Home » অর্থনীতি » সানোফির কর্মীরা,মালিকানা বদলের আগেই পাওনা বুঝে চায়

সানোফির কর্মীরা,মালিকানা বদলের আগেই পাওনা বুঝে চায়

 

ওষুধ খাতের আন্তর্জাতিক কোম্পানি সানোফি ব্যবসা গুটিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা মালিকানা হাতবদলের আগেই ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষতিপূরণ, কল্যাণ ফান্ডসহ অন্যান্য পাওনার বিষয়ে আলোচনায় বসতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে সানোফি বাংলাদেশ কর্মকর্তা কল্যাণ পরিষদ।

কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পরও সানোফির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের হাতে থাকা ৫৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে ক্রেতা খুঁজছে।

“এটা লোকসানের কারণে নয়; তাদের নিজস্ব ইচ্ছায় এই কাজটি হচ্ছে। তাই কোম্পানির কর্মীরা চাইছে, তাদের সব ধরনের পাওনা পরিশোধের পর যেন এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়।”

১৯৫৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত আছে প্যারিসভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সানোফি। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের ব্যবসা রয়েছে।

সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডের ৪৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের হাতে, বাকিটা সানোফির হাতে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে পরিচালিত এ কোম্পানিতে কর্মী সংখ্যা হাজারের বেশি।

সানোফি যে বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে চায়, সে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা চলছিল গত কয়েক মাস ধরেই। শেষ পর্যন্ত গত ১৬ অক্টোবর এক বিবৃতিতে সানোফি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

তাতে বলা হয়, “আমরা মনে করি, বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনা পুরোপুরিভাবে কাজে লাগানোর মত অবস্থানে সানোফি নেই। এ অবস্থার পরিবর্তনে সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডে থাকা আমাদের শেয়ার হস্তান্তরের জন্য অংশীদার খুঁজছি আমরা।”

সানোফি তাদের মালিকানা ছেড়ে দিলেও তাদের ওষুধ বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

এ বিষয়ে সানোফি বাংলাদেশ কর্মকর্তা কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার চক্রবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা গণমাধ্যমে কোম্পানির মালিকানা বা শেয়ার বিক্রির খবর শুনে আসছিলাম। কিন্তু কান্ট্রি চেয়ার রাম প্রসাদ ভাট বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ৫৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়।”

সঞ্জীব বলেন, “আমাদের পরিশ্রমের কারণে সানোফি গত ১০ বছর ধরে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছিল। এই পরিস্থিতিতে কোম্পানির মালিকানা হস্তান্তর করলে আমাদের চাকরি জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। তাই আমরা চাচ্ছি বর্তমান ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে সব ধরনের ক্ষতিপূরণ, কল্যাণফান্ড ও অন্যান্য ফান্ডের অর্থ বুঝে নিতে। তারপর যেন নতুন কোম্পানির কাছে এটা হস্তান্তর করা হয়।“

গত বছর আরেক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের বাংলাদেশ ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে লোকসান দেওয়ার পরও কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিদায় নিয়েছিল।

“অন্যদিকে বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা মালিকানা পরিবর্তনের পর পুরোনো কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা মালিকানা হস্তান্তরের আগে সম্পর্কের ইতি টানতে চাইছি।”

দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কর্মবিরতি পালন করছেন সানোফি বাংলাদেশের কর্মচারীরা। সেজন্য তাদের বিভিন্নভাবে ‘ভয়ভীতি’ দেখানো হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

ক্ষতিপূরণ ও পাওনা নিয়ে আলোচনার জন্য কর্তৃপক্ষ ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে ডাক্তারদের সঙ্গে ভিজিট বন্ধ রেখেছেন সানোফির রিপ্রেজেনটেটিভরা। তবে ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত আছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ আলোচনায় না বসলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা মানববন্ধনে দাঁড়াবেন।

কল্যাণ পরিষদের দাবির বিষয়ে সানোফি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুইন উদ্দিন মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তারা প্রতিদিনই বিভিন্ন কর্মী দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করছেন, তাদের আশ্বস্ত করছেন।

সানোফির মালিকানা হস্তান্তর করার মত সম্ভাব্য কোনো ক্রেতা পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা কেবল সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছেই আমাদের অভিপ্রায় প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সাধারণত এরকম ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে।”

সানোফি বাংলাদেশের কর্মীরা মালিকানা হাতবদল হওয়ার আগেই পাওনা বুঝে নিয়ে কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার আগ্রহ দেখাচ্ছেন, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মুইন উদ্দিন মজুমদার বলেন, “আমরা যদি আমাদের অংশীদারিত্ব বিক্রি করেও দিই, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সামগ্রিকভাবে কর্মীদের জন্য অন্ততপক্ষে ১২ মাসের চাকরি (সানোফির অংশীদারিত্ব শেষ হওয়ার পর) নিশ্চিত করার জন্য মধ্যস্ততা করা।

“এটি তখনই সম্ভব যখন আমাদের কর্মীরা তাদের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড বজায় রেখে ব্যবসায় স্বাভাবিকত্ব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে, যেন রোগীরা আমাদের ওষুধ এবং ভ্যাকসিন এর সরবরাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে পায়।”

নিউটার্ন.কম/AR

12 Shares