Home » Uncategorized » সীমান্ত এলাকার বিলে বাড়ছে পাখি

সীমান্ত এলাকার বিলে বাড়ছে পাখি

 

এম এ রহিম-বেনাপোল: মৌসুমী বায়ুর পালাবদলে শীতের আগমনে বেনাপোল সীমান্তের পদ্মবিলসহ নাভারন ও চাতরের বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করেছে বগ-সরাইল,ডংকুর,কাসতেচুড়া,চড়ুইসহ দেশ বিদেশি হাজারও অতিথি পাখি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখির অভায়রন্যে আসছে মানুষ। উপভোগ করছে প্রাকৃতিক দৃষ্য। পাখির কিচির মিচির আওয়াজে মুখরিত এলাকা। মুগ্ধ হচ্ছে নানান স্থান থেকে আসা দর্শনাথীরা। শহর গ্রাম বন্দর এলাকা থেকে মনোরম দৃষ্য দেখতে ছুটে আসছে বিলের ধারে। এসব দেশি বিদেশি পাখি সন্ধ্যার আগেই আসে নীড়ে। খালে বিলে জলাশয়ে ও গাছে রাত কাটিয়ে প্রভাতে সূর্যের আলোর সাথে উড়ে যায় দূর গন্তব্যে। এসময় এক অর্ভতপূর্ব দৃষ্যের সৃষ্টি হয়। বেনাপোল চেকপোস্ট বাগ এ জান্নাত কাওমী মাদ্রাসার একাধিক গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে এসে বিকালে বসে হাজার হাজার পাখী। এসময় পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত হয় পুরো এলাকা।
তবে অনেক সবুজ বেষ্টনী বিনষ্ট সহ পাখির অভয়াশ্রম নষ্ট করা হয়েছে। পাখি শিখারীদের উৎপাতও থামেনি। এর মধ্যেই শীতের শুরুতেই আসে বিভিন্ন প্রকার পাখি।
কমে গেছে হাওড় বাওড় জলাশয়,বৃক্ষরাজি ও বিদেশি অতিথি পাখির সংখ্যা। বেনাপোলের চাতরের বিলের বিভিন্ন ভেড়ী এলাকায় এসময়ে আসছে হরেক রকমের পাখি। নাভারনে একটি হোটেলের সামনে ঝাঁকে ঝাঁকে বসছে হরেক রকম পাখি। সকাল -সন্ধ্যা পাখির কিচির মিচিরে মুগ্ধ দর্শনার্থীসহ এলাকা মানুষ। পাখির অভয়আশ্রমে দৃষ্টি নন্দন ও মনোরম দৃষ্য দেখতে গ্রাম ও শহর থেকে প্রতিদিন আসছে পাখি প্রেমী মানুষ। সন্ধায় ফিরছে নীড়ে সকালে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে উড়ে। মনমুগ্ধকর দৃশ্যে দেশে খুশি দর্শনাথীরা। স্থানীয় পাখিপ্রেমী বেনাপোলের একুব্বর রহমান ও আলী হোসেন বলেন পাখির সুমধুর আওয়াজ মুগ্ধ করে সবার। পাখির আওয়াজ হৃদয়কে করে বিমোহিত,সুরের মুর্ছনায় মুগ্ধ হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বার বার ছুটে আসি পাখির অভয়াশ্রমে। পাখিদের সাথে রয়েছে মানুষের অনাবিল সুরের ও ভাবের মিল। আলী হোসেন আরো বলেন, পাখির মাধ্যমে একদেশ থেকে আর দেশে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন বৃক্ষরাজি। আজ বিলীন হচ্ছে বন কমছে পরযায়ী পাখি হারাচ্ছে অভয়াশ্রম।সীমান্ত এলাকার নাসরিন সুলতানা রশ্মি বলেন, এক সময় কবুতর ছিল চিঠির বাহক-বিভিন্ন উৎসব আনুষ্ঠানিকতায় কবুতরের রয়েছে গুরুত্ব ও চাহিদা। আজ কবুতরের ন্যায় অনেক পাখির দেখা মেলেনা। এ প্রজন্ম চেনে না অনেক পাখি। তাই গাছ লাগাই পরিবেশ বাঁচাই পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তুলি এ লক্ষে কাজ করছে বিভিন্ন এনজিও সংগঠন। বন ও পাখি নিধন রোধে সবাইকে এগিয় আসা দরকার বলে জানান তারা।
মঈনুল হক ও রাসেল আলী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমেছে গাছ ও জলাশয়। সীমান্ত এলাকায় দু দেশের বিজিবি বিএসএফ সজাগ থাকায় পাখি শিকারি কমেছে। তবে কেটে ফেলা হয়েছে অনেক গাছ। প্রকৃতি রক্ষায়ও পাখির রয়েছে অনেকগুন। সীমান্ত এলকার বিভিন্ন জলাশয়ও গাছে বৃক্ষ রাজির নীড়ে পাখির কিচির মিচিরে মুগ্ধ হচ্ছে দর্শনার্থী ও পাখি প্রেমী মানুষ। পাখি দেখতে বাড়ছে মানুষের ভীড়। বৃক্ষ ও পাখি সংরক্ষণে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।
গাছ ও জলাশয় কমলেও বেড়েছে পাখি শিকারি ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে বিদেশি অতিথি পাখি। পাখির আবাসন ও রক্ষাবেক্ষণে প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর সহ সবাইকে এগিয়ে আসার দাবি জানান সচেতন নাগরিকরা
স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনেকস্থানে নিররপদ পরিবেশে পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠেছে। পাখি ও বন নিধনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ সহ পাখি সু রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।

0 Shares