Home » জাতীয় » সখীপুরের বৃদ্ধ রোস্তম আলী দম্পতির ভাগ্যে জোটেনি ভাতার কার্ড

সখীপুরের বৃদ্ধ রোস্তম আলী দম্পতির ভাগ্যে জোটেনি ভাতার কার্ড

আহমেদ সাজু( সখীপুর) টাঙ্গাইল :
চোখের কোণে জল তাদের। আঁচল আর গামছায় জল মুছে, আবার জমাট বাঁধে। বেঁচে থেকেও আজ মৃতের শামিল বৃদ্ধ রোস্তম আলী দম্পতির। বাবা-মায়ের কোনো খোঁজখবর নেয় না ছেলে-মেয়েরা। বৃদ্ধ রোস্তম আলীর বয়স ৮১ বছর। কথা বলার মতো শক্তিও তার নেই। দু’চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে অনেক আগেই। আর তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের বয়স ৬৫ বছর। বয়সের ভারে দু’জনই চলাফেরা করতে পারেন না। চলৎশক্তিহীন এই দম্পতির এই বয়সে এসে জোটেনি বয়স্ক ভাতা বা সরকারি কোনো অনুদান। বৃদ্ধ দম্পতির বাস টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের দাড়িপাকা গ্রামে।
সরেজমিন দেখা যায়, শরীরের চামড়া কুঁচ ধরে লেগে গেছে হাড়ের সঙ্গে রোস্তম আলীর। চোখ দিয়ে অবিরত পানি ঝরছে। এই প্রবীণ দম্পতি জীবন সায়াহ্নে এসে এক অন্য জীবনের মুখোমুখি হয়েছেন। করুণ আকুতি আর জলেভেজা চোখে তারা বলেন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের অনেকের কাছে আমরা ধরনা দিয়েছি। কিন্তু মিলছে শুধু বছরের পর বছর আশ্বাস ‘আগামীতে আসলে পাবেন’। এই আশ্বাসটুকু ছাড়া আর কিছুই পাননি তারা। তারা জানান, বয়স্ক ভাতা তো সোনার হরিণ। অসহায় জীবনযাপন করছেন তারা। তাদেরকে দেখার জন্য যেন কেউ নেই। তাই তাদের ভাগ্যে কার্ডও জোটে না। অর্ধাহারে-অনাহারে কাটছে তাদের দিনলিপি।
বৃদ্ধের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, তারা খুবই কষ্টে আছেন। তার ও তার স্বামীর শরীরে নানা রোগে বাসা বেঁধেছে। স্বামীকেও ওষুধ কিনে দিতে পারেন না। হাট-বাজারে গিয়ে সদাইপাতিও করতে পারেন না। কত দিন হল যে বৃদ্ধ স্বামীকে মাছ, গোস্ত, দুধ ও ডিম কিনে খাওয়াতে পারেন না তা তার মনে নেই।
এলাকাবাসী জানায়, মহিষের গাড়ি চালিয়ে আর কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন রোস্তম আলী। এখন বয়স হয়েছে। বয়সের ভারে ভাটা পড়েছে সব রোজগার। এখন অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে এই বৃদ্ধ দম্পতির। ৫ ছেলে-মেয়ের জনক-জননী হলেও বৃদ্ধ দম্পতিকে তারা দেখভাল করেন না। -মেয়েরা যার যার মতো সংসার পেতেছেন। জমিজমা বলতে ভিটেবাড়িটুকুই সম্বল।
এ বিষয়ে কালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন জাফর বলেন, ওই বৃদ্ধ দম্পতি আমার নজরে পড়ে নাই। তারা আমার কাছে আসেও নাই। এলে তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা আমি করব।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ বলেন, ‘তারা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য। এত দিন কেনইবা পেলেন না, এটি খুবই দুঃখজনক। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা তালিকা দিয়ে থাকেন; সে অনুযায়ী ভাতার কার্ড হয়। যেহেতু তারা দেয়নি আমি অবশ্যই তাদের বয়স্ক ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করব।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিত্রা শিকারী তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ভাতার ব্যবস্থা করে দিবে বলে জানিয়েছেন।r

0 Shares