Home » অর্থনীতি » বাণিজ্য, পর্যটন, সংস্কৃতি বিনিময় আরো বাড়াতে চাই:মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কে. কে. সাংমা

বাণিজ্য, পর্যটন, সংস্কৃতি বিনিময় আরো বাড়াতে চাই:মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কে. কে. সাংমা

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি :ময়মনসিংহে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কে. কে. সাংমা বলেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, সংস্কৃতি বিনিময় আরো বাড়াতে চাই। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে ধরা হয় বাংলাদেশকে। বিগত কয়েক বছরে শিল্প, বাণিজ্য, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ সবক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে এই বাংলাদেশের সাথে আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, সংস্কৃতিসহ নানা বিষয় সহযোগিতা বিনিময় আরো বাড়াতে চাই। আমাদের দুদেশের মাঝে পারষ্পরিক সৌহার্দ, যোগাযোগ, সম্পর্ক ও বন্ধুত্বকে আরো বৃদ্ধি করতে চাই।

আমাদের মাঝে অনেক অনেক অমিত সম্ভাবনার দুয়ার হাতছানি দিয়ে ডাকছে। তবে যে সব ছোট খাটো সমস্যা রয়েছে তা দূর করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ জানাবো। প্রতিবেশী দুদেশের সীমান্ত পথ বেয়ে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সরজমিনে ঘুরে বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কনভ্যাল সাংমা । সেই সাথে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামূল হক টিটুসহ বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হন তিনি।

এ সফর আজীবন তিনি মনে রাখবেন তার মনের মাঝে বলে তিনি জানান। মূখ্য মন্ত্রীর সাথে ছিলেন মেঘালয়ের প্রিন্সিপার সেক্রেটারি ড. শাকিল আহমদসহ অন্যান্য কর্তকর্তাগণ এবং ভারতীয় হাই কমিশন ঢাকার কর্তকর্তাগণ। শুক্রবার বিকেলে এমসিসি’র শাহাবউদ্দিন হলরুমে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামূল হক টিটু বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে মেঘালয়সহ ভারতের মানুষ আশ্রয়সহ নানা সহযোগিতা করেছেন যা আমরা আজীবন স্বরণে রাখবো। তিনি আরও বলেন মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দুদেশের মাঝে বন্ধুত্ব ও ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক, পর্যটন বিকাশ নানা সহযোগিতার হাত আরও মজবুত করার জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করছে।

 

বাংলদেশের হালুয়াঘাটের কড়উতলী-গোবড়াকুড়া এবং নালিতাবাড়ির নাঁকুগাও স্থলবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং এই দুটি স্থলবন্দরের যোগাযোগের জন্য উভয় দেশের সংযোগ সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। সেইসাথে সিমেন্ট, প্লাস্টিক ও মেলামাইন সমগ্রী, সিরামিক টাইলস, সিনথেটিক নিটেড ফ্যাব্রিক্স, পোল্ট্রি, ডেইরী, শুকনা মাছ, গার্মেন্টস, কসমেটিক, মশারিসহ আরো নানা পণ্য রপ্তনী হতে পারে। বাংলাদেশও ফলসহ নানা পণ্য আমদানী করতে পারে। এসব পণ্য আমদানী-রপ্তানীতে দুদেশের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ব্যাপারে কাজ করবেন বলে জানান মেঘালয়ের প্রতিনিধিদল। মেয়র ইকরামূল হক টিটুর আমন্ত্রণে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে পৌছলে মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কনভ্যাল সাংমাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিভাদন জানান মেয়র ইকরামূল হক টিটু।

 

এসময় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সিটি কর্পোরেশন সম্পর্কে বিস্তরিত বিবরণ তুলে ধরেন। এসময় সিট কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নান উপঢৌকন প্রদান করা হয়। এরপর ময়মনসিংহের ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, পেশাজীবী, নারী উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। মেয়র ইকরামূল হক টিটুর সভাপতিত্বে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ. কে এম গালিভ খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর, প্রেসক্লাব ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম খান, শ্বাশ্বত বাংলার নির্বাহী সম্পাদক প্রদীপ ভৌমিক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইমলাম, নারী উদ্যোক্ত সৈয়দা সেলিমা আজাদসহ বিভিন্ন কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ।

 

এছাড়াও মেঘালয়ের মূখ্যমন্ত্রীসহ প্রতিনিধদল ময়মনসিংহ শহরের দুর্গাবাড়ি মন্দির পরিদর্শণ করেন ।এসময় সেক্রেটারী শংকর সাহা তাদের অভ্যর্থ জানান। শুক্রবার সন্ধ্যায় হালুয়াঘাটে সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং এর সাথে দেখা করে রাতে শেরপুর নালিতাবাড়ির নাঁকুগাও স্থলবন্দর এবং ভারতের ডালু সীমান্ত দিয়ে ৪দিনের সফর শেষে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন মেঘালয়ের মূখ্যমন্ত্রীসহ প্রতিনিধদল।

 

নিউটার্ন.কম/RJ

11 Shares