Home » জাতীয় » যাত্রাবাড়ীতে কিশোরকে অপহরণের পর হত্যা, আসামি গ্রেফতার!

যাত্রাবাড়ীতে কিশোরকে অপহরণের পর হত্যা, আসামি গ্রেফতার!

 

রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে কুতুব উদ্দিন পাপ্পু নামে (১৫) এক কিশোরকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মো. রাজুকে (২৭) গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গত রবিবার যাত্রাবাড়ির ধলপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে গেল ৩ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) থেকে নিখোঁজ হন পাপ্পু। ঘটনার পাঁচদিন পর যাত্রাবাড়ি থানায় ছেলের নিখোঁজের বিষয়ে মামলা দায়ের করেন তার মা রুনা পারভিন রুনু (৫০)। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার ছেলে ৩ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরবর্তীতে তার প্রতিবেশী পাভেল (২৪) ফেসবুক আইডি থেকে ছবি নিয়ে ফেসবুকে নিখোঁজের একটি পোস্ট দেয়। ঘটনার পরদিন ৪ তারিখ পাভেলের ইমো-আইডিতে একটি ছবি পাঠান অজ্ঞাতনামা কোন এক ব্যক্তি পাপ্পুর আধাশোয়া অবস্থায় চোখ বাঁধা একটি ছবি পাঠায়। পরে আরো একাধিক ম্যাসেজ পাঠিয়ে ওই ব্যক্তি ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণের টাকা না পেলে পাপ্পুকে হত্যা করাও হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

মামলাটির দায়িত্ব নিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। তদন্তে ডিবি পুলিশ জানতে পারে গ্রেফতারকৃত আসামি রাজু পাপ্পুকে ঘটনার দিন বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তার ধোলাইপাড়ের একটি ভাড়া করা গোডাউনে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পাপ্পুকে মদ পান করান। রাজু নিজেও মদ পান করেন। একপর্যায়ে রাজু পাপ্পুকে গলা টিপে হত্যা করে এবং মৃতদেহ গুম করার পরিকল্পনা করে।

ডিবি পুলিশ জানায়, রাজু পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ কিছু পুরনো বই-খাতা কিনে সেগুলোর সঙ্গে মৃতদেহ বস্তায় ঢুকিয়ে অন্য একজনের সহযোগিতা নিয়ে পিকআপে করে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং নিয়ে যায়। সেখানে রাজু তার সহযোগীসহ ঘাট থেকে ট্রলারে করে বস্তাগুলো পদ্মার শাখা নদীর তীরে বস্তা নামিয়ে নিয়ে ট্রলার পাঠিয়ে দেয়। পরে বস্তাগুলো পানিতে ডুবিয়ে দেয়। পরে তারা ঘাটে ফিরে তাদের ভাড়া করা পিকআপ নিয়েই আবার ঢাকা ফিরে আসে।

পরে ৫ অক্টোবর গুলিস্থানের ফুটপাত থেকে একটি পুরনো ফোন ও অন্যের ব্যবহৃত সিম কিনে নিহত পাপ্পুদের বাসার ভাড়াটিয়া পাভেল (২৪) এর মোবাইলে ম্যসেজ দেয়। ওই মোবাইলটি ব্যাটারি ফিক্সড থাকায় ট্র্যাকিংয়ের ভয়ে মোবাইল ও সিমটি ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে পাপ্পুর ব্যবহার করা সিম থেকে আবার পাভেলকে (২৪) ম্যাসেজ পাঠিয়ে মুক্তিপণ চায়। টাকা দেয়ার জন্য বিকাশ নম্বরও পাঠায়। প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রাজু পাপ্পুকে অপহরণ এবং হত্যা করে মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল সোমবার (১৪ অক্টোবর) হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্য বিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিউটার্ন.কম/RJ

0 Shares