Home » Uncategorized » যশোরের মানুষের প্রিয় ডাক্তার কাজী আজিজুল হক

যশোরের মানুষের প্রিয় ডাক্তার কাজী আজিজুল হক

বি এম ইউসুফ আলী : অনেকেই তাকে বলেন যশোরের মানুষের প্রিয় ডাক্তার। আবার কেউ বলেন গরীবের চিকিৎসক। যে যেভাবেই সম্বোধন করুক না কেন ডা: কাজী আজিজুল হক রঞ্জু ছিলেন যশাের অঞ্চলের একজন মানব সেবী। গত সোমবার ৮ মার্চ বিকালে তিনি ঢাকার আদ্ দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। তিনি যশোরের সর্ব প্রবীণ চিকিৎসক ছিলেন।

ডা. কাজী আজিজুল হক ১৯৪৬ সালে যশোর শহরের খড়কী দক্ষিণ পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোমিনুল হক। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝ। খড়কীতে পৈত্রিক বাড়ি হলেও তিনি শহরের রেলস্টেশন এলাকায় নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করতেন। তবে বছর দুয়েক আগে থেকে তিনি শংকরপুর বাসটার্মিনাল এলাকায় নিজের বাগানবাড়িতে বসবাস করছিলেন। যশোর ইনস্টিটিউট মার্কেটের দোতালায় নিরাময় ক্লিনিক নামে তার নিজস্ব চেম্বার ছিল। সেখানেই তিনি রোগী দেখতেন।

ডা. কাজী আজিজুল হক একজন মেধাবী ও দক্ষ সংগঠক ছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিক শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তিনি তার নেতৃত্বের গুণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন । এরপর ১৯৭২ সালে এমবিবিএস পাস করে সরাসরি বঙ্গবন্ধুর হাত থেকে চাকরির নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে যশোরের কেশবপুর হাসপাতালে যোগদান করেন। তিনি যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ছিলেন।


ডা. কাজী আজিজুল হক সরকারি চাকরি করার সময় বৃহত্তর যশােরের বিভিন্ন থানায় কাজ করার সুযোগ লাভ করেন এবং অত্র অঞ্চলের দরিদ্র জনগােষ্ঠীর চিকিৎসার অপ্রতুল সুযােগের বিষয়টি চাকরি জীবনে নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে উপলদ্ধি করেন। এ চেতনা ও ভাবনা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়িত করতাে । আর এজন্য তিনি একসময় মানব সেবায় আত্মনিয়ােগ করেন এবং নিজস্ব উদ্যোগ, পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে ১৯৯১ সালের ১২ জানুয়ারি যশাের শহরের কদমতলায় একটি ভাড়া বাড়িতে শুরু করেন চক্ষু ও ডায়াবেটিস হাসপাতাল। পরবর্তিতে জনৈকা হাসিনা বেগমের ১২ শতক জমিদান করেন। তৎকালিন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করেন। লায়ন মােসলেম আলী খানসহ কয়েকজন হৃদয়বান ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। যশোর শহরের অদূরে বকচরে হাসপাতালের নিজস্ব দু’ বিঘা জমি সংগৃহিত হয়। অনেক কষ্টের ফসল এই হাসপাতালটি বর্তমানে কপােতাক্ষ লায়ন চক্ষু ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল নামে সকলের নিকট পরিচিত। দরিদ্র রােগীদের কাছে সমাদৃত যা মানব কল্যাণমুখী সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এই হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমৃত্যু যথাযথ উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

ডা. কাজী আজিজুল হক স্বাস্থ্য, পল্লীউন্নয়ন এবং শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন । তিনি পল্লী উন্নয়ন ও জনকল্যাণ সংসদ -এর চীফ মেডিকেল ইনস্ট্রাকটর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সােসাইটি, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্রাকটিসনার্স এসােসিয়েসন, বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ফারটিলিটি কন্ট্রোল সােসাইটির আজীবন সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি উত্তোরণ সংসদ-এর প্রেসিডেন্ট, খড়কি আঞ্জুমান-ই খালেক এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দাউদ পাবলিক স্কুল ও কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। বাঁচতে শেখা, এফপিএবিসহ যশোরের প্রায় ২৫-৩০টি প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন তিনি। তিনি যশোরের লায়ন্স আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন।

ডা. কাজী আজিজুল হক এমন এক সময় আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন যখন তাকে আমাদের আরো বেশি প্রয়োজন ছিল। মানুষের জন্য কাজ করার জন্য তিনি আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরদিন।
লেখক পরিচিতি : কলামিস্ট ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক।r

 

0 Shares