Home » জাতীয় » মানববন্ধনে রাবি,ছিনতাইকারীর পেটায় আহত শিক্ষার্থী

মানববন্ধনে রাবি,ছিনতাইকারীর পেটায় আহত শিক্ষার্থী

 

ছিনতাইকারীদের হামলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ আনাম গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান মাঠ সংলগ্ন স্টেডিয়ামের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার সকাল সকাল ১০টা থেকে ছিনতাইকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ফিরোজের চিকিৎসা ব্যয় বহন ও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

রাবি ছাত্রলীগ, বদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্র সমিতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালন করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয়। পরে আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ, ছিনতাইকারীদের শাস্তিসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্টেডিয়াম মার্কেটে বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে নোট ফটোকপি করতে যাচ্ছিলেন ফিরোজ। সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের পথরোধ করে ফিরোজের বান্ধবীর হাতে থাকা ফোন ছিনিয়ে নিয়ে শহীদ হবিবুর রহমান মাঠের দিকে হাঁটতে শুরু করে। এসময় ফিরোজ ধাওয়া করলে ছিনতাইকারীরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে বেদম প্রহার করে। এতে তার মাথা ফেটে যায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছিনতাইকারীদের শাস্তির দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এসময় রাবি প্রক্টর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর হুমায়ন কবীর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন। এতে এসআরকে রাজ নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী ও ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের কিশোর কুমার নামে দুইজন ওই সহকারী প্রক্টরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

রাজ রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী। লাঞ্ছিতের ঘটনায় কিশোর কুমারকে ঘটনাস্থল থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। পরে শিক্ষার্থীরা কিশোরকে না পেলে রাতভর আন্দোলনের ঘোষণা দিলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রায় ঘণ্টা খানেক পর আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা।

এদিন রাতে ভুক্তভোগী ফিরোজ আনাম বাদী হয়ে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় চারজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নগরীর তালাইমারী এলাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন, শিরোইল এলাকার রাকিব আলীর ছেলে রিফাত হোসেন রাকেশ এবং মীর্জাপুর এলাকার খোরশেদের ছেলে পারভেজ।

প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। দ্রুতই বাকিদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে আশা করছি। শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি জানিয়েছে সেগুলো অবশ্যই আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।

মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিউটার্ন.কম/AR

20 Shares