Home » আন্তর্জাতিক » যেভাবে স্মার্টফোন অ্যাপগুলো আপনাকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করে!

যেভাবে স্মার্টফোন অ্যাপগুলো আপনাকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করে!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউটার্ন.কম
যদি আপনার স্মার্টফোন থেকে থাকে তাহলে এই অভিজ্ঞতাটি আপনার সাথে মিলবে: দৈর্ঘ্যের দিক থেকে যত ছোটই হোক না কেন অবসর সময় পেলেই আপনি ফোনের দিকে মনোযোগ দেন। হয়তো অনলাইনে বন্ধুরা কে কী আপডেট করেছে তা দেখার আগ্রহ অথবা কোনো গেমের অসমাপ্ত লেভেল সম্পন্ন করার তাগিদ অনুভব করেই এই কাজটি করেন। দিনের মধ্যে অনেকবারই ব্যাপারটি ঘটে থাকে। এর পেছনে একটা বড় কারণ রয়েছে। স্মার্টফোন অ্যাপগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন তা প্রতিনিয়ত আপনার মনোযোগ কাড়তে সমর্থ হয়। এই উদ্দেশ্য পূরণার্থে বিভিন্ন অ্যাপ বিভিন্ন রকম চাতুরির আশ্রয় নেয়।

স্মার্টফোন ব্যবহার অবসর কাটানোর অন্যান্য মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানের কনটেন্টগুলো আমাদের নিজেদের পছন্দমত নির্বাচন করা যায়। যেমন: টেলিভিশনের যে কনটেন্ট তা নির্মাতারা আমাদের কথা চিন্তা করে তৈরি করে। স্মার্টফোন অ্যাপের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। কিন্তু এখানে ব্যবহারকারীর কনটেন্ট বাছাই করার স্বাধীনতা অনেক বেশি। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তাই অ্যাপগুলোকে ব্যবহারকারীর মনোযোগ আকর্ষণ করার সামর্থ্য থাকতে হয়। কিছু কিছু অ্যাপ ডেভেলপারের ব্যবহৃত কৌশল এক্ষেত্রে খুবই সফল হয়েছে। এমনই কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করা যাক।

টিন্ডার
টিন্ডার ও একইসাথে বাম্বল, গ্রিন্ডারের মতো ডেটিং অ্যাপগুলো স্লট মেশিনেরই ‘ভ্যারিয়েবল রেশিও স্কেজুল’ পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যবহারকারীদেরকে আটকে রাখে। এই অ্যাপটি ভালোবাসার মানুষ খুঁজে দিতে সাহায্য করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অ্যাপগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।

অ্যাপটির ফরম্যাট হচ্ছে, পর্দায় ভেসে আসা মানুষের ছবিকে পছন্দ হলে ডানে সোয়াইপ করতে হবে, আর নাহলে বামে সোয়াইপ করতে হবে। স্লট মেশিনের মতোই ব্যবহারকারী পছন্দের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আশায় বারবার সোয়াইপ করতে থাকেন। এরকম সোয়াইপ করা নেশায় পরিণত হতে পারে ভেবে টিন্ডার ডেভেলপাররা ডানে সোয়াইপ বা ‘লাইকের’ একটি নির্দিষ্ট সীমা দিয়ে রেখেছে। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক ‘লাইক’ বিনামূল্যে পাওয়া যায়, যা অতিক্রম করতে হলে টিন্ডারকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

মাদকাসক্তদের মস্তিষ্কের উপরে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকের তুলনায় মাদকের জন্যে প্রত্যাশাই ভালো অনুভূতি তৈরি করা ডোপামিন বেশি ক্ষরণ করে। একইভাবে যারা আশা করে থাকে টিন্ডারের পরবর্তী সোয়াইপই তাদের কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে খুঁজে আনবে, তাদের অনবরত সোয়াইপ মাদকের মতো আসক্তি তৈরি করে।

ডুয়োলিংগো
ডুয়োলিংগো অ্যাপ স্টোরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষা শেখার অ্যাপ। অ্যাপটি বিভিন্ন গেমের তৈরি করা সফল কিছু কৌশল অনুসরণ করে। ভাষা শেখার কোর্স শুরু করার পরে ব্যবহারকারীকে একটা গোল নির্বাচন করতে হয়। অ্যাপটি তখন নিয়মিতভাবেই ব্যবহারকারীর গতিবিধি নজর রাখে আর গোল থেকে দূরত্বের আপডেট দেয়। আবার পরপর একটা নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত যদি অ্যাপটি ব্যবহার করা হয় তখন ব্যবহারকারীকে পুরষ্কৃত করে।

অ্যাপ ও গেম বিশ্লেষকরা এই কৌশলকে ‘FOMO effect’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যার পূর্ণরুপ ‘fear of missing out’। যদি অ্যাপের দেওয়া প্রতিদিনের সেশন সম্পূর্ণ না করা হয় তখন ব্যবহারকারী কিছু বিশেষ পুরষ্কার হারাবেন। পুরষ্কার থেকে বঞ্চিত না হওয়ার জন্যেই ব্যবহারকারী প্রতিদিন অ্যাপে প্রবেশ করবেন।

ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম
ফেসবুক প্রায় সবসময়েই ফ্রি অ্যাপের তালিকায় প্রথম পাঁচের মধ্যে অবস্থান করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যবহৃত অ্যাপও এই ফেসবুক। ব্যবহারকারীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে ফেসবুকের নিজস্ব কিছু কৌশল রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অন্য কোনো অ্যাপে লগইন করার মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করা। ডাউনলোড করা সবগুলো অ্যাপের জন্যে আলাদা আলাদা ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড তৈরির চেয়ে ফেসবুক আইডি ব্যবহার করা অনেক সহজ এবং ব্যবহারকারীও তাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এভাবে ফেসবুক অ্যাপও বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ফেসবুক অনেকটাই লগবুকের মতো হয়ে যাচ্ছে। এর মেমোরি ফিচারটির কল্যাণে একই দিনে বিগত বছরগুলো কেমন কেটেছিল তার একটা ধারণা পাওয়া যায়। ফেসবুক মেমোরি ক্যাটালগে বিগত বছরগুলোর পোস্ট, ছবি, ফ্রেন্ডশিপ ইত্যাদি সবকিছুই দেখায়। বিশেষত যারা অনেক বছর ধরে ফেসবুক ব্যবহার করে আসছে তাদের জন্যে এই ছবি ও পোস্টগুলো আবেগের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের স্মৃতিবেদনাকে উদ্দেশ্য করে তৈরি করা এই ফিচারটিকে ফেসবুকের অন্যতম কৌশলই বলা চলে।

স্ন্যাপচ্যাট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা ফিচার ‘স্টোরি’ ফেসবুকের আরেকটি কৌশল। ২০১৬ সালে ইন্সটাগ্রামে এই ফিচারটি পরিচিত করার এক বছরের মাথায় তা স্ন্যাপচ্যাটকে পেছনে ফেলেছিল। ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে মজাদার ফিল্টার, অ্যানিমেশন ও স্টিকার সংযুক্ত হয় যা লোকেশন ও তাপমাত্রা অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। তাছাড়া ইন্সটাগ্রাম যেভাবে ব্যবহারকারীকে অন্যের স্টোরি দেখতে প্রণোদিত করে তা অনেকেরই আসক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাপে প্রবেশের পরে প্রথমেই যে ফিচারটি চোখে পড়ে তা হচ্ছে স্টোরি, কারণ এটাকে পেজের একেবারে প্রথমে রাখা হয়েছে। আবার স্ক্রল করার মাঝেও এই স্টোরির অনুপ্রবেশ ঘটে।

নিউটার্ন.কম/RJ

9 Shares