Home » প্রধান খবর » রাব্বানীর বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগরে তোলপাড়

রাব্বানীর বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগরে তোলপাড়

নিউটার্ন ডেস্ক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে ‘(জাবি) শাখা ছাত্রলীগকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছে’- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমন বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

তবে পাল্টা বক্তব্যে, জাবি প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ‘কোনো টাকা লেনদেন হয়নি’ দাবি করে রাব্বানীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ করেছে।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বরাবর লেখা একটি চিঠিতে রাব্বানী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টানেন। চিঠির শেষাংশ রাব্বানী উল্লেখ করেন, ‘জাবি প্রশাসন (বিশ্ববিদ্যালয়) শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছে।’

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস ও জাবি শাখা ছাত্রলীগের দেয়া পৃথক বিবৃতিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

জাবি শাখা ছাত্রলীগের উপ দফতর সম্পাদক এম মাইনুল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জাবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগকে মিথ্যাচার উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের গত ৮ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে বৈঠক হয়। উপাচার্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের কী আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কেও শাখা ছাত্রলীগ জানে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে নিয়ে যে তথ্য (এক কোটি ৬০লাখ টাকার দুর্নীতি) গোলাম রাব্বানী দিয়েছে তা ভিত্তিহীন।

অপরদিকে গোলাম রাব্বানীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস থেকে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তার (রাব্বানী) বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়।

জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। জাবি ছাত্রলীগকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কোনো টাকা দেয়া হয়নি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে উপাচার্যের এ ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দেয়া বিবৃতিরে বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, আমরা সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করে আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি।’

তবে গত ঈদের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শাখা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যোগসাজসে ২ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি এই দুর্নীতি তদন্তের দাবিতে আন্দোলনও করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

0 Shares