Home » প্রধান খবর » সিটি নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : ওবায়দুল কাদের

সিটি নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউটার্ন.কম : সিটি নির্বাচন সরকারের সম্পূর্ণ হস্তক্ষেপবিহীন ও নিরপেক্ষ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগে বিদেশে যাওয়ার সময় সরকারের সব সংস্থার প্রধানদের বলেছেন- এ নির্বাচনে আমি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ও বাড়াবাড়ি চাই না। কোনো এজেন্সি কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ যেন না করে। সেই ব্যাপারে ক্লিয়ার ম্যাসেজ দিয়েছেন।

রোববার দুপুরে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে মটরচালক লীগের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের সংশয় প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাজেই এখানে সংশয়ের কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনা বলেছেন- নির্বাচনে জনগণ যা চায় তাই হবে। এত কাজ করে জনগণ যদি ভোট না দেয়, জোরাজুরি, জবরদস্তি করে জনসমর্থন আদায় করে ক্ষমতায় থাকার কোনো ইচ্ছা তার নেই। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আমাদের পার্টিকেও একই মেসেজ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, ঘরে ঘরে যাও, জনগণ যাকে ভোট দেবে, সে-ই নির্বাচিত হবে। কাজেই আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করব না। এটা পরিষ্কার। আগেও বলেছি এখনও স্পষ্ট ভাবে বলেছি।

বিএনপির সমালোচনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, এ দল আন্দোলনেও ফেল, নির্বাচনেও ফেল। বিএনপি ফেলের মধ্যেই আছে। তাদের ভাগ্যে বিজয় কবে আসবে জানি না। নেতিবাচক রাজনীতির কারণে মানুষ আর তাদের সঙ্গে নেই। শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জন বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির ওপর সংকটের কালো ছায়া ফেলেছে। সেখান থেকে বিএনপির নিস্তার নেই।

তিনি বলেন, আসলে নির্বাচনে তাদের অবস্থা কী হবে সেটা তারা বুঝে গেছেন। বিজয়ী হতে পারবে না বলেই তারা আজকে বিভিন্ন ধরনের নালিশ করার পথ বেছে নিয়েছে। এ সময় বিএনপি যতই অপপ্রচারই করুক দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকেই চায়, আওয়ামী লীগকেই চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাকশাল নিয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে সংকটময় মুহূর্তে জাতির পিতা সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে একটা দল করেছিলেন। যার নাম হচ্ছে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’। সংক্ষেপে যাকে বাকশাল বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কৃষক শ্রমিক যুক্ত হয়েছে, এটাই অনেকের গাত্রদাহের কারণ। মওদুদ সাহেব আপনি কি ভুলে গেছেন, এ দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আপনার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সাহেবের নামটাও ছিল। ভুলে গেছেন, এটা কোনো একদলীয় ব্যবস্থা নয়। এটা ছিল জাতীয় দল কৃষক শ্রমিক মেহনতি ও শোষিত মানুষের পক্ষের একটা সুশৃঙ্খল জাতীয় দল। এটা ছিল একটা সাময়িক ব্যবস্থা। অপরাধ একটাই, কৃষক আর শ্রমিকের নাম ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে পুনর্বিন্যাস করেছিলেন, এটাই তাদের গাত্রদাহ। এটা আগেও ছিল, এখনও আছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অপরাজনীতির হোতা বিএনপি নামক অপশক্তি যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। এ অপশক্তি জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক। এ অপশক্তি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক। এরাই দেশে সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতির সূচনা করেছে। দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এ অপশক্তি যদি আবার ক্ষমতায় আসে দেশ আবারও অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। দেশে রক্তস্রোত বইয়ে দেবে। বিশ্বে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে চ্যাম্পিয়ন হবে। কাজেই এ দলকে আজকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রত্যাখ্যাত হয়ে ষড়যন্ত্র করছে, চক্রান্তের চোরাই পথ দিয়ে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে। এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, গাড়ি চালাতে গিয়ে বেপরোয়া হবেন না। বেপরোয়া হলে দুর্ঘটনা অনিবার্য। একটি গাড়ি দুর্ঘটনা হলে চালক বাঁচবে এর কোনো নিশ্চয়তা আছে? গরিব মানুষরাই বেশি গাড়ি চালায়, নিজের জীবনের কথা, পরিবারের কথা এবং আপনার গড়ির যাত্রী, সবার কথা ভাবতে হবে। আওয়ামী মটরচালক লীগ সভাপতি আলী হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, মটরচালক লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

নিউটার্ন.কম/এআর

0 Shares