Home » অর্থনীতি » সচল হচ্ছে প্রতিক্ষিত চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ট্রেন চলাচল

সচল হচ্ছে প্রতিক্ষিত চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ট্রেন চলাচল

 

নিউটার্ন ডেস্ক
নীলফামারীর সীমান্ত এলাকা চিলাহাটি থেকে আবারো রেল যোগাযোগ সচল হচ্ছে ভারতের হলদিবাড়ির সাথে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অংশে পরিত্যক্ত আট কিলোমিটার রেলপথে লাইন বসানোর উপযোগী করতে কাজ শুরু হয়েছে।

এরফলে বাংলাদেশ-ভারত রেলপথের এই রুটটি ৫৪ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর আবারো রেল সেবার সুফল পাবেন নীলফামারীর মানুষ।

সূত্র জানায়, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতার আগে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি দিয়ে সরাসরি কলকাতায় যোগাযোগ ছিল। দার্জিলিং মেইল নামে ট্রেনটি এই পথ দিয়ে দর্শনা হয়ে চলাচল করতো। দেশ ভাগের পর চিলাহাটি থেকে একটি মাত্র ট্রেন (পাসপোর্ট ট্রেন) হলদিবাড়ি হয়ে জলপাইগুড়ি হয়ে কলকাতা যাতায়াত করতো। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর একমাত্র ট্রেনটিরও চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার পর আর সচল হয়ে উঠেনি।
ইংল্যান্ডের রোনাল্ড ম্যাক ডোনাল স্টিভেনশন নামে একজন সিভিল প্রকৌশলী চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রেলপথ নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এ পথের গুরুত্ব ছিলো অনেক বেশি এবং চিলাহাটি ছিলো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা।

রেল বিভাগ সূত্র জানায়, চিলাহাটি থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশে আট দশমিক দশ (৮.১০) কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন, ব্রিজ নির্মাণ এবং চিলাহাটি রেলস্টেশনের আধুনিকায়নে ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয় ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক)। যা অনুমোদন দেন একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রকল্প অনুমোদনের পর রেললাইন স্থাপনের কাজ করছে ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত রেললাইনের উপর অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে স্থাপন কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আবু মুসা মাহমুদুল হক বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষিত চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ট্রেন চলাচলের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে আমাদের। রেল চলাচল শুরু হলে এই অঞ্চলের মানুষরা সরাসরি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেতে পারবে খবু সহজে।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মারুফ জামান কোয়েল বলেন, নীলফামারীবাসীর জন্য এটি খুশির খবর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টার ফলে এটি সচল হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে রেল চালু হওয়ার ফলে।

বিশেষ করে স্থল বন্দরটি চালু হলে এই অঞ্চলে শিল্পায়নের সম্প্রসারণ ঘটবে। সৈয়দপুর বিমান বন্দর, উত্তরা ইপিজেড সমৃদ্ধ আরো। গড়ে উঠবে শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে অনেক মানুষের। সেভেন সিস্টার খ্যাত অঞ্চলগুলোর সাথে যোগাযোগ সৃমদ্ধ হবে নীলফামারীর সাথে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ট্রেন যোগাযোগ পুন:স্থাপনের জন্য গৃহিত প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে বাংলাদেশ অংশের রেলপথে।

দ্রুত যাতে স্থলবন্দরটি চালু করা যায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রনালয়ের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং দ্রুতই আলোর মুখ দেখতে পারেন জেলাবাসী।

0 Shares