঘিরেও মূলত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠছে। কোনো অনুপ্রবেশকারী যাতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য হতে না পারেন, সেই বার্তা চায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
রংপুর জেলা ও নগর আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, দলের হাইকমান্ড এবং স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের চাপের মুখে অনুপ্রবেশকারী এবং হাইব্রিডদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শুদ্ধি অভিযানের বিষয়ে হাইকমান্ড থেকে কোনো চিঠি যদিও এখনো পায়নি রংপুর আওয়ামী লীগ, তবে তারা কাজ শুরু করেছেন বলে জানান রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষারকান্তি ম-ল। তিনি বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের পর যারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গদলে প্রবেশ করেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু জানান, ‘বিগত সম্মেলনেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি এবং এটা অব্যাহত আছে। এর পরও যদি কেউ থেকে থাকে, অভিযোগ পেলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। সত্যিকারের দলীয় নেতাকর্মীদের এবারের কাউন্সিলর অধিবেশনে পদায়ন করা হবে।

0 Shares