Home » জাতীয় » যুবকের মামলা দায়ের জেলহাজতে প্রেরণ, ২৮ মুসল্লির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

যুবকের মামলা দায়ের জেলহাজতে প্রেরণ, ২৮ মুসল্লির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি :
ভোলার মনপুরায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ও বিবি আয়েশা(রা.) কে জড়িয়ে ফেইসবুকে কটূক্তিকারী শ্রীরাম দাসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতেই ওই যুবক মৎস্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পুলিশের এস.আই আলাউদ্দিন শিকদার বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
শনিবার(১৬ মে) সকালে ওই যুবককে আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান মনপুরা থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন।
এছাড়াও শনিবার সকালে থানায় এসে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের অভিযোগে ফেইসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেয়া যুবকের পিতা মনপুরা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য দুলাল চন্দ্র দাস ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বলেও জানান ওসি।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, মৎস্য ব্যবসায়ী সীতাকুন্ড এলাকার বাসিন্দা শ্রীরাম চন্দ্র দাস ঘটনার তিনদিন আগে ফেইসবুকে মহানবী (সাঃ) ও বিবি আয়শাকে নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট দেয়। বিষয়টি বৃহস্পতিবার ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর রামনেওয়াজ বাজার জামে মসজিদের মুসল্লি, কাউয়ারেটেক কিল্লার পাড় জামে মসজিদের মুসল্লি ও চৌমুহনী বাজার জামে মসজিদের মুসল্লিরা এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল সহকারে মনপুরার রামনেওয়াজ নতুন বাজার সংলগ্ন চৌমুহনী বাজারে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করে।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্ট করে। একপর্যায়ে কিছু সংখ্যক উত্তেজিত জনতা শ্রীরামের চৌমুহনী বাজারে ভাড়া দেয়া ওষুধ ও সেলুনের দোকান ঘরে হামলা করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। পরে পুলিশের সাথে মুসল্লিদের সংর্ঘষ বাঁধে। এই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। পুলিশের গুলিতে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে করিমকে মনপুরা সদর হাসপাতালে ও অপর ৯ জন জহির, সাইফুল, আল আমিন, রাহাত ও ছোট করিমকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারি ও মাগরিবের নামাজের পর হাজিরহাট ইউনিয়নের ফকিরহাট বাজারে স্থানীয় মুসল্লিরা মিছিল করে সনাতন ধর্মীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করতে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক, যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির ও যুবলীগ নেতা সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মামুনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ঘটনাশুনে ইউএনও ও ওসি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন।
এদিকে পরপর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত ১০ টায় উপজেলা হলরুমে উপজেলা চেয়ারম্যান শেলিনা আকতার চৌধুরী, ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাস, ওসি সাখাওয়াত হোসেন, ইমাম, অওয়ামী লীগের উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম কর্মিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। রাত ২ পর্যন্ত চলা বৈঠকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে উপজেলা প্রশাসন। এই সময় আলেম সমাজ মহানবীকে নিয়ে কূটক্তির বিষয়ে আইন করে শাস্তির দাবি জানান।
এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, পরিস্থিতি শান্ত আছে। ১২ জন দাঙ্গা পুলিশ এসেছে। আটককৃত যুবকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ভাংচুরের ঘটনায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন আটককৃত যুবকের পিতা দুলাল চন্দ্র দাস।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস জানান, ইমাম, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে ঘটনা নিয়ে বেঠক হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ফেইসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেয়া যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

0 Shares