Home » জাতীয় » লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ রোধে ভ্যাকসিন দিচ্ছে সরকার

লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ রোধে ভ্যাকসিন দিচ্ছে সরকার

গরু-মহিষের ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’-এ (ভাইরাসজনিত একটি চর্মরোগ) আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাণী চিকিৎসকরা। রোগটি প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে কৃষকের মধ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য দপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে গবাদিপশুতে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে এবারই প্রথম রোগটি ধরা পড়ে। এটি ১৯২৯ সালে সর্বপ্রথম আফ্রিকা মহাদেশের জাম্বিয়ায় দেখা যায়। এ রোগে প্রাপ্তবয়স্ক গরু-মহিষের চেয়ে অল্প বয়সের গরু-মহিষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রাণিস্বাস্থ্য প্রশাসন) ডা. আবু সুফিয়ান জানান, ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে চার লাখ ডোজ ভ্যাকসিন নামমাত্র মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সবগুলো আক্রান্ত এলাকায় এই কার্যক্রম বিস্তৃত হবে। তবে রোগটির সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। শুধু সচেতনতার মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। ইতোমধ্যে খামারিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোগের লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হয়। প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিপাইরেটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। নডিউল বা গুটি ফেটে গেলে এবং সেকেন্ডারি ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন দমন করার জন্য সিস্টেমিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়। এ ছাড়া ফেটে যাওয়া গুটিতে যেন মশা-মাছি বসতে না পারে সে জন্য ফ্লাই রিপিলেন্ট ব্যবহার করা যাবে। তবে রোগটি ২১ দিন পর এমনিতেই সেরে যায় বলে জানান তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা ডা.এনামুল কবির জানান, খামারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সুস্থ ও অসুস্থ গবাদিপশুকে একসঙ্গে রাখা যাবে না। আক্রান্ত পশুকে মশারির ভেতর রাখতে হবে।

জানা গেছে, ভাইরাসজনিত এ চর্মরোগ গরু-মহিষের চামড়ায় নডিউল বা গুটি তৈরি করে। রোগটির বাহক মশা, মাছি ও আঠালি। রোগটি আক্রান্ত প্রাণির লালা, নাক ও চোখ থেকে নির্গত পানি দ্বারা, আক্রান্ত ষাঁড়ের বীর্যের মাধ্যমে সুস্থ গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করালে এবং আক্রান্ত গরুর দুধ খেলে অথবা আক্রান্ত গরুর দুধের বাঁট চাটলে বাছুর আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া গবাদিপশু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গেলেও রোগটি ছড়ায়।

মৎস্য ভবন জানিয়েছে, খামারে কোনো পশু আক্রান্ত হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে এবং রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিউটার্ন.কম/RJ

15 Shares