Home » মতামত » বেকার ছাত্র সমাজ ও ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ :

বেকার ছাত্র সমাজ ও ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ :

 

গত ২৫ এপ্রিল ২০১৯ মহান জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাবলুর (বগুড়া-৭) সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ করার কোনো উদ্যোগ আপাতত সরকারের নেই। যেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত উন্নয়নের ধারা শীর্ষক প্রবন্ধে বলা হয়েছিল “আধুনিক ও বহুমুখি প্রশাসনের জন্য ৩,০০,০০০ পদ তৈরি করা হয়েছে, চাকরিতে অবসরের বয়স সাধারণদের ৫৯ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ৬০ বছরে উন্নীত করা হয়েছে।”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে বিনীতভাবে অনুরোধ,বর্তমান করোনা ভাইরাস মহামারি রুপে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, দেশে সাধারণ ছুটি বিদ্যমান ছিল । এখনো সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে, শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকার ফলে দেশের আপামর ছাত্রসমাজ পুনরায় সেশনজটের কবলে পড়েছ। সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরির সার্কুলার স্থগিত আছে, বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ বন্ধ আছে, যার ফলস্বরুপ অনেক ছাত্রের জীবন থেকে চাকরিতে আবেদন করবার বয়সটুকুও শেষ হয়ে গেছে ইতিমধ্যে ত্রিশ বছরের সীমাবদ্ধতার কারণে। এমতঅবস্থায় ছাত্রসমাজ মানসিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে ও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে ।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সে সময়ে মাননীয় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন, “আগে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সেশনজট ছিল। কিন্তু বর্তমানে উল্লেখ করার মতো সেশনজট নেই বললেই চলে। ফলে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ১৬ বছরে এসএসসি, ১৮ বছরে এইচএসসি এবং ২৩–২৪ বছরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে থাকেন। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। বিধায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পরও তারা চাকরিতে আবেদনের জন্য কমপক্ষে ছয়–সাত বছর সময় পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া ৩০ বছর বয়সসীমার মধ্যে একজন প্রার্থী চাকরির জন্য আবেদন করলে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে এক–দুই বছর সময় লাগলেও তা গণনা করা হয় না।”

কিন্তু,মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন “বর্তমানে উল্লেখ করার মতো সেশনজট নেই বললেই চলে”। কিন্তু বাস্তবে কিছু সেশনজট মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় একটি দেশের সামগ্রিক চিত্র প্রতিনিধিত্ব করে না । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭ (সাত) সরকারি কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত, ২০১৪-১৫, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন এবং ২০১২-১৩, ২০১১-১২, ২০১০-১১, ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের (বিশেষ) গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের ২০১৭ সনের স্মাতক ৩য় বর্ষ পরীক্ষার সময়সূচি ও কেন্দ্রতালিকা প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালেও ছাত্র সমাজ রাজপথে আন্দোলন করেছে শুধু সেশনজটের কারণে। ২০১৫-২০১৬ সেশনের স্মাতক তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা ২০২০ সালে হবার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত আছে।

উল্লেখ্য যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শহীদ সোহরাওয়ার্দি কলেজের ২০১২ সালের ফলাফল ২০১৫ সালে, তেজগাঁও কলেজের ২০১৩ সালের ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে, সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের ২০১৪ সালের ব্যবসা প্রশাসনের স্নাতকের ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে, ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৩ সালের ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সাল বর্তমান সরকারেরই সময়কাল। এই সেশনজটে আক্রান্ত ছাত্রসমাজ ও তাদের পরিবারের মানুষ গুলোই তাদের অধিকার রক্ষার্থে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছিলো। আর সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এইরূপ মন্তব্যে ছাত্রসমাজ হতাশাগ্রস্ত।

তার বক্তব্যের শেষ অংশটুকু হলো,”এই প্রেক্ষাপটে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ালে বিভিন্ন পদের বিপরীতে চাকরিপ্রার্থীদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে। এর ফলে যাদের বয়স বর্তমানে ৩০ বছরের বেশি, তাঁরা চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ পেলেও অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার কোনো উদ্যোগ আপাতত সরকারের নেই।” যেখানে প্রতিযোগিতাই নিশ্চিত করে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচনে সেখানে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কেন প্রতিযোগিতা হ্রাস করতে চাচ্ছেন তা কারো বোধ্যগম্য হচ্ছে না। তিনি বলেছেন “অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে”।

বাংলাদেশ সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। সেখানে অনূর্ধ্ব ৩০ ও ৩০ উর্ধ্ব বলে শ্রেনী বিন্যাস করা সংবিধান পরিপন্থি। কেননা, বয়সের সীমা বদ্ধতা প্রদান করে রাষ্ট্র অনেক মেধাবী হারাচ্ছে যার কারণে প্রতিবছর মেধা পাচার হচ্ছে।

সর্বশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ আপনি দয়া করে এই করোনা পরিস্থিতি শিথিল হলে লক্ষ লক্ষ বেকার ছাত্রসমাজের অবস্থা বিবেচনা করে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির (ন্যূনতম পঁয়ত্রিশ) বিষয়ে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেশনজটে জর্জরিত বেকার ছাত্রসমাজকে দেশ সেবার সুযোগ প্রদান করবেন। আমরা আপনার দিকনির্দেশনার পথ চেয়ে বসে আছি।

লেখক……..
সুদীপ পাল
সাবেক শিক্ষার্থী (ইংরেজি বিভাগ)
ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

2K Shares