Home » জাতীয় » রবীন্দ্রনাথের ছোট নদীসহ শাহজাদপুরে কোটি কোটি টাকার জায়গা উদ্ধার

রবীন্দ্রনাথের ছোট নদীসহ শাহজাদপুরে কোটি কোটি টাকার জায়গা উদ্ধার

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: “আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে”… বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় শিশুতোষ কবিতা “ছোট নদী” কবিতাটি মনে নেই এমন লোক পাওয়া কঠিন। তবে অনেকেই জানেন না সেই কবিতার ছোট নদী শাহজাদপুরের খোনকারের জোলা নামে পরিচিত ছিল। যা দখলদারদের অবৈধ দখলে হারিয়ে যেতে বসেছিল। সেই ছোট নদী খোনকারের জোলা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে উদ্ধার করলেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার নাজমুল হুসাইন খান।

দেশব্যাপী চলমান সরকারি জায়গা উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে শাহজাদপুরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের খোনকারের জোলা উদ্ধার এবং বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারের কোটি কোটি টাকার জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। জনগণের চলাচলের সুবিধার জন্য উদ্ধারকৃত জয়গায় তৈরি করা হয়েছে বেশকিছু নতুন সড়ক। আর এই কাজে সমস্ত রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সাহসের সাথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তি যোদ্ধা আলহাজ হাসিবুর রহমান স্বপনের সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান ও শাহজাদপুরের সাবেক সহকারী কমিশনার(ভুমি) হাসিব সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় শাহজাদপুরে দখলদারিত্বে হারিয়ে যাওয়া খোনখারের জোলাসহ অবৈধ দখলদারের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে কোটি কোটি টাকার জয়গা এবং সেই সাথে শাহজাদপুরবাসী ফিরে পেয়েছে তাদের চলাচলের পথ।

জোলা উদ্ধারের সময় ইউএনও নাজমুল হুসেইন খান দখলদারদের রক্ষায় কারোরই অনুরোধ শোনেননি বরং দ্রুত দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছেন। তার প্রচেষ্টায় এখন মানুষ ফিরে পেয়েছে পায়ে হাটার রাস্তা এবং সেই সাথে প্রশস্থ্য হয়েছে খোনকারের জোলা। সম্প্রতি এই জোলাটি পরিদর্শন করে গেছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মহিদুল ইসলাম। এই জোলাটির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে তিনটি ব্রিজ নির্মাণের এবং জোলাটি পুনঃ খনন করে পুনরায় সচল করা হবে বলেও জানা গেছে। ফলে এই জোলা দিয়ে খুব সহজেই নৌকাযোগে করতোয়া নদীতে যাওয়া যাবে, এমনটাই আশা করছে স্থানীয়রা।

এছাড়া বিসিক বাসস্ট্যান্ড রোডে অবৈধ দখলদারের দখলে থাকা স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা মূল্যের জায়গা উদ্ধার করে “শেখ রাসেল সৃতি পার্কে” এর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পার্কের পাশেই নির্মাণ হচ্ছে উপজেলা মডেল মসজিদ, যেখানে শত শত মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন। মনিরামপুর বাজারের মুজিব ভবনের পাশ থেকে সরকারি কলেজের দক্ষিন গেট পর্যন্ত জায়গা উদ্ধার করে প্রশস্থ্য একটি রাস্তা নির্মাণ হয়েছে ইতোমধ্যেই। যেটি খুব শিঘ্রই পাকা সড়ক হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন কর্তৃপক্ষ।

সরকারি কলেজের পুর্ব পার্শ্বে ৩৩ শতক পুকুরের জায়গা উদ্ধার করে সেখানে শিল্পকলা একাডেমির ভবন নির্মানণর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দরগাহপাড়া করতোয়া নদীর তীরে মখদম শাহ দৌলা (রহঃ) ইয়ামেনীর মাজার এবং মসজিদের পাশে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়ে জায়গাটি উদ্ধার করে মাঝারের জায়গা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছারাও আরো বেশ কয়েকটি জায়গা উদ্ধার করেছেন বর্তমান ইউএনও যা শাহজাদপুরের ইতিহাসে কোন সরকারি কর্মকর্তা সাহস করেননি ।

এ ব্যাপারে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান বলেন, সরকারের নির্দেশে শাহজাদপুরের যে সকল কাজগুলো করেছি, এগুলোর সুফল শাহজাদপুর বাসীই ভোগ করবে। তিনি আরো বলেন, এসব ভালো কাজে শাহজাদপুরবাসী আমাদের আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করেছে, আমি এজন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

এদিকে শাহজাদপুরের সুধীমহলের মতে, যে কাজগুলো কেউ আশা করতে পারেনি সেই কাজগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান খুব দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করেছেন। শাহজাদপুরবাসি ইউএনওর এমন কাজে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। একই সাথে উদ্ধার হওয়া জায়গায় দ্রুত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হলে পুনরায় দখল হওয়া থেকে রক্ষা পাবে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।

10 Shares