Home » জাতীয় » লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মিরন হত্যার

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মিরন হত্যার

 

স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মিরন মেম্বার হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হতে চলছে। ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জেলা পুলিশ বিশেষ তৎপরতায় ঘটনার রহস্যের জট অনেকটাই উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেভাজন হিসেবে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে জবানবন্দি মিলেছে।

জবানবন্দির আলোকে ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ২টি বন্দুক, ২টি এলজি, ২৬ রাউন্ড গুলি সহ সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিক্সা ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনার মামলা পরবির্ত অগ্রগতি প্রকাশ করতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান। এ উপলক্ষে তিনি নিজস্ব কার্যালয়ের মিলনায়তনে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

এ সময় পুলিশ সুপার সংবাদকর্মীদের জানান, মিরন মেম্বার হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের অব্যাহত তৎপরতার অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে চন্দ্রগঞ্জ থানার একটি চৌকস টিম সম্প্রতি সফল অভিযান চালায়। অভিযানকালে হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামি মো. জসিমকে স্থানীয় বটতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

জসিমকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে ওই হত্যাকান্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য মেলে। একই সঙ্গে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির গোপন হেফাজতের তথ্য দেয়। তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে নিয়ে ২১ অক্টোবর বিকালে চন্দ্রগঞ্জ থানার চরচামিতা মিজি বাড়ির কাচারী ঘরের ভিটির নিচ থেকে বস্তা ভর্তি অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে অস্ত্র গুলো মিরন মেম্বার হত্যাকান্ডে ব্যবহারের কথা স্বীকার করে। হত্যাকান্ডে জসিম নিজে ও জনৈক লোকমান এবং সিএনজি চালক জামালসহ আরো ১ জন জড়িত ছিল বলে জানায়। তারা অপর ৫ জনের কাছ থেকে লোকমানের বাড়ির সামনে ওই অস্ত্রগুলো বুঝে নেয়। এর আগে গত ১১ অক্টোবর হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত নাম্বার বিহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও চালককে আটক করে পুলিশ।

জামাল তার নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। এছাড়াও এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইলিয়াছ কোবরা গত ১৪ অক্টোবরে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর গোলাগুলিতে নিহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার এ হত্যাকান্ডকে পরিকল্পিত একটি হত্যাকান্ড উল্লেখ করে স্থানীয় বিরোধের জের ধরে মিরনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান।

প্রসঙ্গত, সদর উপজেলার দত্তপাড়ার আলাদাদপুরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮ টায় ৪ জন মুখোশপরা অস্ত্রধারীরা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম মিরনকে গুলি করে হত্যা করে।

নিউটার্ন.কম/AR

0 Shares