Home » মতামত » রাস্তায় বিদ্যুতের তারের জঞ্জাল

রাস্তায় বিদ্যুতের তারের জঞ্জাল

নিউটার্ন ডেস্কঃ জাতীয় টেলিযোগাযোগ ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বন্দ্বের কারণে এখনও সফলতার মুখ দেখেনি ঢাকা শহরকে তারমুক্ত করার সরকারি পদক্ষেপ।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের গঠিত একটি কমিটি দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ করেছে এবং এটিকে বিদ্যুতের তারের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর এক বৈঠকে যুগ্মসচিব (সুশাসন ও পরিচালনা) আবুল খাইন আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য হুমকিম্বরূপ বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোর সাথে ঝুলে থাকা সব তার অপসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে করণীয় সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে ১৫ দিনের সময় বেধে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মাথার উপর ঝুঁলে থাকা বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিশ টিভি লাইনের তারসহ সকল তার ভূগর্ভস্থ করতে সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসকল পদক্ষেপ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ধানমন্ডি ও গুলশান এলাকায় ঝুলন্ত সব বৈদ্যুতিক তার ভূগর্ভস্থ করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে শহরে বিদ্যুত বিতরণে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি এবং ডেসকো।

সরকারি সূত্র জানায়, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অবৈদ্যুতিক তার অপসারণে বিতরণ সংস্থাগুলোর বারবার ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে সম্প্রতি এনটিটিএন এবং আইএসপি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সাথে বৈঠকে বসে বিদ্যুৎ বিভাগের গঠিত কমিটি এবং এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পান তারা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (এসসিএল) এবং ফাইবার এট হোম (এফএএইচ) এনটিটিএন হিসেবে কাজ করছে এবং নগরীতে তাদের মূল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য ভূগর্ভস্থ তার স্থাপন করেছে যখন ঝুলন্ত তারের মাধ্যমে বাসাবাড়ি এবং বিভিন্ন অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার জন্য কাজ করছে স্থানীয় প্রায় ১৭৩৪টি বৈধ এবং প্রায় ৫০০০ অবৈধ ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

নিয়ম অনুযায়ী, বাসাবাড়ি এবং অফিসগুলোতে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর এসসিএল এবং এফএএইচ থেকে সংযোগ নেয়ার কথা।

তবে আর্থিক ব্যয়ের কারণে আইএসপিগুলো লেবেল ডিস্ট্রিবিউশন প্রটোকল (এলডিপি) বা অ্যাক্সেস পয়েন্ট (এপি) থেকে সংযোগ নিচ্ছে না বলে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

অন্যদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে এনটিটিএন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বা তাৎক্ষণিক সমাধান না পাওয়ায় এলডিপি বা এপির কাছ থেকে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে অনেকের অনাগ্রহ আছে বলে অভিযোগ করেছে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এছাড়া, এনটিটিএন তাদের এলডিপি বা এপি থেকে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করছে বলে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

এমন পরিস্থিতিতেই আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বিচারে তার ঝুলিয়ে রাখছে এবং বাসা ও অফিসগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই বিষয়ে কেবলমাত্র বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) পদক্ষেপ নিতে পারে এবং দ্বন্দ্বের নিরসন করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি এবং ডেসকোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঝুলন্ত তারগুলো ভূগর্ভস্থ করার জন্য ১১ দফা সুপারিশ গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগের গঠিত কমিটি।

বিচ্ছিন্নভাবে ঝুলে থাকা ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ এবং ডিশ লাইনের তারগুলো শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার জন্যই হুমকি নয়, এগুলো রাজধানীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সরকারি পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেছে ওই কমিটি।

যোগাযোগ করা হলে বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, তিনি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পেয়েছেন এবং এনটিটিএন ও আইএসপি সংস্থাগুলোর সাথে আবারও বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছেন।

তিনি ইউএনবিকে জানান বৈঠকের পর আমরা তাদের কিছু পরামর্শ দেব। তারা যদি এটি অনুসরণ না করে তাহলে বিদ্যুতের খুঁটিতে অলসভাবে ঝুলে থাকা তার অপসারণের ক্ষেত্রে বাধাপ্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।

নিউটার্ন.কম/আর পি

6 Shares