Home » জাতীয় » সাদা বুলেট – জামিমা ইসলাম
সাদা বুলেট - জামিমা ইসলাম

সাদা বুলেট – জামিমা ইসলাম

(পর্ব – ২)
(মনিমায়া সিরিজ গোয়েন্দা কাহিনি)

ফিরে এসে দেখলেন তার দেখা না পেয়ে ব্যস্ত হয়ে বারান্দায় বসে আছেন হেডমিস।তাকে দেখে বললেন,

“কে আপনি?”

“মনিমায়া।”

“তু…….”

“চুপ কর। আমি মা ফাতিহার সাথে এই বেশে দেখা করতে গিয়েছিলাম।”

“কি????????”

“হুঁ”

“বেশি শব্দ করিস না। আমি পোশাক পাল্টে আসি। তারপর তোকে সব বলছি।”

কিন্তু কাপড় পাল্টে এসে মনিমায়া যা শুনলেন, তারপর আর গল্প বলার সময় বা মুড কোনোটাই থাকল না। না, না, আমি কোনো আনন্দের খবরের কথা বলছি ন। আমি বলছি মৃত্যুর খবরের কথা। কিন্তু মৃত্যুটা হলো কার? কেনই বা সে মারা গেল? একি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি আত্মহত্যা, নাকি……….খুন? যদি আত্মহত্যা বা খুন হয় তোহলে তার রহস্য কি আদৌ সমাধান হবে, নাকি রহস্য থেকেই মাটিচাপা পড়বে শেষ পর্যন্ত? মনিমায়া কি বেড়ানোর মায়া ছেড়ে এই কেসে জড়াবে? নাকি নিতান্তই………… নাহ্ আর বেশি একসাথে না বলাই ভালো। নইলে গোয়েন্দা কহিনির মজা কি আর থাকে?

আরও পড়ুন :

প্রত্যেককে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে : মোস্তাফা জব্বার

করোনা : ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন আক্রান্ত ৬৯

মৃত্যুর খবর শুনে মনিমায়া আর হেডমিস ছুটে চলে গেলেন মিতুর ঘরের সামনে। দেখলেন সেখানে মিতুর লাশ পড়ে আছে। মনিমায়া বললেন,“ওর কি হয়েছে? দেখি তো।”

মনিমায়া বুঝতে পারলেন শ্বাস পড়ছে না। মাথায় গুলির চিহ্ন। একেবারে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। দেখতেও খুব নৃশংস।  বললেন,“আত্মহত্যা। বাম হাতে পিস্তল। কিন্তু ও এটা পেল কোথা থেকে?”

“মিতুর বাবার লাইসেন্স আছে। কিন্তু সেটা তো তালা দেয়া থাকে আলমারিতে। ও যে কিভাবে পেল কিছুই বুঝতে পারছি না।” হিমা কাদতে কাদতে বললেন।

কিন্তু সাইমানের মধ্যে এক ধরণের কাঠিন্য।

“মিতুল কেন আত্মহত্যা করল?”

“আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। ও কেন আত্মহত্যা করতে যাবে? কোনো কারণ তো আমার জানা নেই।” ভাঙা গলায় হিমা বললেন।

মনিমায়া সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলেন এর পেছনে কোনো রহস্য আছে। তাই এবার মনিমায়াকে খুঁজে বের করতে এর পেছনের সেই রহস্য। কিন্তু কিভাবে? এর কোনদিক দিয়ে শুরু করবে?

মনিমায়া ব্যাগ থেকে একটা আতোষ কাঁচ বের করে আনলেন। তারপর পুরো বডি সার্চ করে বললেন,“হুম!!! ওর হাতে পিস্তলের সাথে আরও একটা কাগজ আছে। কিন্তু লাশের অ্যালগর মর্টিস শুরু হচ্ছে। ভাগ্য ভালো পুরোটা হয়নি এখনো। মনিমায়া একটু টান দিতেই ওটা খুলে এল। মনিমায়া বললেন,“একটা আয়না হবে?”লেখাটা আসলে উল্টো করে লেখা। তাই আয়না দিয়ে দেখা যাবে। সেখানে দেখা গেল মিতুল লিখেছে –

“মিতুল কেন এটা লেখবে? কে ওর বিয়ে দিতে চায়?” মনিমায়া মনে মনে বললেন।

“আচ্ছা আপনারা কি জোর করে মিতুর বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন?”

“না-আ……….” হিমা বললেন।

“তাহলে ওর এটা লেখার মানে কি? সাইমান, আপনি?”

“শুনুন ম্যাডাম আপনাকে কেউ এর মধ্যে নাক গলাতে বলেনি। আপনি অতিথি, অতিথির মতো থাকবেন।”

“না, আপনি মনে হয় ভুলে যাচ্ছেন যে ক্রাইম কেসে নাক গলানোটাই আমার কাজ, অ্যাস আ ডিটেকটেভ। বরং আমার কাজে নাক না গলানোটাই আপনার দায়িত্ব।”

সাইমান কি বলবে বুঝতে পারলো না, তাই চুপ করে থাকল।

মনিমায়া তল্লাশি কন্টিনিউ করতে লাগলেন।

“মনিমায়া ম্যাডাম আপনি ওর কথা শুনে কিছু মনে করনে না। ও আসলে গোয়েন্দা দেখে অভ্যস্ত না। তাই…..”

হিমা আর কিছু বলতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু তার আগেই মনিমায়া ওনাকে থামিয়ে বললেন,“কিন্তু এই সমাজে বাস করতে হলে তো সবার সাথে মিলেমিশেই থাকতে হবে, তাই না?”

“মানে, আপনি শুধু কিছু মনে করবেন না। তাই বললাম।”

“ও!”

“আচ্ছা আর কিছু পেলি?” হেডমিস বললেন।

মনিমায়া বললেন,“নাহ্ এখনো কিছু পাইনি। তবে আরও খুঁজে দেখি। যদি কিছু পাই।”

মনিমায়া আরও ৫-১০ মিনিট খুঁজলেন। কিন্তু আর কিছু পাওয়া গেল না। তারপর মনিমায়া বললেন,“লাশের পোস্টমরটেম পরিক্ষা করতে হবে।”

“ম্যাডাম, আপনার ওপর আমার ভরসা আছে। আপনার য ভালো মনে হয় তাই করুন। ওকে নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।” হিমা বললেন।

মিতুর লাশ পাঠানো হলো কাছেই একটা হাসপাতালে ফরেইনসিক টেস্টের জন্য। ফলাফল আসবে ১দিন পর। মনিমায়াও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। সাইমানকে বললেন,

“আপনি কেন মা ফাতিহার মতো ভন্ড দরবেশের কাছে নিয়ে গেছিলেন?”

“ওর ওপর শয়তানের কু-নজর পড়েছিল তাই।”

“ইমু, সাইমান কত পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন যেন?”

হেডমিস বললেন।

“আপনি এতটা পর্যন্ত পড়াশোনা করার পরও এসরব বিশ্বাস করেন? ছিঃ”

মনিমায়া পরদিনই গিয়ে মা ফাতিহার সাথে দেখা করতে গেলেন।

আগেরবার যখন গিয়েছিলেন তখনই বুঝতে পেরেছিলেন মা ফাতিহা মানুষটি সুবিধার নন। আজকে ওনার ব্যাপারটা একটু ভালো করেই বুঝে এসেছেন। এরপর নেকস্ট যেতে হবে ওর স্কুলে। কিন্তু আজকের এই ধকলের পর আর যাবার শক্তি নেই। কালই যাবেন। হেডমিসকে আবার পুরোটা বলতে হবে। এবারের কেসটা দুজনে মিলেই সমাধান করতে হবে। কারণ হেডমিস সাইমানকে পড়িয়েছেন। তাই সাইমান হেডমিসকে সম্মান করেন। ওনাকে নির্দ্বিধায় যা বলতে পারবেন তা মনিমায়া তা জেরা করে বের করতে পারবেন না। তাই হেডমিসকে সব বললেন মনিমায়া।

0 Shares