Home » প্রধান খবর » বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ছয় মাসে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কম

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ছয় মাসে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কম

 

জাবেদুর রহমান জাবেদ, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ- গত অর্থ বছরে করোনা মোকাবেলা করে লক্ষমাত্রার রেকর্ড ভেঙ্গে প্রায় দ্বিগুন রাজস্ব আদায় করেছিল বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। নতুন অর্থ বছরের প্রথম জুলাই মাসেই আয় করেছে প্রায় ১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা। নতুন অর্থ বছরের ডিসেম্বর/২১ পর্যন্ত লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩২ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। যার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৪ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা। করোনা মহামারির মাঝে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে গত অর্থ বছরে সরকারের বেধে দেয়া লক্ষমাত্রার রেকর্ড ভঙ্গ করে প্রায় দ্বিগুন রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ে লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ ছিল ৩৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। লক্ষমাত্রার চেয়ে ৮৩ শতাংশ বেশি লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ছয় মাসেই সেই অর্জন জলে ভেসে ৮ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা কম আদায় হয়েছে।
সিএন্ডএফ নাহিরুল ইসলাম জানান, সরকার বেশি রাজস্ব পেয়ে থাকে চাল, গম ও ভুট্রার মতো পণ্যে। কিন্তু এ সকল পণ্য আমদানিতে সরকার রাজস্ব ফ্রি করায় এ বছর আদায় কম হয়েছে।
আমদানি রপ্তানিকারক আলমগীর হোসেন জানান, বাংলাবান্ধা এমন একটি বন্দর যা চার দেশের সমন্বয়ের মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানির বিশেষ সুবিধা রয়েছে। কিন্ত এবছর ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায়ীরা ঠিকমত তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারায় এবং বন্দরে ট্রাফিক ব্যবস্থা সুবিধাজনক না হওয়ায় অনেকেই এ বন্দরে ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান কুদরত-ই খুদা মিলন বলেন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় ভেঙ্গে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। পণ্য খালাসে নেই পযার্প্ত ব্যবস্থা। কাস্টমসের বেশি করাকরি নিয়ম ও বিজিবির অতিরিক্ত চেকিংএর কারণে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছে। বন্দর কতৃপক্ষ যদি কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করেন এবং পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে লোডিং ও আনলোডিং ভ্যাটসহ আদায় করলেও লোডিং সেবাটি না দেয়ায় ব্যবসায়ীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত। এই লোডিং সেবাটি নিশ্চিত করা হলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হত আগ্রহী বেশি হতেন।
বাংলাবান্ধা স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারি কমিশনার মবিন-উল ইসলাম বলেন, গত অর্থ বছরে প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি হয়েছে কিন্তু এবার তেমন চাল আমদানি না হওয়ায় আমাদের রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পাথর আমদানি হয়ে থাকে। করোনা ভাইরাস আক্রান্তের ঝুঁকি থাকা সত্তেও দেশের রাজস্ব আয় ঠিক রাখার জন্যই যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি ভবিষ্যতে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি আরো বেশি ভূমিকা রাখবে।

0 Shares