Home » জাতীয় » ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক’ ব্যানারে মানববন্ধন

‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক’ ব্যানারে মানববন্ধন

রাবি প্রতিনিধি:
“আজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আদর্শিক জায়গায় নেই বলে কথায় কথায় শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসকল ‘প্রভুরা’ বসে থাকেন তাদের ভাবমূর্তিই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপর স্টিমরোলার চালানো। আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই তাদের এই তথাকথিত ‘ভাবমূতির্’ ক্ষুণ্ন হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বৈরাচারের উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এখানে অনিয়ম নিয়ে কথা বলা যায় না, প্রশ্ন তুললেই হয়ে যেতে হয় দুর্জন। ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা। অথচ আমাদের টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা চলছে। জিনিয়া ও শামস জেবীনের উপর আঘাত, পৃথিবীর সকল সংবাদকর্মীর উপরেই আঘাত।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) কর্মরত সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার ও হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং শামস জেবীনের উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসকল কর্মসূচি পালিত হয়।

উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, চাপের মুখে প্রশাসন রাতারাতি ভোল পাল্টে উন্নয়নের কলাগাছ ঝুলিয়ে দিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরা এ নামকাওয়াস্তে নোটিশ প্রত্যাখ্যান করছি। পাশাপাশি এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় শামস জেবীনের উপর হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে যেসকল শিক্ষক বহিষ্কারে সুপারিশ করেছিল তাদের শাস্তি নিশ্চিত করে এটা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যে, জিনিয়া কোন অপরাধ করে নি। ভবিষ্যতে এরকম সকল অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা একযোগে আন্দোলন করবো।

মানববন্ধনে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মর্তুজা নুর পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো – তদন্ত সাপেক্ষে উপাচার্য ও সংশ্লিষ্টদের অপসারণ করতে হবে, প্রশাসনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, শামস জেবীনের উপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফরিদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির উপদেষ্টা আলী ইউনুস হৃদয়, সহ-সভাপতি ইয়াজিম পলাশ, কোষাধ্যক্ষ আরাফাত রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সুজন আলী, সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ শাহীন আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক রাইহান বাপ্পী, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জয়, কোষাধ্যক্ষ সালমান শাকিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রাজন।

এর আগে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে বশেমুরবিপ্রবি’র শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার ও বিভিন্ন হয়রানি করেন উপাচার্য খোন্দকার মো. নাসিরুদ্দিন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় শামস জেবিনের উপর দুর্বৃত্তরা হামলা করে। এতে দেশব্যাপী সমালোচনার তোপে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ফাতেমা তুজ জিনিয়া দ্য ডেইলি সান ও শামস জেবিন আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

6 Shares