Home » জাতীয় » বড়লেখায় চা বাগানে দায়ের কোপে আহত আরেকজনের মৃত্যু

বড়লেখায় চা বাগানে দায়ের কোপে আহত আরেকজনের মৃত্যু

 

নিউটার্ন ডেস্ক: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাল্লাথল চা বাগানে প্রতিবেশীর দায়ের কোপে গুরুতর আহত হওয়া কানন বালাও (৩৪) অবশেষে মারা গেছেন।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

আজ দুপুরে বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন এবং পাল্লাথল চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন কানন বালার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত রবিবার (১৯ জানুয়ারি) ভোরে প্রতিবেশী নির্মল কর্মকারের দায়ের কোপে কানন বালা গুরুতর আহত হয়েছিলেন। একই ঘটনায় নিহত হন কাননের স্বামী ও মেয়েসহ চারজন।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় জানা গেছে, গত রবিবার ভোররাতে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির পাল্লাথল চা বাগানে পারিবারিক কলহের জের ধরে নির্মল কর্মকার নামে এক ব্যক্তি দা দিয়ে কুপিয়ে তার স্ত্রী জলি বুনার্জিকে হত্যা করে। এ সময় জলিকে বাঁচাতে গিয়ে নির্মলের দায়ের কোপে নিহত হন জলির মা লক্ষ্মী বুনার্জি। স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যা করেও ক্ষান্ত হয়নি নির্মল। তাদের বাঁচাতে এসে ঘাতকের দায়ের কোপে নিহত হন প্রতিবেশী বসন্ত বক্তা এবং বসন্তের মেয়ে শিউলী বক্তা। এ সময় গুরুতর আহত হন বসন্তের স্ত্রী কানন বালা। ঘটনার সময় পালিয়ে বেঁচে যায় জলির ৯ বছরের শিশুকন্যা চন্দনা বুনার্জি। একে একে সবাইকে হত্যার পর নিজেকেও শেষ করে দেয় নির্মল। প্রথমে নিজেই নিজের মাথায় দা দিয়ে কোপ দেয়। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে পরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতবস্থায় কানন বালাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং নিহতদের লাশ মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় গত রবিবার রাতেই পাল্লাথল বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বাদী হয়ে থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন।

বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন আজ দুপুরে বলেন, কানন বালা চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে আজ সকালে মারা গেছেন। সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করবে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পাল্লাথল চা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান আজ দুপুরে বলেন, পাঁচজনের মৃত্যুর পর আহত আরেক নারী আজ সকালে মারা গেছেন। ঘটনাটি মর্মান্তিক। ঘটনার সময় ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণে থাকার কারণে সেখানে যেতে পারিনি। ঢাকা থেকে এসেই গতকাল রবিবার পাল্লাথল চা বাগানের শোকাহত শ্রমিকদের সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা অনেকগুলো সেবা নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা চা শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোহিতায় চা শ্রমিকদের মেডিক্যাল চেকআপ এবং ফ্রি মেডিসিন দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রাপ্ত কম্বল ১০০ জন শ্রমিকের মধ্যে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র নিহত জলি বুনার্জির মেয়ে চন্দনাসহ বাগানের ৬২ জন শিশুর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ১০৫ জন চা শ্রমিকের মধ্যে অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছে। নিহত জলি বুনার্জির মেয়ে চন্দনা বুনার্জির ব্যাপারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সে যাতে শিক্ষিত ও ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে বেড়ে উঠতে পারে এ জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব।

নিউটার্ন.কম/AR

2 Shares