Home » আন্তর্জাতিক » বাংলাদেশ জিততে পারত যে টি-টোয়েন্টি ভারতের বিপক্ষে

বাংলাদেশ জিততে পারত যে টি-টোয়েন্টি ভারতের বিপক্ষে

 

একদিন পরেই দিল্লিতে শুরু হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এখনও পর্যন্ত দুই দেশ ৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে আটটিতেই জিতেছে ভারত। এখনও পর্যন্ত না জিতলেও এই ফরম্যাটে ভারতকে বেশ কয়েকটি ম্যাচে বেগ দিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে এসব ম্যাচ হেরে যাওয়ায় দর্শকরা যেমন কেঁদেছেন, ক্রিকেটারদের চোখও ভিজে উঠেছে। এবার নজর দেওয়া যাক সেই ম্যাচগুলোর দিকে।

দুই দেশের মধ্যে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছিল ২০০৯ সালের ৬ জুন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ২৫ রানে জিতেছিল ভারত। ট্রেন্টব্রিজে প্রথমে ব্যাট করে ভারত পাঁচ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ১৮০ রান। জবাবে ১৫৫ রানে থেমে যায় বাংলাদেশ। চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হন প্রজ্ঞান ওঝা।

মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ২০১৪ বিশ্বকাপের ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতে নেয় ভারত। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তোলে ১৩৮ রান। এক সময় ২১ রানের মধ্যে তামিম ইকবাল, শামসুর রহমান ও সাকিব আল হাসানকে হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান এনামুল-মাহমুদউল্লাহ টাইগারদের লড়াইয়ে ফেরান।

১৩৯ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শিখর ধাওয়ানকে দ্রুত হারায় ভারত। তারপর রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি দ্বিতীয় উইকেটে ১০০ রান যোগ করেন। ৪৪ বলে ৫৬ করে ফেরেন রোহিত। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি চারে নেমে ১২ বলে ২২ করে জেতান দলকে। ৫০ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি। ১৫ রানে দুই উইকেটের জন্য ম্যাচের সেরা হন অশ্বিন।

২০১৬ এশিয়া কাপের ম্যাচে ৪৫ রানে জিতেছিল ভারত। মিরপুরে প্রথমে ব্যাট করে রোহিত শর্মার ৮৩ রানের সুবাদে ভারত ৬ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৬ রান। ১৬৭ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেট খুইয়ে ১২১ রানে থেমে যায় বাংলাদেশ। ২৩ রানে তিন উইকেট নেন আশিস নেহরা। ম্যাচের সেরা হন রোহিত।

মিরপুরে ২০১৬ এশিয়া কাপ ফাইনালের এই ম্যাচ কমিয়ে আনতে হয়েছিল ১৫ ওভারে। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ১২০ রান। জবাবে ১৩.৫ ওভারে জিতে যায় ভারত (১২২-২)। শিখর ধাওয়ান (৬০), বিরাট কোহলি (অপরাজিত ৪১) রান পান। জয় আসে ৮ উইকেটে। ম্যাচের সেরা হন ধাওয়ান।

এরপর সেই তিন বলে দুই রান নিতে না পারার আক্ষেপের ম্যাচ। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ওই ম্যাচটি ১ রানে জেতে ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৪৬ রান। সর্বাধিক ৩০ করেন সুরেশ রায়না। রোহিত (১৮), ধাওয়ান (২৩), কোহলি (২৪), হার্দিক (১৫), ধোনি (১৩), যুবরাজ (৩), জাদেজা (১২) কেউই বড় রান পাননি। মুস্তাফিজুর রহমান নেন ২ উইকেট।

১৪৭ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে থামে ১৪৫ রানে। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১ রান। শেষ তিন বলে দরকার ছিল দুই রানের। কিন্তু মুশফিকুর রহিম আউট হয়ে যেতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। পরের বলে আউট মাহমুদউল্লাহ। শেষ বলে মুস্তাফিজুরকে রান আউট করেন ধোনি। ভারত জিতে ১ রানে।

২০১৮ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে বাংলাদেশকে হারায় ভারত। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৩৯। জয়দেব উনাদকট নেন তিন উইকেট। জবাবে ১৮.৪ ওভারে জিতে যায় ভারত। ধাওয়ান করেন ৫৫ রান। ত্রিদেশীয় সিরিজেই আবারও বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারায় ভারত। প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে তিন উইকেটে ১৭৬ রান তোলে ভারত। জবাবে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৫৯।

নিদাহাস ট্রফির ওই ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ তুলেছিল বাংলাদেশ। সাব্বির রহমান ৫০ বলে ৭৭ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলেন। ভারতের লেগস্পিনার যুজভেন্দ্র চহাল ১৮ রানে নেন ৩ উইকেট। ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩২ রানের মধ্যে ধাওয়ান-রায়নাকে হারায় ভারত। শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ৩৪ রান। শেষ ৬ বলে দরকার ছিল ১২ রান। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শত্রু হয়ে দাঁড়ান দিনেশ কার্তিক। ৮ বলে ২৯* রানের মারকাটারি ইনিংস খেলে ভারতকে ৬ উইকেটর স্মরণীয় জয় এনে দেন তিনি।

নিউটার্ন.কম/AR

22 Shares