Home » আন্তর্জাতিক » মৃতদেহের খোঁজে শকুন, কান পাতলে অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন

মৃতদেহের খোঁজে শকুন, কান পাতলে অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন

 

আকাশে শুধু যুদ্ধবিমান আর শকুনের দল। যুদ্ধবিমান থেকে বোমা পড়ার অপেক্ষা, ছিন্নভিন্ন দেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে শকুনগুলো। চিত্রটা শিউরে ওঠার মতো হলেও বাস্তব। সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তের শহর রাস অল-আয়ানের অবস্থা এখন এমনই।

কুর্দদের ঘাঁটি ধ্বংস করে শরণার্থীদের আবাস তৈরি করার যুক্তিতে সিরিয়া সীমান্তবর্তী এই শহরে হামলা চালাচ্ছে তুরস্ক সেনা। ঘোষিত নীতি অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য কুর্দদের ঘাঁটি, কিন্তু তুরস্ক সেনার বোমা ছাড় দিচ্ছে না স্থানীয় জনপদকেও। হাসপাতালের সামনে বসে শূন্য দৃষ্টিতে মাটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন মহিলা। ভিতরের মর্গে একমাত্র ছেলের দেহ কাটাছেঁড়া হচ্ছে। অ্যাম্বুল্যান্সের ঘন ঘন সাইরেন শুনে কেঁপে উঠছিলেন মহিলা। মর্গের কর্মীকে বললেন, ‘বাড়ির বাইরে বসেছিলাম জানেন। কোথা থেকে যে বুলেট ছুটে এল, সোজা গিয়ে লাগল ছেলেটার মাথায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই…’ পাশে বসে রক্তাক্ত স্বামীর হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধছিলেন মহিলা। চাদরটা একটু সরে যেতে চোখে পড়ল, কোমরের নীচের অংশটা প্রায় ছিন্নভিন্ন। লোকটি কুর্দিশ বাহিনীর সদস্য। মহিলার কথায়, ‘শেষ অবধি লড়বেন, এ কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। ফিরে পেলাম মৃতপ্রায় দেহটা।’

মর্গের সামনের উঠোনে দলা পাকিয়ে যাওয়া দেহ থেকে অস্ত্রগুলো আলাদা করছিলেন হাসপাতালকর্মী। জমা করছিলেন একটা কালো প্লাস্টিকে। তা থেকেও টপটপ করে ঝরছে রক্ত। হাসপাতালকর্মীই বললেন, ‘ওরা কুর্দ সেনা। জনপদ থেকে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরানোর চেষ্টা করছিলেন। বোমার আঘাতে তাঁদের প্রাণ তো গেলই, প্রাণ গিয়েছে তিন বছরের এক শিশুরও।’ বস্তুত, নিজের বাড়িকেও নিরাপদ মনে করছেন না স্থানীয়রা। যে কোনও সময় বোমার আঘাতে গুঁড়িয়ে যেতে পারে তা। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ সিরিয়া ছাড়ছেন, কোথায় যাবেন, জাননে না। শুক্রবার বিমানবন্দরের কাছেও বোমা পড়েছে। ফলে, কোন স্থানটা যে নিরাপদ, বুঝেই উঠতে পারছেন না মানুষগুলো। মাথার উপর শ্যেন দৃষ্টি আর পরিচিত ভূমে বিস্ফোরণ আর অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন!

নিউটার্ন.কম/AR

0 Shares